বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

কাশ্মীরে সাবেক নরওয়ে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক সফর

২৬ নবেম্বর, সানডে এক্সপ্রেস : নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেজিল মাগনি বনদেভিক শুক্রবার এক আকস্মিক সফরে ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত অশান্ত রাজ্য কাশ্মির গিয়েছেন। তিনি সেখানে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শ্রীলংকা সরকার ও এলটিটিই বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিলেন বনদেভিক। পাকিস্তান ও ভারত শিখ তীর্থযাত্রীদের চলাচলের জন্য কারতারপুর করিডোর তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণের কয়েক দিনের মাথায় এই সফর অনুষ্ঠিত হলো। ২০০৫ সাল পর্যন্ত নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বনদেভিক। তিনি বর্তমানে অসলো সেন্টার ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটসের প্রধান। তিনি হুরিয়াত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানী ও মিরওয়াইজ ওমর ফারুকের সঙ্গে গিলানির হায়দারপোরা বাসভবনে সাক্ষাত করেন। আধ্যাত্মিক নেতা শ্রী রবি শঙ্করের আর্ট অব লিভিং এই বৈঠকের আয়োজন করে।

মিরওয়াইজ ওমর ফারুক সানডে এক্সপ্রেস পত্রিকাকে বলেন, সফরের এক দিন আগে এ ব্যাপারে টেলিফোন পেয়ে আমরা অবাক হই। গত ছয় বছরের মধ্যে কোন বিদেশী বিশিষ্ট জনের সঙ্গে এটা আমাদের প্রথম বৈঠক। নয়া দিল্লি সবসময় এ ধরনের বৈঠকের বিরোধিতা করে এসেছে। ফলে বিদেশী কূটনীতিকরাও আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে ইতস্তত করেন।

তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে নয়া দিল্লি’র অনুমোদনের কারণেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রবি শঙ্করের প্রতিনিধি ছিলেন। বনদেভিক আমাদের বলেছেন যে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো মাঠের পরস্থিতি যাচাই করা। আমরা তার কাছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী ব্যাখ্যা করেছি। এই উদ্যোগের ফলাফল কি হবে তা আমরা জানি না। তবে এটা দুই দেশের মধ্যে একটি অর্থবহ সূচনা ঘটবে বলে আমরা আশা করছি। বিশেষ করে দুই দেশ যখন অনেক দিন পর কারতারপুর করিডোর খুলে দেয়ার মতো একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বনদেভিক মাত্র একদিনের সফরে কাশ্মির আসেন এবং তার সঙ্গে আর্ট অব লিভিংয়ের একজন প্রতিনিধি ছিলেন উল্লেখ করে মিরওয়াইজ বলেন, তিনি আমাদের বলেছেন যে দুই দেশের (ভারত ও পাকিস্তান) সম্পর্ক অনেক দিন ধরে শীতল হয়ে আছে। একে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, সহিংসতা একটি সমস্যা। কাশ্মিরের উভয় পক্ষকেও সাথে নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি আমাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন।

কাশ্মীরী নেতা বলেন, তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর আরো একটি বা দুটি বৈঠক হয়েছে। তিনি আমাদের বলেছেন যে পাকিস্তান যাওয়ার আগে তিনি দিল্লিতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠক করবেন। তিনি আজাদ কাশ্মিরও সফর করবেন।

মিরওয়াইজ বলেন, বনদেভিক বলেছেন যে গত চার-পাঁচ বছর ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে বিধায় এ পর্যায়ে পাকিস্তান ও ভারতকে কারো সাহায্য করা প্রয়োজন।

কাশ্মিরি নেতা জানান যে তারা সাবেক নরওয়েজিয়ান প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা তাকে বলেছি যে আমরা জানি এই বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিস্পত্তি করতে হবে। এখানে যে হত্যাকা- চলছে তা জরুরিভিত্তিতে বন্ধ হওয়া প্রয়োজনের কথাও আমরা বলেছি।

এই সকালেও স্থানীয় ছয় বালককে হত্যা করা হয়েছে। এই রক্তপাতের কারণে আমাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেÑ সে কথাও আমরা তাকে বলেছি। আমরা বলেছি নয়া দিল্লির সামরিক মনোভাবের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। আমরা বলেছি কেউ আমাদের কথা শুনছে না, যোগাযোগের সব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মিরওয়াই বলেন, আমরা বনদেভিককে বলেছি যে আমরা শুধু তখনই সাহায্য করতে পারি যখন দুই দশে তাদের সদিচ্ছা প্রদর্শন করবে এবং উভয় কাশ্মিরের জনগণকে আলোচনার টেবিলে নিতে প্রস্তুত থাকবে।

একজন সিনিয়ন পুলিশ কর্মকর্তা এই পত্রিকাকে বলেন, সফরটির ব্যাপার তাদের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সফরের অনুমতি দিতে স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া গেছে।

তিনি জানান যে, বনদেভিক শেরে কাশ্মির ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে বার এসোসিয়েশন ও কাশ্মির চেম্বার অব কমার্স নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

সাবেক নরওয়েজিয়ান প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন সরকারপন্থী একটিভিস্টের সঙ্গে সাক্ষাত করলেও কোন কর্মকর্তা বা মূল ধারার শীর্ষ রাজনীতিকের সঙ্গে আলোচনা করেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ