শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারত ও পাকিস্তান সম্মত

আমরা গৃহে শান্তি চাই, দেশে শান্তি চাই, শান্তি চাই আমাদের উপমহাদেশেও। উপ-মহাদেশ আসলে অনেক দূরের বিষয় নয়। উপমহাদেশের অশান্তির অভিঘাত এসে লাগে আমাদের গৃহেও। উপ-মহাদেশ আসলে অনেক দূরের বিষয় নয়। উপমহাদেশের অশান্তির অভিঘাত এসে লাগে আমাদের গৃহেও। তাই উপমহাদেশে শান্তির বাতাবরণ আমাদের কাম্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে আছে ভারত-পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্ক। এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখা দিলে আমরা খুশি হই। তবে তেমন চিত্র খুবই বিরল। তেমনি একটি বিরল সংবাদ বিবিসি পরিবেশন করেছে নবেম্বরের ২৩ তারিখে।
খবরে বলা হয়, ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য পাকিস্তানের কর্তারপুর গুরুদুয়ারা দরবার সাহিব-এ যাতায়াতের ব্যবস্থা আরও সহজ করতে সীমান্তে নতুন রাস্তা নির্মাণে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লী ও ইসলামাবাদ। দুই দেশই নতুন করিডোর নির্মাণে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। গুরুনানকের ৫৫০তম জন্ম বার্ষিকীকে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো। উল্লেখ্য যে, কর্তারপুর গুরুদুয়ারা দরবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলায় অবস্থিত। সীমান্ত ঘেঁষা এই জায়গাটি শিখদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। ভারতীয় শিখরা প্রতিবছর সীমান্ত পেরিয়ে গুরুনানকের হাতে তৈরি এই পবিত্র স্থানে উপস্থিত হন। ১৫২২ সালে এটি তৈরি হয়। জীবনের শেষ ১৮ বছর এখানেই কাটিয়েছেন গুরুনানক। বর্তমানে শিখ তীর্থ যাত্রীদের পাকিস্তানে যেতে ভিসা প্রয়োজন হলেও তাতে কোনো বাধা নেই। যে কেউ কর্তারপুরের গুরুদুয়ারায় যেতে পারেন।
শিখরা বছরে চারটি অনুষ্ঠানে কর্তারপুরে যান। তবে শিখদেরকে সারা বছর গুরুদুয়ারায় যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এবার একটি রাস্তা নির্মাণে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানানো হয়। পাকিস্তান সে অনুরোধে সাড়া দেয়। দিল্লী জানিয়েছে, ভারতের অংশে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণে পুরো তহবিল তারা দেবে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারাও একই কাজ করছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের ‘শান্তি স্থাপনজনিত প্রচেষ্টার জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আমরাও দেশ দু’টির মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টার বিজয় চাই। চাই এমন প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতাও। কারণ, ওদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে তার একটা সুবাতাস পুরো উপ-মহাদেশেই বইবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ