বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

মৃৎশিল্পে তৈরি সামগ্রীর কদর বেড়েছে

কুষ্টিয়ায় মৃৎশিল্পে তৈরি সামগ্রীর কদর বেড়েছে। মাটির তৈরি তৈজসপত্রের ব্যাপক চাহিদা থাকায় মৃৎশিল্পে তৈরি সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত ভেড়ামারার  কুমার সম্প্রদায়।
 জানা যায়, কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলার পল্লীতে বেশ কয়েকটি মৃৎশিল্প কারখানায় তৈরি করা হয় মাটির তৈজষপত্রসহ স্যানিটেশন সামগ্রী। দিন বদলের সাথে সাথে মাটির তৈরি সামগ্রীর স্থান দখল করেছে সিলভারের জিনিসপত্র,কাসা-পিতল ও ম্যালামাইন সামগ্রী। আধুনিক এসব সামগ্রীর ব্যবহার বাড়লেও কদর কমেনি মাটির তৈরি জিনিসপত্রের। পরিবেশ বান্ধব স্বাস্থ্য সম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের মৃৎশিল্পে তৈরি সামগ্রীর কদর রয়েছে আগা-গোড়ায়। গ্রাম গঞ্জের মানুষ এখনো ব্যবহার করছে মাটির হাড়ি, পাতিল, মালসা, চাড়ি, হাড়াসহ, মাটির তৈরি সকল তৈজষপত্র। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে, সিলভার ও স্টিলের তৈরি হাড়ি পাতিলে রান্নার চাইতে মাটির জিনিসপাতিতে রান্না করা স্বাস্থ্যসম্মত ও উপকারী। মাটির হাড়িতে রান্না করা ভাত গ্যাসট্রিক ও আলসার থেকে রক্ষা করে। তাই এখনো গ্রাম গঞ্জের অনেক মানুষ মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করছে। গ্রামের মানুষের কাছে মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা এখনো অনেক। মাটির তেরি জিনিসপত্রের চাহিদা থাকায় এ মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত একশতটি পরিবার এর উপর নির্ভর করছে। তারা এখনো তাদের পৈত্রিক পেশাকে টিকিয়ে রেখেছে। সরকার যখন স্যানিটেশন কর্মসূচী শতভাগ নিশ্চিত করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হিমসিম খাচ্ছে। ঠিক সেই মুহুর্তে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলার পাল সম্প্রদায় সাস্থ্যসম্মত স্যানেটারী চাক ও মাটির তৈরি জিনিসপত্র তৈরি করে এলাকায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিরাট অবদান রেখে চলেছে।  পাল সম্প্রদায় প্রতিদিন তৈরি করছে  স্যানিটেশন সামগ্রী, সারা, তাওয়া, রসের হাড়ি, দৈয়ের কুটি, চাড়ি, ঢোকসা প্রভৃতি সামগ্রী। দাম কম ও মাটির জিনিস স্বাস্থ্য সম্মত হওয়ায় এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। মাটির তৈরি তৈজসপত্র তেরি করেই এ জেলায় অনেক কুমার সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এ তৈজষপত্র তৈরি করতে যে ধরনের মাটির প্রয়োজন তা সংগ্রহ করতে না পারায় এসব সামগ্রী তৈরি করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পাল সম্প্রদায়ের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ