বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ী দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর

কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র কুঠিবাড়ী -সংগ্রাম

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহের বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ী। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই আসছে শতশত দর্শনার্থী। দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন অফিস আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে আসছেন পিকনিকের জন্য। দেশী-বিদেশী পর্যটকের আনাগোনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ী মুখরিত হলেও আজও জাতীয় ভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে স্বীকৃতি মেলেনি। এদিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বেদখল হতে চলেছে কবি গুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাচারী বাড়ীসহ এর আশপাশের  বেশ কিছু জায়গা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর অন্যমত একটি পর্যটন কেন্দ্র হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর কুঠিবাড়ী। বছরের বেশীর ভাগ সময় এখনে দেশী বিদেশী পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকলেও পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যায় আরো কয়েকগুন। ২২ বিঘা জমির প্রায় চার বিঘার উপর প্রাচীর বেষ্টিত তিনতলা ভবন কুঠি। এর কামরার সংখ্যা ১৮টি। ১৮ কামরায় ৮৩টি জানালা, ১৮টি কারুকার্য খচিত দরজা রয়েছে। এসব কামরায় শতাধিক দুর্লভ ছবি ও কবির ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। কুঠিরের পিছনেও রয়েছে ১টি আকর্ষণীয় লোহার তৈরী পেঁচানো সিঁড়ি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য জীবনের বিরাট অংশের সাথে জড়িয়ে আছে পদ্মা ও গড়াই নদী। এখানেই কবির যৌবনের প্রথম ছোট  গল্পের সূত্রপাত ঘটেছে। শিলাইদহে বসেই রবীন্দ্রনাথ পল্লীর অনুকূল পরিবেশের রূপ দর্শন করে অনর্গল লিখেছেন। এটা ছিল সাহিত্য সৃষ্টির উর্বর স্থান। এখানে বসেই কবি গুরু সোনার তরী, মানব সুন্দরী, উর্বশী, চিত্রা, ক্ষণিকা, গীতিমাল্যের অনেক কবিতা ও গানসহ নোবেল প্রাপ্ত গীতাঞ্জলী এই শিলাইদহে বসেই লিখে ছিলেন।  আর সে জন্যই কবি লিখেছেন ‘আমার জীবনের যৌবনও প্রৌঢ় জীবন সায়াহ্নে সাহিত্য সাধনার তীর্থস্থান ছিল পদ্মা প্রবাহ চুম্বিত শিলাইদহ। কবি এখানে একটানা ১৮৯৯ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারী পরিচালনা করেছেন। এছাড়াও সাহিত্য সাধনার জন্য কবি দূর থেকে বার বার ছুটে এসেছেন শিলাইদহে। সাহিত্য সাধনার কবি কতবার যে শিলাইদহে এসছেন তার কোন হিসাব নেই। ঐতিহাসিক কুঠিবাড়ীর পশ্চিমে রয়েছে কবির সাহিত্য সাধনার এক মহতি নিদর্শন ‘বকুল তলার ঘাট’। এই বকুল তালার পুকুর ঘাটে বসেই বিশ্ব কবি লিখেছেন ‘যে দিন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে’।  বর্তমানে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কুঠিবাড়ী সংরক্ষণের দয়িত্বে রয়েছেন। সরকারিভাবে প্রতি বছর ২৫শে বৈশাখ করি জন্ম জয়ন্তী পালন করা হয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য জীবনের বিরাট অংশের সাথে জড়িয়ে আছে পদ্মা নদী তাই পদ্মা নদীর ঢেউয়ের মত করেই কুঠিবাড়ীর চতুর্পার্শ্বে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কুঠিবাড়ীর সম্মুখে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতীর ফুলের বাগান। কুঠিবাড়ীর মধ্যে পর্যটকদের চলাফেরা সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা রাস্তা।
অপরদিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কাচারী বাড়ীটি বেদখল হতে চলেছে। জানাযায়, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কিছু লোকজন কাচারী বাড়ীর জমি দখল করে বসত বাড়ী তৈরী করে বসবাস করছে। কুঠিবাড়ীতে আগত পর্যটকেরা বলছেন, পর্যটন কেন্দ্র হলেও কুঠিবাড়ীতে আজো নানা সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। কুঠিবাড়ীর লাল-খয়েরী রং পরিবর্তনের ফলে কুঠিবাড়ী তার সৌন্দর্য হারিয়েছে। নানা সমস্যা থাকলেও কুঠিবাড়ীর মনোরম পরিবেশে এসে অনেকেই আনন্দ উপভোগ করছেন। অনতিবিলম্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যবাহী কাচারী বাড়ীটি রক্ষা করা প্রয়োজন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ