বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

কৃত্তিম পরিবহন সংকট ঘটিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাত্রীদের

স্টাফ রিপোর্টার: টানা তিনদিন ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ। ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। টানা ছুটিতে চাকরিজীবীদের মাঝে ঈদের আমেজ বিরাজ করছে। শুক্র-শনিবার সরকারি ছুটি এবং রোববার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস। এ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি অনেকেই। তাই শীতের পিঠা-পুলি খেতে ও স্বজনদের সাথে দেখা করতে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। এদিকে যাত্রীদের বাড়তি চাপ দেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্তিম পরিবহন সংকট ঘটিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন  যাত্রীরা।
গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলি, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী বাস টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সেই সাথে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গত বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে বিকেল, সন্ধ্যা বা রাতে যারা যেতে পারেননি তারা ভোরেই চলে এসেছেন বাসস্ট্যান্ডে। কিন্তু ভোরে এসেও পড়েছেন বিপদে! যাত্রীদের বাড়তি চাপ দেখে দূরপাল্লার বাসের কৃত্রিম সঙ্কট ঘটিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও, সে তুলনায় বাসের সংখ্যা ছিলো কম। ফলে বেকায়দায় পড়তে হয় যাত্রীদের। বিভিন্ন গন্তব্য যাওয়ার ভাড়ার ব্যাপারে কয়েকজন যাত্রী সাথে কথা হয়। তারা বলেন, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুরের ভাড়া ৩০০ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। কাউন্টার থেকে যাত্রীদের বলা হচ্ছে, এই ভাড়ায় যদি যেতে চান তাহলে টিকিট নেন। না গেলে অন্যদিকে দেখেন। একটু পর আর গাড়ি পাবেন না, তখন ৫০০ টাকা লাগবে। মহাখালীর প্রত্যেক কাউন্টরের অবস্থা একই। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। ক্ষেত্রবিশেষ বাসে অন্যান্য দিন ৩০০ টাকা নেয়া হলেও আজ হাঁকা হচ্ছে ৫০০ টাকা।
জানা যায়, ঢাকার প্রবেশমুখ গাজীপুর থেকে শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল এলাকার কোনো বাস ঢাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কারণ হিসেবে যানজটের কথা বলা হলেও সকাল পর্যন্ত এ রাস্তায় যানজটের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে গাজীপুর চৌরাস্তাতেও যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। আর সেখান থেকেই ঢাকার সমপরিমাণ ভাড়া নেয়া হচ্ছে, সুযোগ বুঝে আরও বেশিও আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার কারণে ঢাকায় প্রবেশ না করে বাসগুলো গাজীপুর থেকেই ঘুরে যাচ্ছে।
কাউন্টার মাস্টারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তায় জ্যাম, গাড়ি নেই। এ ছাড়া গাজীপুর থেকে সব গাড়ি ঘুরে যাচ্ছে। ভাড়া কেন বেশি নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে চাননি তারা। একাধিকবার জিজ্ঞাসার জানান অল্প কিছু বেশি নেয়া হচ্ছে।
আমিনুল নামের এক যাত্রী বলেন, শেরপুর যেতে অন্যদিন ৩০০ নিলেও আজ ৪০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। তাও বলা হচ্ছে গাড়ি নেই। কী করবো বাধ্য হয়েই টিকিট নিলাম। এদের নৈরাজ্য দেখার কেউ নেই। একই রুটের যাত্রী এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, তার বাড়ি যশোর, হঠাৎ প্রয়োজনে শেরপুর যাচ্ছি। ঈদের মধ্য জানি যাত্রীদের জিম্মি করে পরিবহন মালিকরা পকেট কাটেন। এখন দেখছি সুযোগ পেলেই তারা পকেট কাটেন। অবস্থা ভালো না (পরে টিকিট না পাওয়ার ভয়) দেখে পরিচয় গোপন রেখেই টিকিট কেটেছেন বলে জানান তিনি।
আরেক যাত্রী ইমতিয়াজ বলেন, কী করবো ভাই? জানি তারা চিটিং করছে। আমরা তো তাদের কাছে জিম্মি। দেখেন রোডে তেমন জ্যাম নেই, তাও বলা হচ্ছে জ্যামের জন্য গাড়ি নেই। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। ভোরে টার্মিনালে এসে তামান্না ইসলাম সকাল ৮টা পর্যন্ত কাঙ্খিত বাসে উঠতে পারেননি তিনি। ক্ষোভ নিয়ে বলেন, দেশটা কবে যে ভালো হবে? এভাবে ভোগান্তি দেয়ার কোনো মানে হয় না। দেখারও যেন কেউ নেই। এনা পরিবহনের যাত্রী আল আমিন বলেন, এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেছি। এখন গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। বলা হচ্ছে গাড়ি আসছে, কখন আসে কে জানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ