ঢাকা, বুধবার 30 September 2020, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

নিউজিল্যান্ডের সমুদ্র সৈকতে শয়ে শয়ে তিমির মৃত্যু

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: 

গোটা সৈকত জুড়ে পাশাপাশি শুয়ে এক ঝাঁক তিমি। সংখ্যায় তারা শতাধিক। ছটফট করতে করতে অন্তিম শ্বাস নিচ্ছে কেউ, কারওর দেহ ইতিমধ্যেই নিথর। ফের একবার নিউজিল্যান্ডের সমুদ্র সৈকত ভরে উঠল পাইলট তিমির মৃতদেহে।

প্রাণী সংরক্ষণ দফতর সূত্রে খবর, শনিবার রাত থেকেই নিউজিল্যান্ডের স্টুয়ার্ট দ্বীপের ধারে অনেকগুলো তিমিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। এমন কিছু ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল তখন থেকেই। সেই মতো উদ্ধারকারী দলও তৈরি ছিল। রবিবার সকালেই দেখা যায় শয়ে শয়ে তিনি উঠে এসেছে সৈকতে। সোমবার পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১৪৫টি তিমিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকিদের অবস্থাও সঙ্কটজনক।

স্টুয়ার্ট দ্বীপের প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের মুখ্য কর্মকর্তা রেন লিপনের কথায়, “প্রতি বছরই এই ঘটনা ঘটে চলেছে। খুবই দুঃখজনক। সৈকতে আটকে পড়া কয়েকটি তিমিকে আমরা জলে ফেরত পাঠিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে আবার ১০টি ফের এসেছে।”

নিউজিল্যান্ডে এ দৃশ্য অবশ্য একেবারে বিরল নয়। প্রতি বছরই নিউজিল্যান্ডের ওই সমুদ্রসৈকতে একাধিক তিমি আটকে পড়ে। বেশিরভাগই জলে ফিরে যেতে না পেরে মারা যায়। প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটেছে। ১৯১৮ সালে এই সমুদ্রসৈকতেই ১০০০টি তিমি উঠে এসেছিল। ১৯৮৫ সালে অকল্যান্ডের সৈকতে উঠেছিল ৪৫০টি তিমি। চলতি বছরেই এমন ৮৫টি তিমির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে তারা ঝাঁকে নয়, একাই উঠে এসেছিল সৈকতে।

ঝাঁকে ঝাঁকে মাঝ সমুদ্র থেকে সৈকতে উঠে এসে এমন মৃত্যুর কারণ অবশ্য এখনও অনেকটাই অজানা। বিজ্ঞানীদের মতে, তিমি বা ডলফিন জাতীয় প্রাণীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এই রহস্যমৃত্যুর পিছনে অবশ্য কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

কেন এই দলবেঁধে মৃত্যু ?

• গভীর পানিতে খাবারে টান পড়লে সৈকতের দিকে ভেসে আসে তিমিরা, অগভীর পানি থেকে ফের সমুদ্রে ফিরে যেতে পারে না অনেকেই। দমবন্ধ হয়ে সৈকতের বালিতেই মৃত্যু হয় তাদের।

• মাঝসমুদ্র থেকে তুলনামূলক কম গভীরতায় তিমিরা সন্তান প্রসব করতে আসে। কিন্তু বেশি অগভীর পানিতে চলে এলে তারা আটকে যায়।

• হিমশৈল বা ডুবোপাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে সৈকতের দিকে ভেসে আসাটা আশ্চর্যের নয়।

• প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, তিমিদের একটা প্রবণতা হল তাদের দলের নেতাকে অনুসরণ করা। নেতা যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে বা দিক ভুল করে তাহলে বিপদে পড়ে বাকি তিমিরাও।

• দূষণ ও উষ্ণায়ণও তিমিদের দিক ভুল করার একটা করাণ বলে মনে করছেন অনেকে।

• তিমিরা সাধারণত ভূচুম্বকীয় রেখা অনুসরণ করে থাকে। সেখানে জলযান বা অন্যান্য যন্ত্রপাতির শব্দে দিক গুলিয়ে অনেক সময়েই সৈকতে এসে পড়ে। দেখা গেছে, স্বজাতির বিপদের আঁচ পেয়ে তাদের বাঁচাতে সৈকতের দিকে ছুটে আসে বাকি তিমিরাও।  প্রাণী বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তিমি কোনও কারণে সমুদ্রসৈকতে আটকে পড়লে সাহায্যের জন্য বার্তা পাঠায়। যা শুনে অন্য তিমিরাও এগিয়ে আসে। ফলে সকলেই একসঙ্গে সৈকতের কাছে অগভীর জলে আটকে পড়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ