শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

সিলেটে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও জিতল বাংলাদেশ। গতকাল সিলেটে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে বিশাল জয় পায় টাইগাররা। ফলে ২-১ ব্যাধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। টেস্টের মতো মিরপুরেই ওয়ানডে সিরিজ জয়ের উৎসব করতে পারত ক্রিকেট দল। প্রথম ওয়ানডে জিতে সে কাজটি এগিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে টাইগারদের হারিয়ে সিরিজ সমতা আনে সফরকারীরা। ফলে সিরিজ জয়ের জন্য সিলেটের অভিষেক ম্যাচটার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। আর সিলেট ভেন্যূতে ওয়ানডে ক্রিকেটেরে অভিষেক ম্যাচে সিরিজ জিতে অভিষেকটা আরো রাঙ্গিতে তুলল টাইগাররা। প্রথম দু-ম্যাচে একটি করে জয় পাওয়ায় শেষ ম্যাচটা জিতে দু-দলের সামনেই সুযোগ ছিল সিরিজ জয় করার। ফাইনালে রূর নেয়া শেষ ম্যাটটি নিয়ে দু-দলই ছিল কঠিন অবস্থানে। কিন্তু শেষ ম্যাচে টাইগারদের সামনে দাড়াতেই পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটে-বলে একচাটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে করেছিল ১৯৮ রান। জয়ের জন্য ১৯৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংরাদেশ মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে ম্যাচ জিতে ৮ উইকেটে।  মেহেদী হাসান মিরাজ ম্যান অব দ্য ম্যাচ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপস হন ম্যান অব দ্যা সিরিজ।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ১৯৯ রানের টার্গেটটা সহজই ছিল। আর এই সহজ টার্গেটটা আরো সহজ করেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতেছে টাইগাররা। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছে মাত্র ৩৮.৩ ওভার। আর ৬৯ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে ২০২ রান করে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ওপেনার তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকারই দলকে বড় জয়ের সুযোগ করে দেন। তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে লিটন কুমার দাস ২৩ রান করে আউট হলে দলীয় ৪৫ রানে প্রথম উইবেট হারায় বাংলাদেশ। তবে ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে তামিমের সাথে জুটি করে সৌম্য সরকার দলকে ১৭৬ রানে পৌছে দিয়ে আউট হন। এই জুটির ১৩১ রানের উপর নির্ভর করেই বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮০ রান করেন সৌম্য সরকার। পল এর বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন সৌম্য। ৮১ বলে ৫ চার আর ৫ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ৮০ রানের ইনিংসটি। সৌম্য আউট হওয়ার পর মুশফিককে নিয়ে জয়ের বাকী কাজ সারেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিম ইকবাল ৮১ রানে আর  মুশফিক ১৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন। ১০৯ বলে ১৫ চারে ৮১ রান করেন তামিম। এরআগে, টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে শাই হোপের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলকে জয় এনে দেয়া হোপ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে সেঞ্চুরি করেও দলকে জিতাতে পারেননি। ফলে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজ জয় করেছে টাইগাররা। সিলেটে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে দুইশত রানের আগেই ইনিংস শেষ হয় দলটির। তবে একদিকে একের পর উইকেট পড়লেও ক্রিজের অন্যপ্রান্তে একাই টিকে ছিলেন শাই হোপ। আর ১৩১ বলে সেঞ্চুরিসহ ১০৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১২১ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে সাজানো ছিল তার ১০৮ রানের ইনিংসটি। কিন্তু তার ধারেকাছেও রান করতে পারেননি অন্য ব্যাটসম্যানরা। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান আসে মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাটে। এছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন মাত্র দুইজন। এর মধ্যে ড্যারেন ব্রাভো ১০ রান ও কিমো পল ১২ রান। ব্যাট করতে নেমেই মিরাজের বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ১৫ রানে প্রথম উইকেট হারানো দলটি দলীয় ৯৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে।  চার ব্যাটসম্যানই শিকার করেন করেন মিরাজ। চন্দরপল হেমরাজ, ড্যারেন ব্রাভো, শিমরন  হেটমায়ার ও রোভম্যান পাওয়েলের উইকেট নেন মিরাজ। ১০ ওভারে ১ মেডেনসহ ২৯ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা পারফর্ম করেন তিনি। পুরস্কার হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারও পান তিনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৪২ রানের সেরা জুটিটি ছিল ব্রাভো ও হোপের। স্যামুয়েলসের সঙ্গে হোপের ৩৯ রানের জুটি ছিল দ্বিতীয় সেরা। শেষ জুটিতে ছয় মেরে টানা দ্বিতীয় ইনিংসে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান হোপ। দেবেন্দ্র বিশু ও তিনি শেষ উইকেটে ২১ রান যোগ করেন। অধিনায়ক মাশরাফি শেষ স্পেলে টানা দুই ওভারে নেন দুটি উইকেট। ১২ রানে পলকে বোল্ড করার পর পরের ওভারে ৩ রানে রোচকে এলবি আউট করেন অধিনায়ক। দুটি উইকেট পান সাকিব আল হাসানও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ওয়েস্ট ইন্ডিজ—-১৯৮/৯ (৫০ ওভার)
বাংলাদেশ——২০২/২ (৩৮.৩ ওভার)
বাংলাদেশ ৮ উইেেকটে জয়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ