সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিএনপি জামায়াতের ৩২ নেতাকর্মীসহ আটক ৭৭ জন

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের পোষ্টার ছিড়ে ফেলা, দলীয় নেতাকর্মীদের মারপিট, বাড়িতে হামলা ও হুমকি-ধামকির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে মাঠে নেমেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের নের্তৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শ্যামনগরে সাবেক এমপি গোলাম রেজার কুলা প্রতিকের একজনকে লাঠি-শোঠাসহ আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন। এদিকে জেলাতে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
শ্যামনগরে ধানের শীষ প্রতীকের পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপি ও জামায়াতের দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে কৃষকলীগ ও যুবলীগের দুই নেতার নেতৃত্বে উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়ন এসব ঘটনা ঘটে। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা এমন অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।
এদিকে নিজেদের ওপর হামলার শংকায় থাকা অভিযোগকারীরা নিজেদের নাম পরিচয় সংবাদ মাধ্যমে না জানাতে অনুরোধ করেছেন। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সব অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে এসএম সানাউল্লাহর (০১৭১৫৪৪৮৪২৩) নেতৃত্বে ১০/১২ জন কাশিমাড়ী বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় রাস্তার ওপর দিয়ে টানিয়ে দেয়া ধানের শীষ প্রতীকের পোষ্টার নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ ছাড়া বাজারের বিভিন্ন দোকান ও গাছের গায়ে লাগানো পোষ্টারও উঠিয়ে ফেলে তারা। সানাউল্লাহ কাশিমাড়ী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা আতংকে থাকা অভিযোগকারীরা।
অপর একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানায় কাশিমাড়ীর ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আলমগীর কবীর ওরফে পাগরা আলমের নেতৃত্বে ২০/২২ জনের একটি গ্রুপ মঙ্গলবার সকালে রামদা ও লাঠিশোটা নিয়ে গোদাড়া এলাকায় মহড়া দেয়। এসময় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে কয়েকটি ‘মোড়ে’ যেয়ে বিএনপি জামায়াতের পক্ষে কোন জায়গায় ধানের শীষের পোষ্টার টানাতে হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর ঐ এলাকায় অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মী সমর্থকসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এসব বিষয়ে মোবাইলে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ¦ আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা পোষ্টার ঁেছড়াসহ নানাভাবে বিএনপি কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া গায়েবি মামলায় প্রতিদিন অসংখ্যা নেতকার্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনসহ জেলা রিটার্নিং অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এাড়া শ্যামনগরের কাশিমাড়ীতে গাজী নজরুলের ধানের শীষের পোষ্টার সাটানোর সময় এক জামায়াত কর্মীর মটর সাইকেল কেড়ে নিয়েছে যুবলীগের এক নেতা।
শ্যামনগরে ২০ দলীয় জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল জানান, তার নির্বাচনী এলাকাতে সরকার দলীয় লোকজন নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘন করছে। তার নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষের পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত নেতাকর্মীদরে ব্যাপক ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। যাদের নামে কোন মামলা কিম্বা ওয়ারেন্ট নেই তাদেরকে আটক করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘনের সামিল।
সাতক্ষীরা সদর ২ আসনে পৌরসভায় ১ নং ওয়ার্ড কাটিয়ায় ধানের শীষের পোষ্টার ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় যুবলীগ কর্মীরা বলে অভিযোগ উঠে। গতকাল সন্ধ্যায় ২০ দল মনোনীত জামায়াতের মুহাদ্দিস আঃ খালেকের নির্বাচনী ধানের শীষের পোষ্টার সাটানোর সময় দুবৃত্তরা পোষ্টার, পোষ্টার মারার মই, টর্চ লাইট কেড়ে নেয় এবং ভ্যান চালককে কান ধরে উঠবস করায়। লাঞ্চিত করে কর্মীদের। যারা ধানের শীষের পোষ্টার ছিনিয়ে নিয়েছে তারা স্থানীয় সরকার দলীয় লোকজন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সদরের আলীপুর বাজারে ধানের শীষের কয়েকশ পোষ্টারে আগুণ ধরিয়ে দেয় স্থানীয় আ’লীগ কর্মীরা। আবুল খায়ের ভুগোলের ছেলে অমিত হাসান প্র্রেল দিয়ে ধানের শীষের পোষ্টার পুড়িয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান।
সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ী ইউনিয়নের ১,২ ও ৬ নং ওয়ার্ডে অর্ধশতাধীক স্থানে ঝুলান্ন ধানের শীষের পোষ্টার ছিড়ে ফেলে স্থানীয় যুবলীগ।
সাতক্ষীরার সদর আসনের বৈকারি ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের বিপুল সংখ্যক পোষ্টার পুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তারা কয়েকটি বাড়িতে হামলা, একটি দোকান ভাঙচুর ও বিএনপি সমর্থক কয়েক ব্যক্তিকে মারপিট করেছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম সরোয়ার জানান সোমবার সন্ধ্যায় তাদের কর্মী সমর্থকরা বৈকারি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পোষ্টার সাঁটার চেষ্টা করছিল। এ সময় একদল যুবক কাথন্ডা বাজার ও নাপিতঘাটা এলাকায় ধানের শীষের পোষ্টারে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময়ে তারা নুরুল মুন্সি, সাবেক ইউপি সদস্য জালাল ও খালেক হাজরার বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারপিট করে চলে যায়। পরে তারা নাপিতঘাটায় একটি সারের দোকান তছনছ করে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ও যুবলীগ নেতা ইনজামামুল ইসলাম ইঞ্জার নেতৃত্ব এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে ইনজামামুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। এদিকে পুলিশ জালাল মেম্বরসহ তিনজনকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এদিকে জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিএনপি জামায়াতের ৩২ নেতাকর্মীসহ ৭৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পযন্ত সাতক্ষীরা জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১০ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক আজম খান জানান, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ২৪ জন, কলারোয়া থানা থেকে ১২ জন, তালা থানা থেকে ৭ জন, কালিগঞ্জ থানা থেকে ৭ জন, শ্যামনগর থানা থেকে ১১ জন, আশাশুনি থানা থেকে ৮ জন, দেবহাটা থানা থেকে ৩ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতের দলীয় সূত্র জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় তাদের ৩২ জন নির্বাচনি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।
রাজনৈতিক দল লঙ্ঘন করলে তাদেরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে।এর আগে সোমবার (১২ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন করার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার নির্দেশনা দেয় নির্বাচন কমিশন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, আচারণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তবে জেলাতে এখনো আচারণবিধি লঙ্ঘনের তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এমনকি তার কাছে কোন প্রার্থী লিখিত অভিযোগও দেয়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ