বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

স্রোতস্বীনি কুমার নদী মৃতপ্রায়

পদ্মা গড়াই বিধৌত জনপদ কুষ্টিয়া। এ জেলার উপর দিয়ে বিস্তার করে আছে নদ-নদী, খাল বিল শাখা নদী। এর মধ্যে কুমার নদী একটি। কুমার নদিিট মাথা ভাঙ্গা নদীর শাখা নদী। এ নদীটি বেশ প্রাচীন। এক সময় পদ্মার মত স্রোতধারা অনেকবার বহন করেছে এ কুমার নদী। হাটবোয়ালিয়া বাজার থেকে মাথা ভাঙ্গা হতে সৃষ্টি হয়ে আলমডাঙ্গার হারদী, বকশিপুর, মাজু, গোস্বামীদূর্গাপুরের ভীতর দিয়ে জামজামী, ঘোষবিলা গ্রামের পাশ ঘেষে এঁকে বেঁকে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকার ভীতর দিয়ে ঝিনাইদহে প্রবেশ করেছে।
ড. ওল্ডহ্যাম ১৮২০ সালে এশিয়াটিক সোসাইটির কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করেছেন যখনই কুমার নদীর উৎসমুখে পলি মটি জমে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে তখনই পদ্মা গড়াই চ্যানেল দিয়ে প্রচুর পানি সরবরাহ করে কুমার নদীকে তাজা করা হয়েছে।  ১৮২০ সালের শেষ দিকে মাথাভাঙ্গা নদীর সব পানি কুমার নদী দিয়ে প্রবাহিত করা হতো।
এক সময় এ কুমার নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকতো। সে সময় নৌকায় চড়ে মানুষ বিয়ে করতে যেত। হরেক রকম রঙে নৌকাকে সাজিয়ে বর ও বরযাত্রীরা যেত কনের বাড়ীতে। মাঝিরা বৈঠার তালে তালে গান গাইতে গাইতে নৌকা চালাতো। তা দেখার জন্য নদীর দুপাশের লোক দাঁড়িয়ে থাকতো। এ নদীতেই আবার নৌকা বাইচও হতো। কুমার নদীতে বাইচ দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসতো।
১৮৬০ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলার তৎকালীন লেফটেনেন্ট গভর্ণর স্যার জন পিটার গ্রান্ট এই কুমার নদী দিয়ে সোনামুখী জাহাজযোগে পাবনা যান। ১৯৭১ সালেও এ কুমার নদীতে পানি প্রবাহের রেকর্ড ছিল ১৩ হাজার ৬৫২ কিউসেক।
বর্তমানে স্রোতস্বীনি কুমার নদ মৃত প্রায়। এ নদীর গতি ধারা আর নেই। বিভিন্ন স্থানে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে স্থাপনা গড়ে তোলা বন্ধ হয়ে গেছে । কুমার নদী হারিয়েছে তার যৌবন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ