মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনায় অগ্রিম শিক্ষার্থী টানতে মাঠে কিন্ডার গার্টেন ॥ নীরব প্রশাসন

খুলনা অফিস : নতুন বছরে স্কুলের ভর্তি কার্যক্রমের ঘন্টা বাজছে। স্কুলের জন্য ক্ষণ গণনা করা শুর করেছে নবীন শিক্ষার্থীরা। এই শুভক্ষণের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে টানতে মাঠে নেমেছে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকরা। এ ক্ষেত্রে খুলনায় নীরব ভূমিকায় রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। সরকারি প্রাথমিকের থেকে কিন্ডার গার্টেনের লেখাপড়ার পরিবেশ ভাল থাকায় সন্তানরা আগ্রহী হয়। কর্মকর্তারা বলেছেন কোনো একটি বিদ্যালয়ে পড়লেই হয়।

জানা গেছে, খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১৫৭টি। ৩০৬টি বিদ্যালয়ে রয়েছে মাল্ডিমিডিয়া ক্লাসের সুবিধা। শিক্ষকদের পাঠদান প্রদানের মান উন্নয়নের জন্য থানা রিসোর্স সেন্টার এবং প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। কিন্তু তারপরেও স্কুলগুলোতে বাড়ে না শিক্ষার্থী। খুলনা জেলার কিন্ডার গার্টেনগুলো তাদের একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করে নেমে পড়েন নতুন বছরের শিক্ষার্থীদের জন্য। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খরচ বেশি হলেও অভিভাবকদের ইতিবাচক সাড়া পড়ে। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের নতুন বছরের শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোনো আগ্রহ থাকে না। কেননা তাদের শিক্ষার্থী কম বেশি হওয়া নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা থাকে না। তাদের এই বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তেমন খবরদারিও থাকে না। যার কারণে শিক্ষকদের শিক্ষার্থী টানতে আগ্রহ থাকে না।

খুলনা ময়লাপোতা মোড়ের সোহরাব মোড়ল বলেন, সরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কখনও বাড়ি বাড়ি আসে না। তাদের এ বিষয়ে কোনো চিন্তা থাকেনা। কিন্তু কিন্ডার গার্টেনগুলো বছর শেষ হওয়ার আগেই নতুন শিক্ষার্থীদের তাদের প্রতিষ্ঠানে নেয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করেন।

নগরীর মৌলভীপাড়া এলাকার সোনিয়া বেগম বলেন, কিন্ডার গার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর লেখাপড়ার পরিবেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে তুলনামূলক ভালো। এই পরিবেশে শিক্ষার্থীরা আনন্দও পায়। সরকারি শিক্ষকদের আন্তরিকতা কম থাকায় তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর জন্য তেমন কোনো চেষ্টা করেন না।

শান্তিধাম মোড়ের শিবলী রহমান বলেন, কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকরা বাসায় এসে তাদের সন্তানদের ভালোভাবে বোঝান। যাতে তাদেরকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকরা এসব করেন না।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার বলেন, ক্লাস্টার অনুযায়ী ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর নির্দেশনা রয়েছে। কিছু কিছু বিদ্যালয় ভর্তির জন্য ব্যানার টাঙিয়ে থাকে। তবে যে কোনো একটি বিদ্যালয়ে পড়লেই হয়। যেন কোনো শিক্ষার্থী পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত না হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ