বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

আদর্শহীন সেক্যুলার ও রোবটিক বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা বাড়ছে

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী

স্টাফ রিপোর্টার : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যেসব বুদ্ধিজীবীরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন তারা ছিলেন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ করতে রাজি হননি বলেই তাদের এই নির্মম পরিণতির শিকার হতে হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন দেশের জন্য জীবন দেয়া গর্বের। জাতি তাদের এই আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। বাংলাদেশর ইতিহাসে তারা উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে। এ দেশের মানুষ আজীবন এ সব শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে একশ্রেণীর আদর্শহীন সেক্যুলার ও রোবটিক বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা বাড়ছে। তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে দলীয় লেজুরবৃত্তিক হয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে কাজ করছে। সত্য কথা না বলে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। জাতিকে তারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত। দেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে তাদের এ সব কর্মকান্ড পরিহার করার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন। বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বাসির জামাল প্রমুখ।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা যে লক্ষ্যে জীবন দিয়েছিলেন স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও আমরা তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারিনি। যে অসমতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন তাদের স্বপ্নের স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আমরা এখনো বাকস্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছি। এ ঘটনা তাদের জন্য খুব অবমাননাকর, অসম্মানের। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায় বিচার, আইনের শাসনে বাস্তবায়নের করতে পারলেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন বাস্তবায় হবে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, যেসব বুদ্ধিজীবীরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন তারা ছিলেন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো কাজ করতে রাজি হননি বলেই তাদের এই নির্মম পরিণতির শিকার হতে হয়েছে। তাদের সেই আত্মত্যাগের মূল্য দিতে হবে- দেশকে গণতন্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে এনে। 
এম এ আজিজ বলেন, মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ যুদ্ধের মুখে পাকবাহিনী যখন পর্যদুস্ত সেই সময় কারা দেশের সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করলো তার কোনো সঠিক জবাব পাওয়া যায়নি। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের তালিকা করারও দাবি জানান তিনি।
আবদুল হাই শিকদার বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন দেশের জন্য জীবন দেয়া গর্বের। জাতি তাদের এই আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে তারা উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে। এ দেশের মানুষ আজীবন এসব শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে একশ্রেণীর আদর্শহীন সেক্যুলার ও রোবটিক বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা বাড়ছে। তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে দলীয় লেজুরবৃত্তিক হয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে কাজ করছে। সত্য কথা না বলে তারা প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। জাতিকে তারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত। দেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে তাদের এ সব কর্মকান্ড পরিহার করতে হবে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন আমরা আজও বাস্তবায়ন করতে পারিনি। স্বাধীনতাত্তর নিখোঁজ জহির রায়হানের সন্ধান আজও জাতি জানতে পারেনি। এর ধারাবাহিকতায় এখনো দেশের মানুষ নিখোঁজ ও গুম হচ্ছে। এর একটি সমাধান হওয়া দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ