বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ছয় ঘণ্টা বন্ধ মার্কিন সীমান্ত শরণার্থীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ

 ২৬ নবেম্বর, আল জাজিরা : যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন রবিবার কিছুক্ষণের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দিয়ে সবধরনের যানচলাচল ও পথচারীদের প্রবেশ বন্ধ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতির জন্য মার্কিন সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে কয়েক হাজার আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসী সীমান্তে জড়ো হলে এই ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। সীমান্ত বেষ্টনির দিকে এগিয়ে আসা নারী, শিশু ও অভিবাসীদের ছত্রভঙ্গ করতে বর্ডার পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। সাময়িক বন্ধ থাকার পর বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এখবর জানিয়েছে।

রবিবার  মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি বন্দর সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে মার্কিন সরকার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চাপারাল ক্রসিংয়ে অভিবাসী ও শরণার্থী শিশুরা সীমান্ত বেষ্টনির কাছাকাছি গেলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শরণার্থী ও অভিবাসীদের মাত্র কয়েকজনের একটি দল সীমান্ত পাড়ি দিতে সক্ষম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, বন্দর দিয়ে অনেকেই অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বন্দর দিয়ে সব ধরনের প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। পুনরায় খুলে দেওয়ার আগ পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা বন্ধ ছিল বন্দরের কার্যক্রম।

রবিবার শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় প্রার্থীদের এই ক্ষোভের পেছনে মার্কিন কর্তৃপক্ষের আবেদন যাচাইয়ে মন্থর গতি দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি কয়েক হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী মেক্সিকো সীমান্ত শহরে জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন। এদের বেশিরভাগই সহিংসতা, দারিদ্র্যতা ও রাজনৈতিক নিপীড়ন এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অভিবাসনের আবেদন যাচাই শেষ না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের মেক্সিকোতেই রাখা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না।  শনিবার (২৪ নভেম্বর) ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, মেক্সিকো পাড়ি দিয়ে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে উপস্থিত হয়েছে তাদেরকে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত মেক্সিকোর সীমান্তের মধ্যেই থাকতে হবে। মেক্সিকোতে ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাওয়া ভবিষ্যৎ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনও সমঝোতা হয়নি। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া আন্দ্রেজ ম্যানুয়েল লোপেজ ওবরাডোরের শীর্ষ পরামর্শকদের একজন ওলগা সানচেজ কোরডেরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান। কিন্তু যেহেতু মেক্সিকোর নির্বাচিতরা সরকার গঠন করেননি সেহেতু এখনই এমন কোনও সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত মেক্সিকোতে রাখার বিষয়ে সানচেজ স্পষ্টভাবে দ্বিমত পোষণ করেন রয়টার্সের কাছে। কিন্তু এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, এরকম একটি পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে যেখানে সানচেজ একে ‘স্বল্পমেয়াদি সমাধান’ আখ্যা দিয়েছিলেন। এখন সানচেজ এমন পরিকল্পনার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য যদি মেক্সিকোতেই আশ্রয় দিতে হয় তাহলে আগে ওই ব্যক্তিদের জন্য মেক্সিকোকে অভিবাসনের অনুমতি দিতে হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে মেক্সিকো। মানবাধিকার কর্মীরাও মনে করন, এ সিদ্ধান্তকে আদালতে গেলে অবৈধ সাব্যস্ত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ