সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

১৬টি নদ-নদী বিধৌত কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চলে সমস্যা ও সম্ভাবনা

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : জেলার ভৌগলিক অবস্থাঃ কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে লালমনিরহাট জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে গাইবান্দা জেলা, পূর্বে ভারতের বৃহত্তর আসাম রাজ্যে ঘেরা মেঘালয় রাজ্য ও যমুনা নদী এবং পশ্চিমে আবার লালমনিরহাট ও বিভাগীয় জেলা রংপুর অবস্থিত। এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, ব্রক্ষপুত্র, তিস্তা, ঝিন্জিরাম, দুধকুমর, হলহলিয়া, গংগাধর, ফুলকুমর, সোনাভরীসহ করাল গ্রাসি ১৬টি নদ-নদীর বুক চীরে জেগে ওঠা প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির সু-খের বাতির চর, বুড়া-বুড়ির চর, আঁলগার চর, চর খাওরিয়া ও সোনাভরির চরসহ সব চরগুলোতে নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে প্রতি বছর বিভিন্ন রকমের ফসল ফলাচ্ছে স্থানীয় কৃষক। ফসলের মাঠ দেখে আনন্দিত চরাঞ্চলের কৃষক ও বেড়াতে আসা  ড. হোসেন জিল্লুর রহমানসহ কৌতুহলী জনতা। জেলার মোট আয়তন ২২৩৬.৯৪ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে নীট আবাদী জমির পরিমাণ ১ লক্ষ্য, ৬১ হাজার, ৮’শ, ৫৩ হেক্টর। তনমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি জেলার বিভিন্ন চরে। যার প্রায় ৮০ ভাগ জমি এক ফসলি হওয়ায় চরে বসবাসরত পরিবারগুলোর খাদ্যাভাব থেকেই যায়। ক্রমাগতভাবে বাড়তি মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে হয় এই সামান্য আবাদি জমির ফসল দিয়ে। এরমধ্যে প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনতো আছেই। জেলায় বর্তমান মোট জনসংখ্যা প্রায় ২২লাখ।
চলতি মৌসুমে (২০১৮-১৯) কুড়িগ্রাম সদরের উজানে ফুলবাড়ী ও হলোখানা সহ ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, ভাটিতে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা থেকে আরো ভাটিতে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার  মোহনগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এসব চরের অনেক জমিতে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবার চাষ হয়েছে এবং হচ্ছে ভুট্রা, আখ, করলা, পোটল, ঢেঁড়ষ, বড়বটি, বেগুন ও অন্যান্য ফসলসহ পুষ্টিগুনে ভরপুর কলা, মাসকালাই, কাচা মরিচ, ধনিয়া, গুয়েমুড়ি, চিনাবাদাম, সরিষা, তিল, তিসি, সুর্যমূখী ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন প্রকার অর্থকরি ফসল।
চরের জমিতে ভুট্টা, বাদাম, তিল, চিনা, ধনিয়াসহ, বিভিন্ন শাকসবজি, বোরো ধান বীজতলা, আখ, গুয়েমুড়ি,  পেয়াজ, গমসহ নানা ধরনের রবি ফসল ফলানোর জন্য খুবই উপযোগী। বিগত বছর বর্ষা মৌসুমে এই চর গুলো পানিতে ডুবেছিল। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদ-নদীর চরে এখন দেখা যাচ্ছে চোখ ধাধানো বর্ণিল সবুজ ফসল। বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মৌসুমের শুরুতে  কোমর বেধে চরের জমিতে নিরলস ভাবে শ্রম দিচ্ছেন কৃষক-কৃষাণি। এখানকার উৎপাদিত ফসল ভাঙ্গন কবলিত মানুষের শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। তারা ক্ষুধা ও দরিদ্র থেকে মুক্তি এবং সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে জেগে ওঠা চরে  কোমর বেধে নেমেছে। 
খেরুয়ার চরের কৃষক এমদাদুল বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ আমার সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। বন্যায় এক চর ভাঙ্গলেও আমাগো অন্য চরে জেগেছে। নতুন চরে ফসল ভালো হয়েছে। আশা করছি এবারের ফসল দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো। কোদালকাটি চরের আলম মিয়া বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে সবজি, চিনা বাদাম, ধান, গম, ডাল, রসুন, গুয়েমুড়ি, ছিটা পেঁয়াজ, তিল, ধনিয়া মিষ্টি আলু চাষ করেছি।

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়ার চাষ : নদ-নদীর তীরবর্তীর অববাহিকায় ২’শতাধিক চরাঞ্চলের প্রায় অর্ধশতাধিক চরের পতিত বালু জমিতে গতবছর চাষ করা হয়েছে গোল্ডেন ম্যাজিক বল মিষ্টি কুমড়া, চিনাবাদাম ও মসলাজাতীয় বিভিন্ন ফসল। চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার রমনার চরে ইউকেএইড এর অর্থায়ানে ও প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশের সহয়তায় ভুমিহীনদের চাষ করা মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত পরিদর্শন কালে বলেছেন, আমি ঢাকা থেকে এসে নিজেকে অনুপ্রাণিত বোধ করছি, এজন্য যে আমরা যদি শহর গ্রাম দুই পক্ষ থেকেই এগিয়ে এসে সম্ভাবনাটাকে কল্পনার মধ্যে চিহ্নিত করতে পারি। সেই কল্পনার শক্তি দিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা যদি এগিয়ে যাই তাহলে আজকে যেটা এই প্রত্যন্ত অঞ্চল মনে হচ্ছে এটাই কিন্তু উজ্জল বাংলাদেশের অন্যতম একটা গন্তব্য স্থল হয়ে যাবে। এই চরাঞ্চলে সুপার এগ্রিকালচারের বাস্তবতা তৈরি হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাকটিক্যাল এ্যাকশনের হেড অব এক্সট্রিম প্রোভার্টি প্রোগ্রাম নাজমুল ইসলাম চৌধুরী, প্রোগাম ম্যানেজার হাবিবুর রহমান, সংস্থার পুষ্টি কার্যক্রম ম্যানেজার নির্মল চন্দ্র সেন, জেলা সমন্বয়কারী এসএম মোতাক্কাবিরুল হক প্রমুখ।
আলুর ক্ষেতে কৃষকের ব্যস্তসময় : গত বছরের ন্যায় চলতি মৌসুমেও ফলন ভালো আশা করছে চাষিরা। বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেজায় খুঁশি কুড়িগ্রামের আলু চাষি কৃষকরা। চলতি মৌসুমের শুরুতে সার ও বীজের সংকট না থাকায় কৃষকের মধ্যে রয়েছে স্বস্তি। গত কয়েক বছর ফলন ভালো না হওয়ায় বছর জুড়ে আলুর দাম ছিল বেশ চড়া। তাই অধিক লাভের আশায় কুড়িগ্রামের কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষে ঝুঁকে পড়েন। (২০১৬-১৭ অর্থ বছরে জেলার ৭ হাজার ২০৭ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে ৭ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। আলুর ফলন ভালো হওয়ায় উফশী জাতের প্রতি হেক্টরে ২১ মে.টন আলু উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় জাতের আলু হেক্টর প্রতি ১২ মে.টন উৎপাদন হয়েছে। (২০১৭-১৮) অর্থ বছর জেলায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৯ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধাারণ করাহলেও ফলন বাম্পার হওয়ায় তা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১১১ মে.টন আলু উৎপাদিত হয়েছে বলে জানাগেছে। চলতি বছর (২০১৮-১৯) ৫ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষক আবদুস ছাত্তার, নুরুল হক ও মোহাম্মদ আলী জানান- আবহাওয়া অনুকূলে থাকাটা আল্লাহর দান। খারাপ হলে আমাদের করার কিছুই থাকে না। এর আগে গত কয়েক বছর থেকে অনেক টাকা লোকসান গুনেছি। গতবছর ফলন ভাল হওয়ায় ক্ষতি পুষিয়ে ভালই লাভ হয়েছে। আশা করছি এবারেও ভাল ফলন হবে।
 ভেলাকোপা চরের কৃষক হামিদুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে হাইব্রিড গ্যানোলা ও ম্যানোলা জাতের আলু ১১০ থেকে ১২০ মণ, ডায়মন্ড, রুমানা, বট পাগড়ি, লেডিস রোজেটা জাতের আলু ৭০-৮০ মণ, কার্ডিলাল, পাহাড়ি ৬০-৭০ মণ, প্রবিন্ড ৬৫-৭০ মণ এবং দেশি জাতের আলু ৬০-৬৫ মণ উৎপাদন হয়েছে গতবছর। বিঘাপ্রতি আলু উৎপাদন খরচ পড়েছে ৯-১০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে আলুর মূল্য অনেক ভালো।
বাদাম চাষ : বাদাম চাষে খরচ কম লাভ বেশী। তাই জেলার চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে চিনাবাদাম চাষ করেছেন চরাঞ্চলের কৃষকগণ। বিগত বছরের বন্যায় এই চরাঞ্চলের ফসলের অনেক ক্ষতি হলেও বাদাম চাষ করে লাভের আশা করছেন চরাঞ্চলের চাৃষীকগণ। এক সময় এই চরাঞ্চল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও ঘনঘন বন্যার কারণে চরাঞ্চলে পলিমাটি পড়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় চরাঞ্চলের কৃষকগণ চাষাবাদ শুরু করেছেন চরের জমি গুলোতে। শীত মৌসুমে চাষাবাদ হয়েছে রবিশস্য। বেশি লাভের আশায় চরের কৃষকগণ বাদাম চাষ করেছেন। বাদামের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষক আয়নাল হক, সিদ্দিক আলী, আবেদ আলী ও সাহেব আলীসহ সকলে। এছাড়াও আরো অনেক কৃষক জানায় সরকারিভাবে আর্থিক সুবিধা পেলে তারা ব্যাপকভাবে বাদাম চাষ করে দেশে বাদামের ঘাটতি পুরন করে বিদেশে রফতানি করতে পারবে। কৃষক অভিযোগ করে আরো জানান, সরকারিভাবে কৃষি কর্মকর্তা আমাদেরকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য চরাঞ্চলে আসেন না। বাদামের রোগ বালাই নির্ণয়ে আমরা সঠিক পরামর্শ পাই না। কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগীতা পেলে হয়তো আমরা বাদামের চাষের ব্যাপক ফলন ঘটাতে পারব। এছাড়াও সহজ শর্তে কৃষি ঋণের দাবি করেন সর্বস্থরের কৃষকগণ। গতবছর বছর (২০১৭-১৮) বাদামচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৩’শ হেক্টও তা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৬’শ ৯৫ হেক্টর। চলতি বছর অর্তাৎ (২০১৮-১৯) নির্ধারণ করা হয়েছে গতবছরের অর্জিত হেক্টর অর্থাৎ ২ হাজার, ৬’শ ৯৫ হেক্টর জমি।
কৃষি জমিতে মৎস্য চাষ ঃ কুড়িগ্রামে আবাদের পাশাপাশি কৃষি জমিতে মৎস্য চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এ জেলার বেকার যুবকরা। জেলার খাদ্য চাহিদা পূরণ করে এখন তারা স্বপ্ন দেখছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মৎস্য রপ্তানি করতে। কুড়িগ্রামের আবাদি কৃষি নিচু জমিতে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে মাছ চাষ করছেন জেলার হাজারো বেকার যুবক। জেলার রাজারহাট উপজেলার বেকার যুবকরা কৃষি জমিতে মাছ করে স্বাবলম্বী হয়ে মৎস্য চাষে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় এসব মৎস্য চাষিদের পানিতে ভেসে যায় লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ। এতে দারুণভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মৎস্য চাষি কৃষকরা। তারা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারিভাবে কোনো প্রকার আর্থিক সহযোগিতা পাই না। সরকার যেভাবে কৃষির উন্নয়নে নজর দিয়েছে সে তুলনায় মৎস্য চাষিদের আর্থিক সহযোগিতা করলে আমরা মৎস্য চাষ করে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করতে পারতাম। 
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের সাথে কথা হলে, তিনি জানিয়েছেন, যারা জাল বেয়ে মাছ ধরার মধ্যে জীবিকা নির্বাহ করে আমরা তাদেরকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি।
ভুট্রাচাষ ঃ চলতি বছর ভুট্রা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, ৮ হাজার, ৩’শত ৯২ হেক্টর। ২০১৭-১৮ অর্থ গতবছরে নির্ধুারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার, ৭’শ, ৩৫ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮.৯৭ মেট্রিকটন। আবহাওয়া ভাল থাকলে চলতি বছরেও একই হারে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন আশা করছেন চাষি ও কৃষি বিভাগ।
করলা চাষ : জেলায় করলা চাষে রয়েছে উজ্জল সম্ভাবনা। সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী, রাজারহাটের ছিনাই, উলিপুরের বজরা, চিলমারীর রাণীগজ্ঞ এলাকা ও চরাচ্ঞল ঘুরে-ঘুরে দেখা গেছে- উল্লেখিত আবাদের দিগন্তজুড়ে সবুজ ফসলের দৃশ্য। সদরের কাঁঠালবাড়ী এলাকার করলাচাষি আলেফ উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা গেছে- প্রায় ৭/৮ বছর আগেও এতো করলা বা অন্যান্য তরী-তরকারী আবাদ হয়নি। অতি অল্প পরিসরে প্রথম ওই এলাকায় করলা চাষ শুরু করেন তিনি। তার করলা আবাদ দেখে আশে-পাশের আরো অনেকে করলা এবং অন্যান্য তরী-তরকারী আবাদ শুরু করেন। মাত্র ৮/৯ বছরের ব্যাবধানে এখন ওই এলাকায় ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে করলা সহ বিভিন্ন ফসল। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় আলেফ উদ্দিন ২০১৫-১৬ সালে গড়ে ৫৫ হাজার টাকা আয় করেছেন বছরে। গতবছর ভয়াবহ বন্যার কারণে ব্যহত হলেও চলতি বছরেও সমপরিমাণ বা কিছু বেশি টাকা আয়ের আশাবাদি তিনি। ওই এলাকায় প্রায় ২০ একর জমিতে উপশী জাতের করলা চাষ করা হয়েছে। ৭০ থেকে ৮০ জন চাষির আবাদকৃত করলাসহ অন্যান্য তরী-তরকারী স্থানীয় চাহিদা মিটাতে সক্ষম বলেও তিনি দাবি করেছেন, যদি কোন রোগবালাই না হয়।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সভ্যতার শুরুতে বাংলার আবাদ ছিল প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকারের আমলে শাসকদের পুঁজিবাদী মনোভাব ও বাণিজ্যিক স্বার্থে নীল চাষ করতে বাধ্য করতো। অথচ দানাদার খাদ্য ফসলের ব্যাপক চাহিদা ছিল। তারপরও নিপীড়নমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নীল চাষে বাধ্য করায় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা দেয় খাদ্যাভাব। শুরু হয় দুর্ভিক্ষ। এরপর বৃটিশ সরকার এই তীব্র সংকট নিরসনের জন্য গঠন কওে দুর্ভিক্ষ কমিশন। ওই কমিশনের পরামর্শেই এই উপমহাদেশে প্রথম কৃষি বিভাগ চালু হয়। অতপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চুড়ান্ত বিজয়ের পর কৃষির পুনর্জাগরণ ঘটে বলে কৃষি তথ্য সূত্রে জানা যায়। কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে উন্নত বীজ-সার সেচ সুবিধা প্রদানে কৃষিতে এক নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হয়। কৃষিকে আরো গতিশিীল করতে ১৯৮২ সালে সৃষ্টি হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপাতর। যার সূচনালগ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করতে বিশেষ ভ’মিকা পালন করে আসছে। আগামীতে প্রাকৃতিক দৃর্যোগ সহনশীলতা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভুমিকা রাখবে সরকার ও কৃষি বিভাগ এটাই কৃষকের প্রত্যাশা। তবে মাঠে কৃষকদের সাথে কথাবলে জানাগেছে তাদের সকলের জোড়ালো দাবি সুদ-মুক্ত অর্থ সহায়তা এবং বীজ ও সার সঠিক সময় সরবরাহ। জেলার কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ ও সঠিক সময় সার বীজ সরবরাহ করা হলে প্রধান অর্থকরী ফসল ধান ও পাটের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু ভুট্রা, সরিষাসহ তেল ও মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদনের ব্যপক উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ