রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতংক ॥ নেত্রকোণায় বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার

দিলওয়ার খান : জেলাসদরসহ  বিভিন্ন উপজেলা নেত্রকোণা পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পনের নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তাদেরকে পুলিশ  আদালতে প্রেরণ করেছে। এতে করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে আবারও গ্রেফতার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
 বিএনপির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা ও গ্রেফতার করা হবে না। এর পরও পুলিশ প্রতিনিয়তই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। প্রতিক বরাদ্দে আগের দিন হঠাৎ করে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল মোতালিব তালুকদার, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ্ জালাল, মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ, জেলা যুবদল নেতা দিদার লস্কর ও পৌর কৃষক দলের সভাপতি মো. শান্তু মিয়াসহ সোহাগ মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, বাবুল মিয়া, শাহীন আলম সাকী, ডাঃ বাবুল গ্রেফতার করে। এতে করে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দিন খান জানান মামলার আসামী ও অভিযুক্তদেরকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়।
নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বিএপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. আনোয়ারুল হক বলেন, প্রতিক বরাদ্দের পরপরই দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশী চালিয়ে গ্রেফতার করছে।  যাতে নির্বিঘেœ নির্বাচনী কাজ না করতে পারে সে জন্য পুলিশ মিথ্যে অভিযোগে  আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে হয়রানি করছে। অনেক নেতা-কর্মী গ্রেফতার আতংকে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, বিএনপি কর্মী ফারুক মিয়া, যুবলীগ ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শাজাহান কবীরের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। সোমবার সন্ধ্যায় ফারুক মাকরাইল বাজারে আসলে শাজাহান, হারুন, কিতাব আলী, রফিকুলের মধ্যে ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মারামারিতে ৪ জন আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার রাতেই রফিকুল ইসলাম, শাজাহান ও মো. কিতাব আলী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জেলা বিএনপি‘র ভাইস প্রেসিডেন্ট ঈমাম হাসান আবুচান, উপজেলা বিএনপি‘র সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান ও তাঁর পুত্র দুর্জয় কে গ্রেফতার করে রাতেই নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রেরণ করা হয়।
এ ব্যাপরে উপজেলা আ‘লীগ সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, বিএনপি‘র কর্মীরা আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা সহ মাকরাইল বাজারে দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করেছে, আমরা এর দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবী করছি। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি মো. জহিরুল আলম ভুইয়া বলেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা শুনেছি, তবে এতে আমাদের কোন নেতাকর্মী জড়িত ছিলনা, আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফখরুজ্জামান জুয়েল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ