বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে বুলবুলের জনপ্রিয়তা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা : আসন্ন জাতীয় সংসদ সদস্য পদের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল ইসলাম বুলবুলের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় উজ্জীবিত সাধারণ ভোটাররা। তিনি আপেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও গ্রামাঞ্চলে জামায়াতের বিপুল জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে র্দীর্ঘদিন ধরেই এখানে জামায়াত নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রথম এমপি নির্বাচন এবং পরবর্তীকালে নবাবগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে জামায়াতের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে এসেছেন। বর্তমান সরকারের প্রবল নির্যাতন-নিপীড়নের মুখেও নবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ) পদে জামায়াতের প্রার্থীগণ বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই জনভিত্তিকে সামনে রেখেই তারা এখানে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছেন। 
এই নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল ছাত্র ও রাজনৈতিক জীবনে বরাবর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসার ফলে তিনি বিপুলভাবে জনপ্রিয় বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। জানা যায়, তিনি ১৯৮৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কলেজের নির্বাচিত ভিপি এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ‘রাকসু’ নির্বাচনে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে নির্বাচিত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের পর্যায়ক্রমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি, চাঁপাই শহর শাখার সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, রাজশাহী মহানগরী সভাপতি, কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক, কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক, সেক্রেটারি জেনারেল এবং পরে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রয়েছে, গুলশান থানা আমীর, ঢাকা মহানগরী সহকারী  সেক্রেটারি ও প্রচার সেক্রেটারি এবং ঢাকা  মহানগরী সেক্রেটারি। বর্তমানে তিনি ঢাকা  মহানগরী দক্ষিণ শাখার আমীর এবং জামায়াতের  কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে  সমাজের কল্যাণে প্রভূত ভূমিকা রেখে চলেছেন বলে জানা গেছে। এসব দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে সরকারের প্রবল নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং কারাবন্দীও হতে হয়। ১৯৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক  সরকারের দাবীতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ২০০০ সালে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল থাকাকালীন সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠনে ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছাত্রঐক্যের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছরপূর্তির শেষ দিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তরগেটে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তদানীন্তন বিরোধীদল আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা করে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬ জন ও মহিলা ১ লাখ ৯০ হাজার ৯০৬ জন। ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি। এই আসনের প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি’র হারুনুর রশিদ (ধানের শীষ), আওয়ামী লীগের আবদুল ওদুদ (নৌকা), স্বতন্ত্র নুরুল ইসলাম বুলবুল (আপেল), বিএনএফের কামরুজ্জামান খান (টেলিভিশন), ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল কাদের (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির বাবলু হোসেনকে (গোলাপফুল)। শেষ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে এই আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুলের আপেল প্রতীকের সঙ্গে আ’লীগের নৌকার প্রার্র্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ