মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খাসোগি হত্যায় সৌদি আরবকে ছাড়পত্র দিতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র--হ্যালি

 ৯ ডিসেম্বর, দ্য আটলান্টিক : জাতিসংঘের বিদায়ী মার্কিন দূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেওয়া উচিত নয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য এমন নয়। মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন হ্যালি।

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন খাসোগি। ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাসোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত এই সাংবাদিক সৌদি আরবে ফেরার বিষয়ে রিয়াদের চাপ অগ্রাহ্য করে আসছিলেন। প্রথমে রিয়াদের পক্ষ থেকে খাসোগিকে হত্যার কথা অস্বীকার করা হলেও তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলো সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রমাণ হাজির করতে থাকে। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। একপর্যায়ে খাসোগি কনস্যুলেট ভবনে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ হত্যার সঙ্গে যুবরাজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

শুরু থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা নাকচ করে আসছেন। সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার জেরে সৌদি আরবের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জোরালো হয়ে উঠলেও তাতে সায় দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করে আসছেন, দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আরও অনেক উপায় রয়েছে। অস্ত্র বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী হবে বলেও মনে করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এ অবস্থানকে সমর্থন দিতে পারছেন না হ্যালি। আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনিদাবি করেন, সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সমর্থন দিতে পারে না। হ্যালি বলেন, ‘ সৌদি আরবের সরকারি কর্মকর্তারা সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে এ কাজ করেছে। আমরা তাদেরকে ছাড়পত্র দিতে পারি না, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নয়।’ 

খাশোগি হত্যা প্রসঙ্গে হ্যালি আরও বলেন, ‘আমরা এ হত্যাকাণ্ডকে উপেক্ষা করতে পারি না, আমরা কখনও বলতে পারি না যে এটা ঠিক আছে, আমরা কখনও হিংস্র আচরণকে সমর্থন করতে পারি না এবং এগুলো আমাদেরকে বলতে হবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে জাতিসংঘের মার্কিন দূত হিসেবে আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেন নিকি হ্যালি। এ বছরের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন তিনি। জানুয়ারিতে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ট্রাম্প মনোনীত হেদার নোয়ার্ট। চলতি বছরের এপ্রিলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কিছুটা বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন হ্যালি।

হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য পরামর্শক ল্যারি কুডলো বলেছিলেন, হ্যালি তার স্থান থেকে বাইরে চলে গেছেন। এজন্য একটু দ্বিধা তৈরি হয়েছে। জবাবে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে হ্যালি বলেছিলেন, ‘সম্মান রেখে বলছি, আমি কোনও দ্বিধায় নেই।’ হ্যালির পরিবার ভারতীয় অভিবাসী। নির্বাচনি প্রচারণার সময় থেকেই ট্রাম্পের সমালোচনা করে আসছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর হ্যালি বলেছিলেন,ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানিরঅভিযোগগুলো আমলে নেওয়া উচিত। একটা সময় হ্যালি বলেছিলেন, ট্রাম্পের বেফাঁস মন্তব্যের কারণে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ