বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

দক্ষিণ এশিয়ায় সুশাসনের অভাব ব্যবসার প্রধান অন্তরায়---ডব্লিউইএফ

২৬ নবেম্বর, ফিনান্সিয়াল ট্রিবিউন : নেপাল, শ্রীলংকার মত বাংলাদেশেও সুশাসনের অভাব ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় বলছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। এধরনের অভাব বরং এ তিনটি দেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি বলেও অভিহিত করেছে ফোরাম। ফোরামের ‘রিজিওনাল রিস্কস ফর ডুয়িং বিজনেস’ নামে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ১০টি প্রধান ঝুঁকি তুলে ধরে বলা হয়েছে প্রধানত এ তিনটি দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের মাঝে সাইবার হামলাও আরেক ঝক্কি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ফোরাম এক জরিপে এসব তথ্য পায়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ফোরাম দক্ষিণ এশিয়ার ৫টি দেশ যথা বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়গুলো সারসংক্ষেপে আনে। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ওপর আলোকপাত করা হয়। শাসনে ও সুশাসনে ব্যর্থতাই পয়লা নম্বরের ঝুঁকি হিসেবে ফোরাম বিবেচনা করার পর বলা হয়েছে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও এর প্রভাবে ব্যবসায় এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয় যা ঝুঁকি হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। পাকিস্তানে গত জুলাইতে নির্বাচনের পর গত বছর নভেম্বরে নেপালে নির্বাচন হয়। এবছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ, ভুটান ও মালদ্বিপে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আগামী বছর ভারতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ফোরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এসব দেশে রাজনৈতিক পদ্ধতিই এমন যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি করে এবং তা সন্ত্রাস পর্যন্ত গড়ায়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা হরতাল-ধর্মঘটের মত বিষয়গুলো অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে ধারাবাহিক জালানির দাম বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয় এটি সুশাসনের এক প্রধান ঘাটতি। এছাড়া সাইবার হামলা, আঞ্চলিক ও বিশ^মানের সুশাসনের অভাব ছাড়াও বেকারত্ব এমনকি লোকবলের দক্ষতার চেয়ে নিম্নমানের কাজে তাদের নিয়োগের বিষয়গুলো প্রধান অন্তরায়। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরাণার্থীর বিষয়টিকেও ফোরাম এক অস্বস্তিকর দিক হিসেবে চিহ্নিত করে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানে অব্যাহতভাবে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার হ্যাক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় ধরনের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে ভারত ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ও আঞ্চলিক সুশাসনের অভাবকে ব্যবসার অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ দুটি দেশে পানির সংকটও প্রধান ৫টি অন্যতম ঝুঁকির একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি পানি সঙ্কট

বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কারণে আসছে দশকে পাকিস্তানের অর্থনীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তবে এসব ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি হলো পানি সঙ্কট। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এ কথা জানিয়েছে। ডব্লিউইএফ সম্প্রতি ‘রিজিওনাল রিস্কস ফর ডুইং বিজনেস’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আসন্ন ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা ১০টি বড় ঝুঁকির সম্মুখিন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো, অপশাসন, মুদ্রাস্ফীতি, সাইবার হামলা, বেকারত্ব, ইত্যাদি।

প্রতিবেদনে আরেকটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়। তা হলো সেচ্ছায় বড় আকারের অভিবাসন।

তেলের দাম বেড়ে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর পাকিস্তানের জন্য সন্ত্রাসবাদ ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে থাকবে।

পাকিস্তান মারাত্মক পানি সঙ্কটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস দেয়া হয়েছে। ১৯৬০ সাল থেকে দেশটির জনসংখ্যা পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ২১ কোটি হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটি শুকিয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তখন দেশটিতে তীব্র পানি সংকট দেখা দেবে এবং জনপ্রতি পানির প্রাপ্যতা হবে ৫০০ ঘন মিটারের কম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ