বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মন্ত্রী মাওলানা শামসউদ্দিন আহমদ

আজীবন সংগ্রামী, সাধারণ মানুষ তথা শ্রমিক-কৃষকের বন্ধু, অবিভক্ত বাংলার প্রথম মন্ত্রী, কৃষক প্রজা আন্দোলনের নেতা নিখিল বাংলা খেলাফত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবী মৌলভী শামসউদ্দিন আহমদ।
মৌলভী শামসুদ্দিন আহমদের জীবন কর্মবহুল। আজীবন তিনি সাধারণ মানুষের জন্য একনিষ্ঠ  দেশপ্রেমিক, নিঃস্বার্থ সমাজ সেবক। তাঁর ও তাঁর কালের অবদান আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পটভূমি রচনা করেছে। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার প্রতি নিবেদিত প্রাণ এই রাজনীতিবিদের মূল্যায়ণ আজও হয়নি। মৌলভী শামসুদ্দিন আহমদ ১৮৮৭ সালের আগষ্ট মাসে কুমারখালীর সুলতানপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাহতাব উদ্দিন ছিলেন সমাজ সংস্কারক। শামস উদ্দিন আহমদ হুগলী মাদ্রাসা থেকে পাস করে কলকাতায় পড়াশুনা করেন। ১৯১০ সালে কলকাতা কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯১৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও বি.এল ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে কৃষ্ণনগরের জেলা আদালত ও ১৯১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের জুনিয়ার হিসাবে আইন ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু জন্ম যার দেশের আপামর মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য, পেশা তাকে আটকে রাখবে কেন? মৌলভী শামসুদ্দিন আহমদ ১৯২০ সালে 'খেলাফত আন্দোলন'-এ যোগ দেন। এ সময় কুষ্টিয়া জেলাসহ সমগ্র বঙ্গদেশে খেলাফত আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে। এ আন্দোলন ব্রিটিশ শাসন বিরোধী একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়। এই আন্দোলনে তার অগ্রজ মৌলভী আফসার উদ্দিন আহমদও জড়িত হন এবং তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এই আন্দোলনে শামসুদ্দিন আহমদের সাথে এই জেলায় এক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাঁরা হলেনঃ- আফছারউদ্দীন আহমদ, হেমন্ত কুমার সরকার, সাবিত্রী প্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়, সুকুমার বন্দোপাধ্যায়, সোমেশ্বর প্রসাদ চৌধুরী, ফতেহ চাঁদ নাইটা প্রমুখ।  খেলাফত আন্দোলনের অগ্রণী ভারতের 'আলী ভ্রাতৃদ্বয়' এর মতো তাঁদেরকে 'আহমদ ভ্রাতৃদ্বয়' বলা হতো। ১৯২২ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মৌলভী শামসুদ্দিন আহমদ ব্যাপকভাবে রাজনীতি ও সমাজ কর্মে ব্যাপৃত হয়ে পড়েন।
তিনি রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি জনহিতকর কাজ, শিক্ষা-দীক্ষা এবং সাহিত্যের প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন। তিঁনি ১৯৪৬ সালে কুষ্টিয়া কলেজ ও আলীয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন। অবিভক্ত বাংলায় অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্রোহ কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে বিখ্যাত কৃষক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিঁনি।
টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া পর্যন্ত সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা তাঁর মন্ত্রী থাকাকালীন পরিকল্পনা ছিল। এই পরিকল্পনারই অংশ ছিল ঢাকা-আরিচা সড়ক ও চট্রগ্রাম-টেকনাফ সড়ক। আজকের কাপ্তাই বিদ্যুত প্রকল্পও তাঁর মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের পরিকল্পনা। তিঁনি ১৯৬৯ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। কয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ গোরস্থান ময়দানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে পাঁচ পুত্র ও চার কন্যা রেখে যান। তিনি রাজনীতিতে যে আদর্শ রেখে গেছেন তা শ্রদ্ধা ভরে দেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ করবে। সাধারণ কৃষকদের জন্য তিনি কাজ করায় এদেশের কৃষকের হৃদয়ে হাজারো বছর বেঁচে থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ