বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

খুলনার ৬টি আসনে আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ

খুলনা অফিস : খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছোট্ট ঘর থেকে শুরু করে সর্বমহলে প্রার্থীদের সমালোচনায় ব্যস্ত সব শ্রেণির ভোটারগণ। বিগত সময়ে যারা জনসাধারণের পাশে ছিলেন তাদেরকে মূল্যায়নের ব্যাপারে ভোটারগণ খোলামেলা বলাবলি করছেন। অনেক ভোটার বলছেন নির্বাচন আসলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীদের পদচারণা। আর ভোট ফুরিয়ে গেলে ভোটারগণ নির্বাচিত প্রার্থীদের দ্বারে গিয়েও সাক্ষাৎতো দূরের কথা, এমনকি তাদের চাওয়া পাওয়ার বিষয়টি পর্যন্ত বলতে পারেন না। তার কারণ প্রার্থীদের সাক্ষাৎ পাওয়া তখন দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। গত কয়েকদিন খুলনা মহানগরীসহ জেলার ৬টি আসনে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বহু পেশার মানুষের সাথে আলাপ আলোচনা করে এমন তথ্য মেলে। অপরদিকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরছে। অপরদিকে, ভোটারসহ সাধারণ মানুষ প্রার্থীদের ভালো-মন্দ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণও করতে শুরু করেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা খুলনা। বহু প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবে পরিণত হয়েছে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের মেঠো পথ। তবে কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্কও রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। দুপুর ২টার পর থেকে নির্বাচনী এলাকার পাড়া-মহল্লায় চলে মাইকিং। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতীক নৌকা ও ধানের শীষের প্রচারণায় মুখর অলিগলি। দলীয় নেতাকর্মীরা রাস্তার অলিতে-গলিতে পোস্টার সাঁটিয়েছেন। সব জায়গাতেই বইছে নির্বাচনী আমেজ।

সর্বত্র নির্বাচনী আলোচনা। নেতাকর্মীরা ও আশপাশের এলাকা সরগরম করে রাখেন দারুণ এক আবেগের প্রচারণায়। ভোট চেয়ে মাইকিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে আবেকময়ী কণ্ঠে গাওয়া গানে সাধারণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে প্রার্থীদের পক্ষে।

খুলনার ৬টি আসনের ৩৫ প্রার্থীর পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা জোরেশোরে প্রচারণা করেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী নিজেই। 

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পঞ্চানন বিশ্বাস (নৌকা), বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় (লাঙ্গল), ইসলামী আনন্দোলন বাংলাদেশ’র মাওলানা আবু সাইদ (হাতপাখা) ও কমিউনিস্ট পার্টির অশোক কুমার সরকার (কাস্তে)। যশোর-১ আসন বেনাপোল পৌরসভা ও শার্শা থানা নিয়ে গঠিত। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি পঞ্চানন বিশ্বাসের সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমীর এজাজ খানের মধ্যে লড়াই হবে। এই আসনে পঞ্চানন বিশ্বাস ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচনী এলাকায় যা করেছেন তা নিয়ে চলছে চুল চেরা বিশ্লেষণ। তারপরও শেষ পর্যন্ত হয়ত নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। 

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুস্পুত্র শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল (নৌকা), বিএনপির মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), ইসলামী আনন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা), গণফ্রন্ট’র মনিরা বেগম (মাছ), জাকের পার্টির কে এম ইদ্রিস আলী বিল্টু (গোলাপ ফুল), কমিউনিস্ট পার্টি’র এইচ এম শাহাদত (কাস্তে) এবং বি এনএফ’র এস এম সোহাগ (টেলিভিশন)। এই আসনে আওয়ামী লীগের জুয়েলের এর সাথে মঞ্জু’র লড়াই হবে । 

খুলনা-৩ (দৌলতপুর-খালিশপুর-খানজাহান আলী) আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান (নৌকা), বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মিল হক (হাতপাখা), জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের জনার্দন দত্ত (মই)। এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সাথে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি’র নেতা রকিবুল ইসলাম বকুলের হবে লড়াই। এই আসনের সাধারণ ভোটারগণ মনে করেন এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রকিবুল ইসলাম বকুলকে ঠেকাতে কঠিন হবে। তার কারণ মন্নুজান সুফিয়ানের ব্যাপারে এলাকায় ভিন্নমত রয়েছে অনেকের মধ্যে।

খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মুর্শেদী (নৌকা), বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল (ধানের শীষ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেএম আলী দাদ (কোদাল), বিএনএফের মেজর (অব.) শেখ হাবিবুর রহমান (টেলিভিশন), ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আহমেদ শেখ (হাতপাখা) ও জাকের পার্টির আনসার আলী (গোলাপ ফুল)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আব্দুস সালাম মুর্শিদী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেতা আজিজুল বারী হেলালের সাথে প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। এই আসনের প্রয়াত বর্তমান এমপি সালাম মুশির্দী উপ-নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হন। এখানের এমপি এসএম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে এ আসনটি শূণ্য হলে সালাম মুর্শিদী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। এখানের সাবেক এমপিদের যে ভুলত্রুটি করেছেন সেগুলো ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। হেলালের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাধারণ ভোটারগণ মনে করে।

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে আওয়ামী লীগের ডুমুরিয়া উপজেলার নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (নৌকা), জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার (ধানের শীষ), সিপিবির চিত্তরঞ্জন গোলদার (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ আলম (লাঙ্গল)। এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এবারও প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি ও মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। তার প্রতিন্দ্বী হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাথে লড়ছেন। এই আসনে নারায়ন চন্দ্র চন্দের ব্যাপারে নানা কথা থাকলেও মিয়া গোলাম পরওয়ারের ব্যাপারে তেমন কোনো সমালোচনা নেই। তবে এই আসনে সুষ্ঠু ভোট হলে এবার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাধারণ ভোটারগণ মনে করেন।

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবু (নৌকা), জামায়াতের মহানগরী আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের গাজী নূর আহমেদ (হাতপাখা), জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন (গোলাপ ফুল), কমিউনিস্ট পার্টির সুবাস চন্দ্র সাহা (কাস্তে) ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির মির্জা গোলাম আজম (টেলিভিশন)। এই আসনে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ মো. আখতারুজ্জামান বাবু’র সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত বিএনপি মনোনীত জামায়াতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মধ্যে হবে ভোটের যুদ্ধ। দু’জনকে নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। মাওলানা আজাদকে এলাকাবাসী বলছে বিপদের বন্ধু অপরজনকে বলছে আওয়ামী লীগের নেতা। সব মিলিয়ে এই আসনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সর্বশেষ কে জয়ের মালা পড়বে তার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 

গ্লোবাল খুলনার আহ্বায়ক শাহ মামুনুর রহমান তুহিন বলেন, আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে দুঃখজনকভাবে কিছু কিছু জায়গায় হামলার ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবুও জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। প্রার্থী ও সমর্থকরা যাতে সুন্দরভাবে প্রচারণা চালাতে পারেন এবং অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে যাতে ভোটাররা ভোট দিতে পারেন সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে প্রার্থীদের গণসংযোগে খুলনা মহানগরীসহ পল্লীর জনপদও সরব হয়ে উঠেছে। খুলনা-২ আসনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তিনি আন্দিরঘাট থেকে শুরু করে রায়েরমহল, বয়রা বাজারসহ গোটা এলাকা নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি খুলনা মহানগরীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সী মাহ্বুব আলম সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীসহ তাদের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে।’ অপরদিকে খুলনা-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পূর্ব বানিয়াখামার ডি আলী স্কুলের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। সেখান থেকে বি কে রায় রোড, চৌধুরী গলি, ব্যাংকার্স গলি ও মতলেবের মোড় এলাকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে গিয়ে ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ও তাদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দিয়ে ভোট চান। এরপর নগরীর ডাকবাংলা মোড়, সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, এস এম এ রব শপিং কমপ্লেক্স, ডাকবাংলা সুপার মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ধানের শীষের পোস্টার টাঙানোর সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের মারপিট করা হচ্ছে এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পুলিশ হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। খুলনা মহানগরীর সিটি কলেজ ও রয়েলের মোড় এলাকায় ধানের শীষের পোস্টার দড়িতে টানানোর সময় বিএনপি কর্মী মো. শফিউদ্দিন ও ডা. নুর উদ্দিনকে মারপিট করে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে ছাত্রলীগ নেতা দেব দুলাল বাড়ৈ বাপ্পীর ভাই সজল বাড়ৈ। মঙ্গলবার রাতের এ ঘটনায় রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খুলনা-২ আসন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বিএনপির মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি অভিযোগ করেন, ওই একই রাতে রূপসা মোড়, টিবি ক্রস রোড ও হাজী মহসিন রোড এলাকায় টানানো ধানের শীষের পোস্টার অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা ছিঁড়ে ফেলে। তিনি এসব ঘটনার তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অপর এক লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির ৬-১৪ ধারা লংঘন করে স্থানীয় দৈনিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ জুয়েলের পক্ষে বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। যা বিধিমালার ১৮ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এর আগে বুধবার নগরীর খালিশপুরে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হকের নির্বাচনী প্রচারণা এবং রোববার রূপসায় খুলনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের সমাবেশস্থলে হামলার ঘটনা ঘটে। উল্লিখিত দু’টি ঘটনায় বৃহস্পতিবার আলাদা সাংবাদিক সম্মেলন করে তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করা হয়।

এদিকে খুলনা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাবুর কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং বাড়ির মহিলাদের উপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ করে পাইগাছা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এডভোকেট লিয়াকত আলী। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাবুর কর্মী সমর্থকরা ধানের শীষের ইউনিয়ন অফিসের বাড়ির মালিকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান মুনছুর আলী গাজী ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক আব্দুল কাদেরের বাড়ি গিয়ে খোঁজ করেন। এ সময় তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানোর ভয় দেখায়। উপজেলার ১নং হরিঢালী ইউনিয়ন, সোলাদানা ইউনিয়ন, চাঁদখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। অন্যদিকে কয়রা উপজেলার অন্তাবুনিয়া এলাকার ধানের শীষের কর্মী আছাদুল ও আব্দুর রহমান সানাকে মারপিট করে এবং ঘড়িলাল বাজারের কয়েকজন ধানের শীষের কর্মী আবু সাইদকে পোস্টার লাগানোর সময় মারপিট ও গালিগালাজ করে। এছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে বিএনপির অভিযোগ : নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নগরীতে চলাচলরত ইজিবাইকে নৌকা মার্কার স্টিকার লাগানো এবং বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় হতে ডাকবাংলোর মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে লাইট পোস্টে নৌকা মার্কার প্ল্যাকার্ড লাগানোর পৃথক দুই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে। বৃহস্পতিবার এ দুই অভিযোগ দাখিল করেন খুলনা-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি এ দুই অভিযোগের তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

এদিকে সন্ধ্যায় টি বি ক্রস রোড এলাকার ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী রবিউল ইসলাম পোস্টার টাঙানোর সময় আওয়ামী যুবলীগ ক্যাডার আব্দুর রব তাকে বেদম মারপিট করে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এ ঘটনায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ