মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লালমনিরহাট শিবরাম স্কুল সাফল্যেগাঁথা সুনাম অর্জনে প্রথম

লালমনিরহাট : শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্যারেড করছে ও তাদের হাতের লেখা সুন্দর

মোঃ লাভলু শেখ, লালমনিরহাট : লালমনিরহাট শিবরাম স্কুল সাফল্যে গাঁথা, সুনাম অর্জনে প্রথম। উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা জেলার সুন্দরঞ্জ উপজেলার অজোপাড়া গাঁ শিবরাম মৌজায় ১৯১৬ সালে স্থাপিত শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে সাফল্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করায় শিবরাম আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে জাতীয়করণ করা হয়েছে। ঐ বিদ্যালয়ের অনুসারী হিসেবে উত্তরবঙ্গের রংপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগা, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় জেলায় বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেছে শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল নামে, এর একটি শাখা লালমনিরহাটে গত ২০১৫ ইং সালে স্থাপিত হওয়ার পর ৩৬ জন ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল। ফলাফলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করায় বর্তমানে ৩০০ জন ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ আন্তরিকতার সহিত নতুন রূপে ও ডিজিটাল মানে শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল লালমনিরহাটের মাটিতে পদার্পন করে আজ সাফল্যের শিখরে পা রেখেছে। ২০১৫ সালে প্রথমে লালমনিরহাটের হাড়ীভাঙ্গা শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলটি গড়ে উঠে। মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে সাফল্যে ব্যাপক আলোচিত হওয়ায় আগের জায়গা সংকটের কারণে বর্তমানে লালমনিরহাট এয়ারপোর্ট সড়ক মিশন মোড় সংলগ্ন শাহআলী কাউন্টারের পাশে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপরদিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল সংলগ্ন একটি শাখা খোলা হয়েছে। পরিচালক এ প্রতিবেদককে মঙ্গলবার জানান, বিদ্যালয়টিতে ৩০০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ১১ ধরনের পাঠদানের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার নিয়ে শিক্ষা পদ্ধতি প্রশংসিত স্কুলটির পরিপাটি পরিবেশ, সুশৃঙ্খল পরিচালনা শিশুদের জন্য আর্কষণীয় শিক্ষণ পদ্ধতি ও শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষার মান, পাঠ্যক্রমের অতিরিক্ত প্রতিভা বিকাশের অনুকূল সাংস্কৃতিক সামাজিক কার্যক্রম ইত্যাদির জন্য পুরস্কারও পেয়েছেন। দেশের অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিবরাম স্কুলটি নানা দিক থেকে ব্যতিক্রমধর্মী। টগবগে এক প্রতিভাসম্পন্ন ও শিক্ষানুরাগী যুবক রাশেদুল ইসলামের সার্বিক পরিচালনায় ও ফলাফলে জিপিএ-৫ এ শতকরা ৯০% শিক্ষার্থী অর্জন করায় বর্তমানে ব্যাপক সুনাম করেছে। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম জানান আবাসিক/অনাবসিক/ডে-কেয়ার প্লে থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৩০০ জন। আসন সংখ্যা সীমিত। প্রত্যেক শাখায় ১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্লে থেকে প্রথম শ্রেণী সকাল ৮.৪৫ মিনিট থেকে ১১.৪৫ পর্যন্ত। দ্বিতীয় শ্রেণী সকাল ৮.৪৫ মিনিট থেকে ১২.০০টা পর্যন্ত। তৃতীয় শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত সকাল ৮.৪৫ থেকে ১২.০০ টা পর্যন্ত বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। পঞ্চম থেকে ৮ম শ্রেণী সকাল ৮.৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮.৩০ পর্যন্ত স্কুলে পাঠদান চলে এবং ডে-কেয়ার সন্ধ্যা থেকে রাত ৮.৩০ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত পাঠদানে আলাদা কোন ফি নেই। ফলে শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল এর শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং অন্য কোথাও পড়তে হয় না। ১ম, ২য় ও বার্ষিক পরীক্ষার পাশাপাশি সাপ্তহিক /মাসিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের রাফ খাতা হ্যান্ডনোটের মাধ্যমে পড়ালেখার মান যাচাইসহ পরীক্ষার খাতায় অভিভাবকের মন্তব্য নিশ্চিত করা হয়। ২০১৭ ইং সালে ১৭ জন্য শিক্ষার্থী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৯ জন এ+ ও ২ জন এবং ৪ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। এ প্রতিবেদক মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গেলে বিদ্যালয়ের অভিভাবক হেলালী আক্তার সাথী, রেহেনা, সুলতানা পারভীন, নাজমা, সাবিনা ইয়াসমিন, নিশাত আক্তার ও নাজমা বেগম লেখাপড়ার মান ভালো উল্লেখ করে বলেন এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভাল ও দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় স্কুলটির সার্বিক পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ও সাফল্যের কারণে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য শিক্ষক-অভিভাবক সহ স্থানীয় সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিচালক। অপরদিকে এ বিদ্যালয় থেকে বেড়িয়ে অনেকেই ক্যাডেটসহ দেশের নামী-দামী স্কুল ও কলেজে অনায়াসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ