বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

যখন কয়লা থাকবে না তেল এবং গ্যাসেও ঘাটতি

আখতার হামিদ খান : ভারতীয় উপমহাদেশে জ্বালানি হিসেবে কয়লার চল শুরু হয় এই তো সেদিন, ব্রিটিশ রাজত্বের সময়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এ দেশে চালু হল রেল গাড়ি। তার জন্যে দরকার বাষ্পচালিত ইঞ্জিন। বাষ্প বলতে জলের বাষ্প। কয়লা পুড়িয়ে উত্তাপ। সেই উত্তাপে বাষ্প তৈরি করা। বাষ্পের সাহায্যে ইঞ্জিন চালান। এর জন্যে ইংল্যান্ড থেকে কয়লা আমদানি করা হত এ দেশে। প্রায় একই সময়ে ভারতীয় কয়লার ব্যবহারও শুরু হয়। শুরু রেল ইঞ্জিনই নয়, ক্রমান্বয়ে গড়ে উঠতে থাকে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠা-যন্ত্র শিল্প, রাসায়নিক শিল্প, অথবা বিদ্যুৎ উৎপাদন, ইত্যাদি। এর পর মোটরগাড়ি, অন্যান্য যানবাহনের চল হল। তার জন্যে দরকার হল খনিজ তেল, সাধারণ অর্থে পেট্রোলিয়াম। অতঃপর জ্বালানি গ্যাসেরও চল হল। শুধু যানবাহন শিল্পেই নয়, কয়লা তেল গ্যাসের চল রান্নাবান্নার কাজেও শুরু হল। কয়লা তেল গ্যাস-এদের বলা হয় জীবাশ্ম জ্বালানি। ভূস্তরের নিচে চাপা পড়ে অরণ্য। লক্ষ লক্ষ  অথবা কোটি বছর ওই ভাবে থাকতে থাকতে তাদের মধ্যে ঘটে রাসায়নিক পরিবর্তন।
উদ্ভিদ পরিণত হয় কয়লার। লক্ষ লক্ষ অথবা কোটি বছর সমুদ্রতলের নিচের ভূস্তরে চাপা পড়ে জলজ প্রাণী এবং জলজ উদ্ভিদ। তারা পরিণত হয় তেল এবং গ্যাস। বলা যায়, তারা প্রাচীন উদ্ভিদ এবং প্রাণীর পরিবর্তিত অবশেষ। তাদের জীবাশ্ম হিসেবে চিহ্নিত করার এটাই কারণ। বলা বাহুল্য, কয়লা তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার পাশ্চাত্য দেশগুলিতে অনেক আগেই শুরু হয়েছিল। তার আগে মানুষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করত প্রধানত শুকনো লতাপাতা এবং কাঠ। পরে জ্বালানি হিসেবে সুযোগমত কয়লা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারও বাড়তে থাকে।
বিজ্ঞান এবং প্রযুিক্তর ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির শুধুমাত্র শক্তি উৎপাদন ছাড়াও আরো একটি  ভূমিকা হয়ে দাঁড়াল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কয়লা তেল গ্যাসের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠল নানা রকম রাসায়নিক শিল্প-কৃত্রিম তন্তু, যেমন নাইলন, টেরেলিন, ইত্যাদি। গড়ে উঠল প্লাস্টিক, বিভিন্ন ধরনের পলিমার; অজৈব সার, কীটনাশক যৌগ, রঞ্জন শিল্প, ইত্যাদি। কাঁচা মাল হিসেবেই নয়, এগুলির জন্যেও দরকার জ্বালানি। যার যোগানদার মূখ্যত জীবাশ্ম জ্বালানি। চাহিদা মেটাতে গিয়ে পৃথিবীর জীবাশ্ম জ্বালানি ভান্ডারের পড়ল টান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সেই টান আরো বাড়ল। শক্তির চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে শুরু করলেন বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদরা।
শক্তির কথাই বলছি। কয়লা, তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মধ্যে উত্তাপ শক্তি সঞ্চিত থাকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে। তাদের পোড়ালেই উত্তাপ শক্তি নির্গত হয়। শুকনো লতাপাতা কাঠ পুড়িয়েও উত্তাপ পাওয়া যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে দুটি মৌলিক সমস্যা। গৃহস্থালি কাজ থেকে শুরু করে কলকারখানার চাহিদা মেটাতে গিয়ে অরণ্যের পরিমাণ দারুণ ভাবে কমে গেছে, কমে গেছে কয়লা, খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সঞ্চয়। অনেকে মনে করেন, যে হারে চাহিদা বাড়ছে এবং পৃথিবীতে এ পর্যন্ত কয়লা তেল গ্যাসের যতটা সন্ধান পাওয়া গেছে, তাতে এক দেড়শ’ বছরের বেশি চলবে না। আশাবাদীরা অবশ্য এটা মানতে রাজি নন। তাঁদের ধারণা, অবিষ্যতে হয়ত আমরা নতুন নতুন সঞ্চয় খুঁজে পাব। তবে করে জীবাশ্ম জ্বালানির যোগান আরো অনেক বছর ধরে দেওয়া যাবে। এ ছাড়া অপর সমস্যাটি দাঁড়াচ্ছে এই, উত্তাপ শক্তি পাওয়ার জন্যে অতিরিক্ত গাছপালা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানর দরুন আমাদের পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়েছে, এবং আরো বেশি করে হারাবে।
বাতাসে বাড়ছে নানা রকম গ্যাস-কার্বন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোকসাইড, সালফারের অকসাইড, নাইট্রেজেনের অকসাইড। যা আবহাওয়ার তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে, ঋতুচক্রে নিয়ে আসেছে পরিবর্তন। ঊর্ধ্বকাশের ওজোন-স্তর হাল্কা করছে। যা ভূপৃষ্ঠে সূর্যের অতিবেগুনী বিকিরণের মাত্রা বাড়িয়ে ক্যানসার প্রভৃতি দুরারোগ্য রোগের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। খনিজ তেলা জ্বলছে হাজার হাজার মোটর গাড়ি এবং যানবাহনে। তা থেকে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত হাইড্রোকর্বন গ্যাসসমূহ। তাই অনেক ব্যাপারেই এখন উত্তাল শক্তির পরিবর্তে বিদ্যুৎ শক্তির চল বেড়েছে।
বিদ্যুৎ শক্তিকে বলা হয় ‘ক্লিন এনার্জি’ বা পরিচ্ছন্ন শক্তি। ঘরে কয়লার উনুন ধোঁয়া পরিবেশ দূষিত করে। পরিবেশ দূষিত করে কলকারখানার বাষ্পচালিত চুল্লি। অতএব ব্যাপারটা যদি এমন করা যায়, ঘরে রান্না হবে বিদ্যুৎ-চুল্লিতে, রেল চলবে বিদ্যুৎ-চালিত ইঞ্জিনেই কলকারখানায় ক্ষেত্রবিশেষ সরাসরি কয়লা তেলের উত্তাপ শক্তি ব্যবহার না করে করা হবে বিদ্যু শক্তি। তেমন ক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের ভয় থাকে না। কয়লা খনি এলাকার কাছে থাকবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেখানেই কয়লা পুড়িয়ে উৎপাদন করা হবে বিদ্যুৎ শক্তি। এবার তারের মাধ্যমে বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যু শক্তি পৌঁছে দেওয়া। তাতে রান্না হবে, আলো জ্বলবে, চলবে গৃহস্থের নানান সাজসরঞ্জাম। রেল চলবে। চলবে কারখানার যন্ত্রপাতি। যেখানে শিল্পসামগ্রী তৈরি করতে গেলে উত্তাপ দরকার সেখানে সেই বিদ্যুৎ শক্তিকেই উত্তাপে রূপান্তরিত করা যাবে। তাতে পরিবেশ থাকবে দূষণমুক্ত।
কথাটি ঠিক। কিন্তু সমস্যাটি থেকেই গেল শেষ পর্যন্ত। বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করতেও তো দরকার জীবাশ্ম জ্বালানি। গত তিরিশ বচরে বিদ্যুতের চাহিদা দারুণ ভাবে বেড়ে গেছে। হুহু করে বাড়ছে। এত বেশি বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করতে গেলে জীবাশ্ম শক্তির ভান্ডারে আর কত দিন চলবে? তা ছাড়া যানবাহন ছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানির সঞ্চিত উত্তাপের অপচয় ঘটে কম। স্টিম ইঞ্জিন সংস্কার করা হচ্ছে। আগে এক কিলো কয়লা পুড়িয়ে যতটা উত্তাপ পাওয়া যেত, তার সামান্য অংশই ইঞ্জিন চলায় সাহায্য করত, অবশিষ্ট উত্তাপ নষ্ট হত। এখন অপচয় কমিয়ে সংগৃহীত উত্তাপের আরো বেশিটা ব্যবহার করা যাচ্ছে। পেট্রোল, ডিজেল প্রভৃতি জ্বালানি তেল-চালিত যানেরও ইঞ্জিন এবং অন্যান্য সাজসরঞ্জামের নকশা পালটে কম জ্বালানিতে বেশি দূর পর্যন্ত যাওয়া যাচেছ। ‘বডি’ এবং অন্যান্য সাজসরঞ্জামের জন্যে তৈরি করা হচেছ হাল্কা বস্তু-প্লাস্টিক বা বিশেষ ধরনের ধাতু-সংকর। এতে-গাড়ির ওজন কমেছে, তেলের সাশ্রয় হচ্ছে।
 ধাতু এবং ধাতু-সংকর বিশেষ ভাবে ‘প্রোসেস’ করে তৈরি করা হচ্ছে বিমানের ইঞ্জিন। যা তুলনায় অনেক হাল্কা। এতে করে বিমানেও আগের তুলনায় জ্বালানি খরচ হচ্ছে কম। এ ছাড়া অত্যন্ত নি¤œমানের কয়লা, যা আগে ফেলে দেওয়া হত, তা থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে জ্বালানি গ্যাস এবং তেল। এই ভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির অপচয় কমান হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অপচয় যাতে আরো কমান যায় তারও চেষ্টা করছেন, বিজ্ঞানীরা। এর ফলে পৃথিবীর জীবাশ্ম জ্বালানির সঞ্চয় দ্রুত নিঃশেষ হওয়া থেকে যে বাঁচবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
আইনস্টাইনের তত্ত্বে উত্তর পাওয়া গেল : চারটে হাইড্রোজেন পরমাণু যখন মিলিত হয়ে একটি হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করে তখন তাদের ভর কিছুটা হ্রাস পায়। হ্রাসপ্রাপ্ত ভর রূপান্তরিত হয় শক্তিতে। সেই শক্তিই হিলিয়াম পরমাণু তৈরিতে সাহায্য করে। যদি হিলিয়াম পরমাণু হাইড্রোজেনে রূপান্তরিত হয় এবং তার ফলে ফিরে পাওয়া যায় চারটে হাইড্রোজেন পরমাণু, সেই হ্রাসপ্রাপ্ত ভর আবার ফিরে পাওয়া যাবে। বলা বাহুল্য, তাঁর এই তত্ত্বই যোগান শক্তির বিকল্প উৎস।
১৯৩৯ সালে ইউরেনিয়াম- ২৩৫ পরমাণুর বিভাজন ঘটিয়ে একাধিক হাল্কা পরমাণু সৃষ্টি করলেন জার্মান বিজ্ঞানী অটো হান। এই বিভাজনের সময় ইউরেনিয়াম- ২৩৫ পরমাণু থেকে নির্গত হল প্রচুর পরিমাণ শক্তি। যাকে বলা হয় পারমাণবিক শক্তি।
সামান্য পরিমাণ ইউরোনিয়াম থেকে যে কত বেশি শক্তি উৎপাদন সম্ভব তার সাক্ষী হয়ে রইলো হিরোসিমা এবং নাগাসাকি। কলঙ্কের সাক্ষী সন্দেহ নেই, কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে প্রকৃতির এই বিপুল শক্তি মানবকল্যাণের কাজে লাগানর জন্যে তৎপর হয়ে ওঠেন বিজ্ঞানীরা। ১৯৫০ এর দশক থেকে তৈরি হল একটির পর একটি পারমানবিক শক্তিকেন্দ্রজ্জবিদ্যুৎ শক্তির বিকল্প উৎস হিসেবে। সুখের কথা, এ ব্যাপারে ভারতও পিছিয়ে রইলো না। এ দেশেও গড়ে উঠল একের পর এক পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র প্রথমে তারাপুরে, পরে রাজস্থানের রানাপ্রতাপ সাগরে, তার পর মাদ্রাজের অনতি দূরে কলপক্কমে। আশা করা যায়, আগামী দু এক বছরের মধ্যে উত্তর প্রদেশের নারোরায় চালু হবে আরো একটি কেন্দ্র। ভারতীয় পারমাণবিক শক্তি কমিশনের বক্তব্য, ২০০০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে যাতে পারমাণবিক শক্তির সাহায্যে ১০০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়, তেমন লক্ষ্যের কথা ভেবে এখন তাঁরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু, এ ধরনের শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা এখন আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই, পুরোটাই বাণিজ্যভিত্তিক, তাই পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রগুলিকে এখন শক্তির প্রচলিত বিকল্প বলা যায়।
এ প্রসঙ্গে দু একটি কথা বলা প্রয়োজন। পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রগুলির বিপক্ষে বড় দুটি অভিযোগ এই: (এক) এ ধরনের শক্তিকেন্দ্র তৈরিতে খরচ অনেক। (দুই) নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় এতটুকু খুঁত থাকলে এইসব শক্তিকেন্দ্র থেকে বিমুক্ত পারমাণবিক জঞ্জাল প্রাণী এবং উদ্ভিদের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। বাস্তবতার দিক থেকে খরচ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আশা করা যায়, বিজ্ঞানীদের চেষ্টায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায়, নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সব চেয়ে বড় সমস্যা হল জ্বালানি পারমাণবিক জ্বালানি। এবং আপাতত ইউরেনিয়াম। পৃথিবীর গুটিকয় দেশ ছাড়া অন্যত ইউরেনিয়াম পাওয় যায় না। ভারতে কিছু পরিমাণ ইউরেনিয়াম আছেজ্জবিহারের যদুগোড়ায়। তাও পরিমাণে খুবই কম। অসম এবং বিহারের কোন কোন জায়গায় কিছুটা ইউরেনিয়ামের সন্ধান মিলেছে। তবে তার পরিমাণ যে কত সেটা জানা যায়নি। সে যাই হোক, সে ভান্ডারও তো আর চিরকালীন হতে পারে না। এক সময়ে তাও নিঃশেষ হয়ে যাবে। তখন? বিদেশ থেকে আমদানি? তাও তো নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর। আমদানিকারী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে বিদেশ থেকে ইউরোরিয়াম সংগ্রহ বন্ধ। এ ছাড়া বিদেশের ভান্ডারও অফুরন্ত নয়। এমন অবস্থায় শুধুমাত্র বিভাজনচুল্লি বা fission reactor এর উপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ সমস্যা মিটবে নিশ্চয় তা কেউ বলবেন না।
প্রচলিত বিকল্পের মধ্যে জলবিদ্যুৎ অবশ্য পড়ে। মজার ব্যাপার এই, মানব সভ্যতায় জলবিদ্যুতের ব্যাপারটা কিন্তু এসেছে অপ্রত্যক্ষ কর্মসূচী হিসেবে। পৃথিবীর কোন কোন অঞ্চলে দেখা দেয় বন্যা। বন্যায় প্লাবিত হয় চাষের ক্ষেত এবং জনপদ। কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়, মারা যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী। বন্যার প্লাবন থেকে এসব বাঁচাতে তৈরি হল বাঁধ। বাঁধ তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল এটাই। পরে দেখা গেল, বাঁধে আটকান বন্যার জল বছরের অন্য সময় খাল কেটে চাষের জমিতে বিতরণ করা যায়। নিষ্ফলা জমিকে করে তোলা যায় সুফলা।
ভবিষ্যতের ভরসা : ১৯৭২ সালের পর থেকে যথেষ্ট গুরুত্ব নিয়ে শক্তি উৎপাদনের জন্যে নানা রকম বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা এবং উদ্ভাবনার কাজ চলছে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই। এ ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। ইতিমধ্যে কোন কোন পদ্ধতি বাণিজ্যিক হিসেবেও চালু হয়েছে; এবং কোন কোন পদ্ধতি আগামী দশ বছরের মধ্যে হয়ত চালু হয়ে যাবে। কয়েকটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করলাম:
এক। ফোটোভোন্টেটইক। এই পদ্ধতিতে সিলিকন সৌর-কোষের সাহায্যে সৌর শক্তিকে সরাসরি রূপান্তরিত করা হচ্ছে বিদ্যুৎ শক্তিতে। যেসব অঞ্চর দুর্গম, যেখানে তার টাঙিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহন সম্ভব নয়, অথবা যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ সে অঞ্চলের কোথাও কোথাও ইতিমধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ঘরে বিদ্যুতের আলো, টেলিভিশন, রেডিও, জলের পাম্প এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় কাজে লাগান হচ্ছে এই বিদ্যুৎ। ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনার কথাও ভাবা হচ্ছে, মহাকাশে স্থাপন করা হবে বড় বড় স্টেশন। সেখানে বসান হবে সৌর-কোষের বড় বড় প্যানেলে। তারা সৌর শক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করবে। সেই বিদ্যুৎ মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে আসবে ভূপৃষ্ঠে। মাইক্রোওয়েভ বাহিত শক্তি রূপান্তরিত হবে বিদ্যুৎ। এই পদ্ধতিতে বিদ্যুতের যোগান বহুগুণ বাড়ানো যাবে।
আসলে শক্তির বিকল্প উৎসের ব্যাপারে নানা রকম পদ্ধতি নিয়েই গবেষণা এবং উদ্ভাবনায় নেমেছেন বিজ্ঞানী এবং কুশলীরা। তাঁদের সাফল্যের উপরই নির্ভর করছে আমাদের শক্তি সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ