সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

মৎস্য ও বনায়নে সফলতা পেয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ী যুবক বিধু ভুষণ

রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: রাঙ্গুনিয়ার দূর্গম পদুয়া ইউনিয়নে ফলাহারিয়া গ্রামে মৎস ও সামাজিক বনায়ন করে সফলতা পেয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ী যুবক বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী। এসএসসি পাশ করার পর দীর্ঘদিন বেকার জীবন অবসান ঘটিয়ে বিধু মৎস ও বাগান করার পরিকল্পনা নেন। শুরুতে একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। পর্যায় ক্রমে তিনটি পুকুরে মাছ পালন এবং তিন একর পতিত পাহাড়ি ভূমিতে হাজার হাজার বিভিন্ন জাতের গাছের চারা সৃজন করেন। বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী এলাকার যুব সমাজকে অধঃপতন থেকে রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ভুলে সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হন। তিনি মাছ চাষ, ফলজ-বনজ বনায়ন সহ বিভিন্ন ধরনের আত্মকর্মসংস্থান মূলক কর্মকান্ড, বাল্যবিবাহ, মাদক প্রতিরোধ ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত হন।  ২০১২ সালে সফল মৎস চাষী ও ২০১৮ সালে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে পুরস্কার সহ সম্মাননায় ভূষিত হন। এলাকায় যুবকদের মাঝে মাদকের বিস্তার, বাল্যবিবাহসহ সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে এলাকার যুবকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি এসব বন্ধে সচেতনতামূলক নানা কর্মকান্ড পরিচালনায় দায়িত্বে আছেন। উপজেলা মৎস সম্প্রাসারন প্রতিনিধি হিসেবে বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী পদুয়ায় কাজ করছেন।

বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী বলেন, পদুয়ার মৎস খামারী মো. এরশাদ মাহমুদ এর সফলতা দেখে আমি উৎসাহিত হয় এবং ২০০৯ সালে যুব উন্নয়ন থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে রাঙ্গুনিয়া যুব উন্নয়ন অফিস থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন সহ আমার গচ্ছিত ২০ হাজার টাকা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। প্রথম বছরে মাছ চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। মাছ চাষের প্রতি আরো বেশী আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এক একর ১টি, পঞ্চাশ শতক ১টি ও তিরিশ শতক ১টি পুকুরে রুই, কাতলা, সরপুটি, মৃগেল, পাঙ্গাস, কার্প সহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ হচ্ছে। মৎস খাত থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে ২ লাখ টাকা উপরে লাভ হচ্ছে। ৩ একর পাহাড়ি ভূমিতে রোপিত আকাশমনি, গামার সহ বিবিধ প্রজাতির প্রায় ৪ হাজার গাছ পরিপক্ক হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দী তাঁর আয়ের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করছেন মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে। মৎসচাষীরা জানান, অল্প পুঁজিতে মাছের চাষ করে আলোর মুখ দেখছেন খামারীরা।  পদুয়া ছাড়াও শিলক, কোদালা ও সরফভাটা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের লোকজন উৎসাহী হয়ে তারাও গড়ে তুলেছেন মাছের খামার। তাতে যুক্ত হচ্ছে গ্রামের শিক্ষিত বেকার শ্রেণীর লোকজন। তাই শতশত শিক্ষিত বেকার এখন মাছ চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন আনায়াসে। চাকুরি না খুঁজে নিজেরাই এখন চাকরি দিচ্ছেন মাছের খামারে। কেউ পাহারাদার কেউ বা মাছ ধরার শ্রমিক কেউ তা হাটে নিয়ে বিক্রি করে মুনাফা গুনছেন। এভাবে স্থানীয় লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মাছ চাষ করে সাবলম্বী হচ্ছেন। ফলে তরুণদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রতিযোগিতামূলক মাছ চাষের হিড়িক।  উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খায়রুল আলম বলেন, বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দীর সাফল্য অনেক যুবককে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করছে। গত ১০ বছর যাবত যুব উন্নয়নের সার্বিক তত্বাবধানে মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তাঁর কর্মকান্ড এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে যুব দিবসে উপজেলার শ্রেষ্ঠ হিসেবে বিধু ভূষণ মুৎসুদ্দীকে ক্রেষ্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ