রবিবার ০৭ মার্চ ২০২১
Online Edition

ইসি সচিব আ’লীগের নির্বাচন কমিশন শাখার প্রধান

গতকাল সোমবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন শাখার প্রধান নেতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অবিলম্বে ইসি সচিবকে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষায় কথা বলে আসছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন। আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিরামহীন রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। দ্রুত দলবাজ ইসি সচিবকে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, একতরফা ও নীলনকশার পাতানো নির্বাচনের মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ইসি সচিব। সরকার পরিকল্পিতভাবে সাজানো ভোটারবিহীন আরেকটি নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে হেলালুদ্দীনকে নিয়োগ দিয়েছে। ইসি সচিব মূলত নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করছেন। বাকি পাঁচ সদস্যের কমিশনারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন তিনি।
রিজভী বলেন, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের রূপকার ইসির তৎকালীন সচিব বর্তমান পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের পরামর্শে নির্বাচন কমিশনকে পরিচালনা করছেন হেলালুদ্দীন। গত শনিবার নির্বাচন ভবনে বিএনপিকে হুশিয়ারি দিয়ে ইসি সচিব ভবিষ্যতে সতর্কতার সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। তার এ বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি নির্বাচন কমিশনের সচিব নন। তিনি নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগ শাখার প্রধান নেতা।
ইসি সচিব গোপনে সবচেয়ে অজনপ্রিয় একটি সরকারকে আবার অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় আনার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা। রিজভী আরও বলেন, বিশেষ সুবিধাভোগী হেলালুদ্দীন আহমদ ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যোগদান করে। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পূর্ণ সচিব পদে সরকার তাকে পদোন্নতি দেয়। অথচ ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি জেলা প্রশাসক ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে নির্বাচন কমিশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকার সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সচিব ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগপন্থী আমলা হিসেবে তার পরিচিতি ব্যাপক।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ইসি সচিব বর্তমানে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি। প্রশাসনের ভেতরে সরকারের প্রভাবশালী একজন আমলা। প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাসছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশংসামূলক পোস্ট দেয়া আছে। এসবে প্রমাণিত হয় তিনি নিরপেক্ষ নন, চরম দলবাজ এবং আওয়ামী লীগের অন্ধ অনুসারী।
সিইসিও নিরপেক্ষ নন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে (আপন বোনের ছেলে) এস এম শাহজাদা সাজু। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি চিঠি পান। সেখানে আওয়ামী লীগের আর এক মনোনয়ন প্রত্যাশী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন-আমাকে মনোনয়ন না দেবার কারণ একটি, সেটি হলো শাহজাদা সিইসি’র ভাগ্নে। সিইসিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্যই তার ভাগ্নেকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। সাজুকে মনোনয়ন দেয়া সরকার কর্তৃক সিইসিকে ভোট দেয়ার একটি পরিষ্কার উদাহরণ। আমরা মনে করি- এই মনোনয়ন সিইসি’র জন্য স্বার্থের সংঘর্ষের (Clash of Interest) একটি সুষ্পষ্ট ক্ষেত্র তৈরী করেছে, যার কারণে সিইসি স্বীয় পদে অব্যাহত থাকার  নৈতিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছেন। তার পক্ষে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে আওয়ামী লীগের অঘোষিত নেতা তা তার কর্মকান্ডে প্রমাণিত। সিইসি নির্বাচন কমিশনের প্রধান হওয়ার কারণে নিজে নৌকায় না উঠে ভাগ্নেকে নৌকার মাঝি করলেন।
রিজভী বলেন, এ প্রসঙ্গে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতার অনন্য দৃষ্টান্ত উল্লেখযোগ্য, যার তুলনা বর্তমানে নেই বললেই চলে। সবার স্মরণে আছে-২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মূুখ্য সচিব ডক্টর শাহ মোহাম্মদ ফরিদ স্বেচ্ছায় মুখ্য সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন-যাতে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন কোনভাবেই উঠতে না পারে। কারণ সেই নির্বাচনে তার ভাই বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যদিও তিনি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। তবু তিনি পদত্যাগ করে এক অসাধারণ নজীর স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেই ঝবহংব ড়ভ বঃযরপধষ ধহফ সড়ৎধষ দায়-দায়িত্ব থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেন। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি যে, ভাগ্নে সাজুর মনোনয়নের প্রেক্ষিতে সিইসি অনুরূপ উচ্চ নৈতিক মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে স্বীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
রিজভী বলেন, এ ধরনের চিহ্নিত, দলবাজ ও সরকারের চরম সুবিধাভোগী ইসি সচিব স্ব-পদে বহাল থাকলে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ইসি সচিবের বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অবিলম্বে ইসি সচিবকে প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের জন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। দল-নিরপেক্ষ এবং চৌকস কাউকে দ্রুত হেলাল উদ্দীনের স্থলে নিয়োগ দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপির এই নেতা বলন, আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছি যে, ফেনীসহ কিছু কিছু জেলার পুলিশ সুপারগণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) ডেকে নিয়ে সভা করে তাদেরকে সরকারের পক্ষে কাজ করার চাপ দিচ্ছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির বিষয়ে ব্রিফ করছেন। তারা বলছেন এসিআর আমাদের হাতে, নির্বাচনের রেজাল্ট আমাদের হাতে দিবেন, এসিআর নিয়ে যাবেন। ইতোমধ্যে আমরা ফেনীসহ অন্যান্য জেলার বেশ কিছু পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে পত্রের মাধ্যমে অবহিত করেছি। আমরা এসকল দলবাজ পুলিশ সুপারদের জানাতে চাই-আপনাদের এ ধরনের কার্যক্রম ঞযব জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ ড়ভ চবড়ঢ়ষব ঙৎফবৎ-১৯৭২ এর অৎঃরপষব-৭৩ (২ই) এবং ৭৭ (র) (ব) অনুসারে নির্বাচনে অযাচিত প্রভাব (টহফঁব ওহভষঁবহপব) এর অপরাধ। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদ- এবং সর্বনি¤œ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড। এধরনর অপরাধের মামলা ঘটনা সংঘটনের ছয় মাসের মধ্যে করা যাবে মর্মে জচঙ-তে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আমরা পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে আপনারা এধরনের অনৈতিক ও অযাচিত প্রভাব বিস্তার হতে এখনই নিবৃত্ত হউন। অন্যথায় আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ অভিযোগ/মামলা দায়ের করতে বাধ্য হবো। পুলিশ সুপারদের জানা উচিত এখন কোন তথ্যই গোপন রাখা সম্ভব নয়। কারণ সকল জেলায় ও থানায় পুলিশ সুপারদের অধঃস্তন অনেক নিরপেক্ষ, সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তা এখনও আছে।
 গ্রেফতার ও বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে নির্যাতন-নিপীড়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হামলা, গ্রেফতার ভয়-ভীতি প্রদর্শন, নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। রাজধানীসহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীদের খোঁজ করার নামে তল্লাশি ও ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। অনেক সময় নেতাকর্মীদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো বাড়িতে পরিবারের মহিলা সদস্যদের অকথ্য গালি গালাজ ভয় ভীতি প্রদর্শন করছে পুলিশ। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী সদস্যরাই নয় কোথাও কোথাও ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ শাসক দলের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা করছে। এই মুহূর্তে পুলিশী শক্তির ব্যবহার ছাড়া আওয়ামী ঝুলিতে এখন আর কিছু নেই। গতকালও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লবকে তার উত্তরার বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 রোববার যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় বিএনপির উঠান বৈঠকে পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূবের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেয়ার বিষয় নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঘরোয়া আলাপ আলোচনা চলছিলো। বৈঠক চলাকালে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অভয়নগর থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারপিট করে এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশের ছোঁড়া শর্টগানের গুলীর ছররায় একজন বিএনপি কর্মী আহত হন। ফেনীতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামী করে একের পর এক ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এসব মামলায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
রিজভী বলন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার চালাচ্ছে। এই বিষয়ে রবিবার সিলেট জেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশন অহেতুক গ্রেফতার ও নির্যাতন না করার ঘোষণা সত্ত্বেও সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নেতাকর্মীদের পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং বাসায় বাসায় গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার পরিপন্থী। এছাড়া শনিবার সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজামাল নুর”ল হুদাকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কোন প্রকার মামলা ছাড়াই আটক করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বনানী কড়াইল ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ফার”ক হোসেন রফিক-কে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কিন্তু তাকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আমি অবিলম্বে ফার”ক হোসেন রফিককে জনসমক্ষে হাজির করে পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ১৯ নং ওয়ার্ড মৌচাক ইউনিট বিএনপি নেতা মোঃ মোতালেবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৪ নবেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সহ-সভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ এর বাসা ও অফিসে পুলিশ তল্লাশীর নামে তান্ডব চালিয়েছে। পুলিশ অফিসের কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে।
ঝিনাইদহ জেলা সদর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট জিয়াউল হক ফিরোজ এর বাসায় তল্লাশীর নামে ভাংচুর ও বাসার সদস্যদের সাথে অশালীন আচরণ করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইল জেলা গোপালপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামর”জ্জামান তিমিরকে পুলিশ গতকাল গ্রেফতার করেছে। নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে পুলিশী তান্ডব অব্যাহত আছে।
 নোয়াখালী জেলা চরমটুয়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি ঘরোয়া সভায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় কয়েকজন নেতাকর্মী গুর”তর আহত হয়। আহতদের মধ্যে চরমটুয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি নবী মাঝি ও ইউনিয়ন যুবদল নেতা রিয়াদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ২নং দাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আমিনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে সাদা পোশাকধারীরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে, তার এখনও কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। আমি সন্ত্রাসীদের কর্তৃক এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। দাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আমিনকে অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
 মৌলভীবাজার জেলা শ্রীমঙ্গল থানার ওসি নজর”ল ইসলাম বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শণের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হাজী মুজিবের পক্ষে কাজ না করার জন্য হুঁশিয়ারী দেন। কমলগঞ্জ থানার এস আই সম্পোক দারোগা হাজী মুজিবকে গ্রেফতার করার হুঁশিয়ারী দিয়েছেন। আমি পুলিশের এই ঘৃন্য কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার দাবি করি। বগুড়া জেলা সোনাতলা থানাধীন দিগদাইড় ইউনিয়নের সুখানপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘পুলিশিং কমিটির’ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সোনাতলা থানার ওসি। তারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য সবাইকে কাজ করতে বলেন। এধরণের কর্মকান্ড নিঃসন্দেহে নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। অথচ নির্বাচন কমিশন এসব নিয়ে একেবারেই নিশ্চুপ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ