বুধবার ২৫ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

দিনাজপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৬ শিক্ষক গ্রেফতার

দিনাজপুর অফিস : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের পরিবর্তে দিনাজপুরে পুরোদমে চলছে গণগ্রেফতার। সম্পূর্ণ বিনা কারণে গ্রেফতার যেন থামছেই না। জেলার বিভিন্ন স্থানে এ গ্রেফতার অভিযান অব্যাহতভাবে চলছে। গতকাল সোমবার দিনাজপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মুজিবুর রহমানসহ ৬ জন শিক্ষককে তাদের কর্মস্থল গাওসিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে কর্মরত অবস্থায় আটক করে গত ১৫ অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওই মামলা নং-৮৯, তারিখ-১৫-১০-১৮ইং। ধারা-১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (১) (৩) তৎসহ ২০০৮ সালের বিষ্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৪ (খ)। মামলটির বাদী দিনাজপুর কোতয়ালী থানা এস আই নয়ন চন্দ্র রায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটক শিক্ষকবৃন্দের নামে পূর্বে কোন মামলা বা ওয়ারেন্ট ছিল না। জামায়াত নেতা হওয়ায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মুজিবুর রহমানের বিরূদ্ধে সরকারের দায়ের করা কিছু গায়েবি মামলা থাকলেও সেগুলোতে তিনি আইনানুগভাবে জামিন গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতেন। হঠাৎ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালীন কর্মরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাস থেকে তাদের বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়। পরীক্ষা চলাকালীন নজিরবিহীনভাবে মাদ্রাসার সুপার, সহ-সুপারসহ ৬ শিক্ষককে গ্রেফতার করা হলো। যার কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষাসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সহ-সুপার মাওলানা মোঃ আবুল হোসেন ফিরোজ, বিএসসি শিক্ষক মোঃ মমিনুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ সিদ্দিক, মাজেদুর রহমান ও শিক্ষক মোঃ আব্দুল খালেক। একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে প্রায় সব শিক্ষককে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন-নির্বাচনের সময় উৎসবমূখর পরিবেশের পরিবর্তে এমন ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির আসলে উদ্দেশ্য কি? নিরপরাধ এসব শিক্ষককে কোনদিন কোন খারাপ কর্মকান্ডে দেখেনি এলাকাবাসী। তাই তারা এ অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এদিকে গতকাল গভীর রাতে হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ জামালপুর গ্রামের বাড়ি বাড়ি ব্যাপক তল্লাশী চালিয়ে ৩ জামায়াত কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ আব্দুল মজিদ মাস্টার, মোঃ আবু তালেব মাস্টার ও মোঃ আবু সাঈদ। এছাড়া বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাসায় বাসায় পুলিশ হয়রানি মূলক অভিযান পরিচালনা করছে। একইভাবে জেলার বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলাতেও প্রতিদিন চলছে গণগ্রেফতার। এসব এলাকার বিরোধী নেতা-কর্মী বিশেষ করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে চলছে এ গ্রেফতার অভিযান। অনেক সময় পুলিশের টার্গেটকৃত ব্যক্তি না পেলে তাদের বাবাকেও গ্রেফতার করে আনছে পুলিশ। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীরা কেউই বাড়িতে থাকতে পারছেন না। সব মিলিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে ভীতিকর পরিবেশ।
বিনা ওয়ারেন্টে নিরাপরাধ ও নিরীহ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা উত্তর আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান এবং দিনাজপুর জেলা দক্ষিণ আমীর ও দিনাজপুর-৬ আসনের ২৩ দলের প্রার্থী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম। গতকাল পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিকভাবে হয়রানি না করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিচ্ছেন, অপরদিকে তথাকথিত নির্বাচনকালীন আওয়ামী সরকারের নির্দেশে বিনা ওয়ারেন্টে থানা পুলিশ সম্পুর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক অভিযানের নামে তল্লাশী ও সাঁড়াশি অভিযানে নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড ব্যাহত করছে। যা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। নেতৃবৃন্দ পুলিশ প্রশাসনকে নিরীহ জামায়াত-বিএনপি'র নেতা-কর্মীদের এহেন গ্রেফতার, গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অন্যায় অভিযান ও নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে এবং গ্রেফতারকৃত সকল জামায়াত-বিএনপি'র নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ