শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

যুক্তফ্রন্ট ও কপের বিজয়ে মওলানা ভাসানীর ভূমিকা

জিবলু রহমান : [সাত]
মাওলানা আতাহার আলী বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুহতারিমা ফাতিমা জিন্নাহকে রাষ্ট্রপ্রধান পদে ভোট দেওয়া যাইতে পারে না বলিয়া একশ্রেণীর আলেম ও পীর নামধারী স্বার্থবাজ ব্যক্তি পবিত্র কোরআন ও হাদিসের যে ধরনের বিকৃত উদ্ধৃতি ও অপব্যাখ্যা দান করিতেছেন তাহা আমি গভীর উদ্বেগের সহিত লক্ষ্য করিয়াছি। আরো পরিতাপের বিষয় এই যে, দেশের সরলপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার কুমতলবে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ হইতে সেসব বিকৃত উদ্ধৃতি ও অপব্যাখ্যামূলক তথ্যের ভিত্তিতে অসংখ্য পুস্তক-পুস্তিকা ঘরে ঘরে বিলিবন্টন করা হইতেছে।
এমতাবস্থায় খাঁটি সচেতন কোন আলেম ও পীরের পক্ষে কিছুতেই নিশ্চিন্তে বসিয়া থাকা উচিত নহে। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ রোগশয্যায় শায়িত থাকিয়াও এইরূপ পরিস্থিতিতে গভীর উৎকন্ঠা বোধ করিতেছি এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন নারীকে রাষ্ট্রপ্রধান পদে ভোট দেওয়া জায়েজ নহে বলিয়া যাহারা দাবি করিতেছেন, তাহাদিগকে উহা প্রমাণিত করার জন্য আমি চ্যালেঞ্জ প্রদান করিতেছি।
পক্ষান্তরে আমি ঘোষণা করতেছি যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সাহেব যিনি পবিত্র কোরআনকে বিকৃত করিয়া বিভিন্ন ধরনের বিধান জারি করে, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর প্রতি চরম অবমাননা প্রদর্শন করিয়াছেন-তাহাকে ভোট দেওয়া মুসলমানদের পক্ষে সম্পূর্ণ হারাম।
এই ব্যাপারে কাহারও দ্বিমত থাকিলে তিনি ঢাকা ফরিদাবাদ এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার ঠিকানায় আসিয়া আমার সহিত সাক্ষাৎ তর্কে প্রবৃত্ত হইতে পারেন। জামেয়া কোরআনীয়া, লালবাগ, ঢাকা-এর প্রিন্সিপাল মাওলানা শামছুল হক ও আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল ওলামা, পূর্ব পাকিস্তানের সেক্রেটারি মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর শাশ্বত চিরন্তন দ্বীনকে আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা চালাইতেছেন, যিনি মুসলিম পারিবারিক আইনের নামে স্বরচিত আইনের দ্বারা আল্লাহ ও রসূলের পবিত্র শরীয়তকে বিকৃত করিয়াছেন এবং ইদ্দত, তালাক ও বিবাহ ইত্যাদি ব্যাপারে কোরআনের সুস্পষ্ট আইনকে রহিত করিয়াছেন, তাহাকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সমর্থন করা কোন মুসলমানের পক্ষে জায়েজ হইতে পারে না। এইরূপ ব্যক্তির মোকাবেলায় এমন মহিলাকে প্রেসিডেন্ট করা কোনরূপেই অন্যায় হইবে না, যিনি এই শরীয়ত বিরোধী কাজ কখনও করেন নাই। (সূত্র : দৈনিক আজাদ ডিসেম্বর ১৯৬৪)
৮ ডিসেম্বর ১৯৬৪ ব্রাক্ষণবাড়ীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল তাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি প্রধান পুরুষ প্রার্থী-
১. তিনি জনসাধারণের ভোটাধিকার হরণ করিয়া পাকিস্তানের গণতন্ত্রের সমাধি রচনা করিয়াছেন।
২. তিনি পাকিস্তানকে ইসলামী গণতান্ত্রিক পথ হইতে সরাইয়া একনায়কতন্ত্রের পথে লইয়া যাইতেছেন।
৩. তিনি মুসলিম পারিবারিক আইন জারি করিয়া শরীয়তকে বিকৃত করিয়াছেন এবং ইদ্দত, তালাক, ইসলামের আধুনিকীকরণের চেষ্টা ইত্যাদি ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের সুস্পষ্ট আইনকে রহিত করিয়াছেন, তাহাকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সমর্থন করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কিছুতেই জায়েজ হইতে পারে না, এতদসত্ত্বেও যাহারা তাহাকে সমর্থন করিবে, তাহারা ঐ ব্যক্তির যাবতীয় কৃতকর্মের গুণাহের সমঅংশী হইবে।
অপরপক্ষে যিনি মহিলা প্রার্থী-
১. তিনি পাকিস্তানের জন্মের পূর্বে ও পরে গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক।
২. তিনি জনগণের ভোটাধিকার ফিরাইয়া দিতে ওয়াদাবদ্ধ।
৩. তিনি একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটাইয়া পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওয়াদা করিতেছেন।
৪. তিনি কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক মুসলিম পারিবারিক আইনের অনৈসলামী ধারাসমূহ সংশোধন করার ওয়াদা করিতেছেন এবং পবিত্র শরীয়তকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করিতেছেন।
জাতির এই পূর্ণ সংকটময় মূহূর্তে কোরআন বিকৃতকারী ও গণতন্ত্র হত্যাকারীদের অপসারণ করা অপরিহার্য কর্তব্য হইয়া পড়িয়াছে। এই কার্য সম্পাদন করিতে যদি কোনো মহিলার আশ্রয় লওয়া হয়, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাহা নাজায়েজ হওয়ার কোনোই কারণ নাই। বরং তাহাকে জয়যুক্ত করার সব প্রকার প্রচেষ্টা চালাইয়া যাওয়া অবশ্য কর্তব্য হইয়া পড়িয়াছে। শর্ষিনার পীর মাওলানা শাহ মোহাম্মদ ছিদ্দীক বলেন, ‘একনায়কতন্ত্রমূলক সরকার কর্তৃক ইসলাম ও শরিয়তে ইসলামের খেলাফ কতকগুলি কাজ হওয়ায় দেশের জনসাধারণ, বিশেষ করিয়া ওলামায়ে কেরাম ইহার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিতে বাধ্য হইতেছেন। কিন্তু এই সরকার সে সবের প্রতি কর্ণপাত না করায় দেশের জনসাধারণ ও রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন হককানী ওলামায়ে কেরামের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ ও অসন্তোষের ফলে বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ইসলাম জনসাধারণের স্বার্থে এই সরকার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শরীয়তের দাবিতে একান্তই সময়োপযোগী এবং শরীয়তসম্মত।
এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দ এবং ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে সমর্থন জানাইতেছি এবং আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি আন্তরিকভাবে আবেদন জানাইতেছি যে, জনসাধারণ কর্তৃক অকুন্ঠভাবে সমর্থিত সম্মিলিত বিরোধী দলকে ইসলামের মহান স্বার্থে কামিয়াব করুন। (সূত্র : দৈনিক আজাদ ১৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪)
মাওলানা মোহাম্মদ আবদুর রহীম বলেন, ‘নারীর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া জায়েজ নাই বলিয়া শর্ষিনা হইতে সম্প্রতি যে ফতোয়া প্রকাশিত হইয়াছে, তাহা সম্পূর্ণ মনগড়া কথায় পূর্ণ। তাহাতে যেসব দলিলের উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহার কোনো একটি দ্বারাও একথা প্রমাণিত হয় না যে, নিতান্ত প্রয়োজনে ঠেকিয়াও কোন সময়েই নারীকে রাষ্ট্রপ্রধান করা সম্ভব নহে।
কামাল লোহানী লিখেছেন, ‘...মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনে ‘কম্বাইন্ড অপোজিশন পার্টিজ’ আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, মুসলিম লীগ একসঙ্গে মিলে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছে ফাতেমা জিন্নাহকে নিয়ে। আমরা জানি, ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে তখন প্রবল জনস্রোত। মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান-সবাই ফাতেমা জিন্নাহকে নির্বাচনের জন্য কাজ করছেন। আমরা জানতাম, ফাতেমা জিন্নাহর জয় নিশ্চিত। কিন্তু যখন নির্বাচনের ফল বের হলো, দেখলাম আইয়ুব খান নির্বাচিত হয়েছেন এবং চারদিকে নির্যাতন শুরু হলো। যারা ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে কাজ করেছে, তাদের অনেককে মারধর করা হয়েছে। তখন দৈনিক ইত্তেফাকের উপসম্পাদকীয়তে সিকান্দার আবু জাফরের একটি কবিতা ছাপা হলো-‘জনতার সংগ্রাম চলবেই, আমাদের সংগ্রাম চলবেই...।’ উপসম্পাদকীয়তে কবিতা ছাপার ঘটনাটিও বিরল দৃষ্টান্ত, যে কবিতা শেখ লুৎফর রহমানের সুরারোপে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনের (বেসিক ডেমোক্র্যেসি ইলেকশন) পরে সামরিক শাসনের আমলে যখন আইয়ুব খান আদমজীতে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে, এমনকি সারা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরির চেষ্টা করছে, তখনো সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের একটা বিরাট ভূমিকা ছিল। তোপখানা রোডে আহমদুল কবিরের অফিসকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা প্রতিরোধ অফিস বানানো হয়। ওখানেই সব কর্মসূচি গ্রহণ করা হতো; পোস্টার, লিফলেট ছাপানো হতো। পরিকল্পনা করে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী একটি সম্পাদকীয় একসঙ্গে লিখে একই দিনে প্রকাশ করা হলো অবজারভার, সংবাদ, ইত্তেফাক ও আজাদ পত্রিকায়। এ সময় সরকারি প্রেস রিলিজ আমরা কৌশলে ফেলে দিতাম। তখন সামরিক সরকারের বাঙালি কর্মকর্তারা ওদের বুদ্ধি দিল, প্রেস নোট দেন। কারণ প্রেস নোট অবশ্যই ছাপতে হতো। পরে সরকারি প্রেস নোট আসত। তখন আমরা আবার ভিন্ন কৌশল নিতাম। প্রেস নোটের একাংশ ছেপে লিখে দেওয়া হতো।’ (সূত্র : সামরিক শাসনে সংবাদপত্র, কামাল লোহানী, দৈনিক কালের কণ্ঠ ১১ জানুয়ারি ২০১৭)
৯ ও ১০ নভেম্বর ১৯৬৪ সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহ আইয়ুবের কুম্ভীরাশ্রুতে না ভুলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। ১০ নভেম্বর ১৯৬৪ ইত্তেফাকে প্রকাশিত বিবৃতির অংশ ছিল-‘...বিবৃতিতে মোহতারেমা মিস্ ফাতেমা জিন্নাহ বলেন, ১৯৫৮ সালের ৮ অক্টোবর ক্ষমতা দখলের পর করাচিতে দেশরক্ষা দফতরে মিঃ আইয়ুব নিজেই স্বীকার করেন যে, দীর্ঘ আট বৎসর ধরিয়া তিনি ক্ষমতা দখলের কথা চিন্তা করিতেছিলেন। এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে মিঃ আইয়ুবকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। হিসাব করিলে দেখা যায় তাহার প্রধান সেনাপতি পদে নিযুক্তির সময় হইতে ১৯৫৮ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৮ বৎসরই হয়। অর্থাৎ প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হওয়ার পরক্ষণ হইতেই দেশে একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি পরিকল্পনা আঁটেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করিয়া যান। তার এই কার্যকলাপই লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে ১৯৫৪ সালে পূর্বোল্লিখিত দলিল প্রণয়নের তাৎপর্য বহন করে, আর ইহাতেই বুঝা যায় যদিও তিনি দেশরক্ষা বাহিনীর প্রধান সেনাপতির পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তবু দেশের কোন সরকারের প্রতিই তাহার আনুগত্য ছিল না। কারণ সব সময়ই সুবিধাজনক মুহূর্তে ক্ষমতা দখলের কথাই চিন্তা করিতেন। মিঃ আইয়ুব বলিতেছেন যে, আমি পাকিস্তান ধ্বংস করার প্রচেষ্টায় মাতিয়াছি। তিনি যে সমস্ত ক্ষেপা মন্তব্য করিয়াছেন উহা তাহারই একটি কিন্তু আমি নই, মিঃ আইয়ুব দেশের সামাজিক ও নৈতিক জীবনকে পঙ্গু করিয়া দিয়া পাকিস্তানের সমস্ত নৈতিক মূল্যবোধ নস্যাৎ করিয়া দিয়াছেন। সম্ভাব্য সকল প্রকার দুর্নীতির স্রোত বহাইয়া সমাহ দেহকে বিষাক্ত করিয়া তুলিবার জন্য মিঃ আইয়ুবই দায়ী। তার বদৌলতে স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা দেশে চুষিয়া বেড়াইতেছে, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করিয়াছে এবং এই স্বার্থেরই তাগিদে তাহারা দেশকে বিকাইয়া দেওয়ার চেষ্টা করিতেও কুণ্ঠিত হয় নাই। তাহারা মনে করে যেমনি ইচ্ছা দেশকে নিয়া খেলা করার অধিকার তাহাদের আছে। কারণ যাহারা এই দেশের গোড়াপত্তন করিয়াছেন, আজ তাহারা ইহাদের মতে দেশের শত্রু। ইহাদের অন্য কোন লক্ষ্য নাই। লক্ষ্য একটি এবং তাহা হইল নিজেদের ভাগ্য আরও স্ফীত করিয়া তোলা। কায়েদে আযম যে আদর্শে পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখিয়াছিলেন, গলাবাজি আর অনবদ্য প্রচারকার্য চালাইয়া একনায়কত্ববাদী শাসনের ছত্রচ্ছায়ায় তাহাকে ধুলায় মিশাইয়া দেওয়া হইয়াছে। তাহারা বিপুল পরিমাণ সম্পদ কেন্দ্রীভূত করার জন্য মরিয়া হইয়া উঠিয়াছেন, কিন্তু ইহার মারাত্মক কুফলের কথা তারা চিন্তাও করিতেছেন না। কারণ তাহাদের আত্মশ্লাঘা, হীনমন্যতা ও নৈতিক অধঃপতনেরও তুলনা নাই। ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আজ ক্ষমতা আঁকড়াইয়া থাকার জন্য ইহারা মরিয়া হইয়া উঠিয়াছে। তারা বহালতরবিয়তে থাকিতে পারিলেই হইল, দেশ এবং দেশবাসীর কথা চিন্তা করার সময় তাহাদের নাই। আমি বলি ইহাই হইল পাকিস্তানের ধ্বংসযজ্ঞ। আর এই ধ্বংসযজ্ঞ হইতে দেশকে রক্ষার জন্যই জাতির আহ্বানে আমি মনোনয়ন গ্রহণের সিদ্ধান্ত করি।
১৯৪৭ সালে যখন বাউন্ডারি ফোর্স গঠন করা হয় তখন আইয়ুবকে লেঃ কর্নেলের পদ হইতে সাময়িকভাবে কর্নেলের পদে উন্নীত করা হয়। তারপর ব্রিগেডিয়ার পদে তাকে সাময়িকভাবে আরও একধাপ প্রমোশন দেওয়া হয় এবং বাউন্ডারি ফোর্সে নিযুক্ত করা হয়। তার এই সময়কার কার্যকলাপ পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি নিকষ কালো অধ্যায়। তার বিরুদ্ধে তখন অসংখ্য জঘন্যতম অপরাধজনক কার্যকলাপের অভিযোগ উত্থাপন করা হয় এবং তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন এবং সম্পূর্ণ বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আনেন। কিন্তু আজ যে অবস্থার সৃষ্টি হইয়াছে তার সবচাইতে পরিতাপজনক বিষয় হইল এই যে, এক্ষণে দেশের প্রশাসনযন্ত্রকে আইয়ুব খানের নির্বাচনী অভিযানে ব্যবহার করা হইতেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ