মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

সিলেট-৬ আসনে নাহিদ-শমসের মুখোমুখি

সিলেট ব্যুরো : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সদ্য বিকল্পধারায় যোগদানকারী শমসের মবিন চৌধুরী মুখোমুখি। গত বুধবার দুজনের সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। কিছুদিন আগেও এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন শমসের মবিন এমনটি সিলেটে আলোচিত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আলোচনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। অভিমানে নয়তো দলীয় সিদ্ধান্তে শমসের মবিন কি এই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন? তা এখন সিলেটের মানুষের মুখে মুখে। 

এক সময়ের বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান হঠাৎ করেই রাজনীতি থেকে বিদায় নেন। এর আগে তিনি সিলেট-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ছিলেন। দীর্ঘদিন সিলেটের রাজনীতিতে শমসের মবিন ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সিলেটে আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সভা-সমাবেশ করতেন। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেন এই নেতা। কিন্তু রাজনীতি থেকে হটাৎ অবসর নেয়ার পর অনেকটা নিরবে কেটেছে তার সময়। ইতিমথ্যে সিলেট-১ আসনে বিএনপি তার সম্ভাব্য প্রাীর্থী তালিকায় দুজন হেভিয়েট নেতাকে স্থান দিয়েছে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হয়ে নির্বাচনমুখী হওয়ার সাথে সাথে আবারও আলোচনায় চলে আসেন শমসের মবিন। সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারায় যোগ দেন তিনি। দেশের মিডিয়া অঙ্গনে শমসের মবিনকে নিয়ে নানা রকমের আলোচনা হয়। শুর ওঠে সিলেট-৬ আসনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের স্থানে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে শমসের মবিন চৌধুরী নির্বাচন করতে পারেন। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ তার দলীয় প্রার্থীর তালিকায় সিলেট-৬ আসনে নুরুল ইসলাম নাহিদের নাম ঘোষণার কারণে আলোচনা থেকে অনেকটা সিটকে পড়েন শমসের মবিন। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সাথে বিকল্পধারার যদি সমঝোতা হয়, তবে এ দুই নেতার মধ্য থেকে একজন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, অপরজন সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু সমঝোতা না হলে উভয় নেতাই নির্বাচনে লড়তে পারেন বলে আভাস মিলছে। অন্যদিকে, সমঝোতা যদি হয়ও, তখন নুরুল ইসলাম নাহিদ নাকি সমশের মবিন চৌধুরী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন, তাও এখন পর্যন্ত খোলাসা হয়নি। তবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী উভয় নেতাই।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষ নৌকা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনে বিগত দিনের উন্নয়নের পক্ষে মানুষ রায় দেবে। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

সমশের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। আমার প্রার্থী হওয়ার খবরে এলাকায় সাড়া পড়েছে।’

অপরদিকে বিএনপি থেকে পদত্যাগী শমসের মবিন চৌধুরীকে গ্রহণ করতে নারাজ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের লাখো জনতা এমনটাই দাবি করলেন বিএনপি ও অঙ্গসঙ্গঠনের নেতাকর্মীরা। গোলাপগঞ্জের বিএনপি নেতা আশিক উদ্দিন জানান, শমসের মবিন চৌধুরী ছিলেন আমাদের মাথার তাজ। বেগম খালেদা জিয়া, মরহুম সাইফুর রহমানের পরে আমাদের মধ্যে শমসের মবিন চৌধুরী স্থান করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির এই দুর্দিনে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তার ব্যক্তিস্বার্থে বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে তিনি তার মর্যাদাকে মাটির সাথে মিশে দিয়েছেন। গোলাপ-বিয়ানীবাজারে জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা এই দলত্যাগী নেতাকে প্রত্যাখ্যান করবে। ২৩ দলীয় জোট যাকে ধানের শীষ দিবে আমরা স্বত:স্ফূর্তভাবে তার পক্ষে কাজ করবো। কাজ করবে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী।

অর্থমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য 

সাক্ষাৎ ইনাম চৌধুরীর

সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নগরীর ধোপাদিঘীরপারস্থ হাফিজ কমপ্লেক্সে অর্থমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যান। এ সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী একই আসনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেন তাঁর অপর ভাই ঢাকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি ড. এ কে আবদুল মুবিন উপস্থিত ছিলেন। 

ইনাম আহমদ চৌধুরীর সাথে ঘনিষ্ট সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু জানান, সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসাবে তিনি ড. মোমেনের বাসায় যান। এটা সিলেটের সংস্কৃতি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ