শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিলুপ্তির পথে লাল শাপলা

খুলনা : দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জলাশয়ে বিলুপ্ত প্রায় লাল শাপলা...

খুলনা অফিস : দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জলাশয়ে বিলুপ্ত প্রায় লাল শাপলা। নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আকর্ষণ সবার চেয়ে বেশী। বর্ষা মওসুমের শুরুতে এ ফুল ফোটা শুরু হয়ে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত বিল-ঝিল জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। আবহমান কাল থেকে শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় সবজি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এক সময় খালে-বিল ও বদ্ধজলাশয় বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা জন্মাত। তবে ৯০ দশকের পরবর্তীতে সময় খুলনার কয়রাসহ পাশ্বর্তী উপজেলা গুলোতে ব্যাপকভাবে লবণ পানিতে চিংড়ি চাষ শুরু হলে বিলুপ্ত হতে থাকে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ। ছোটদের কাছে শাপলা ফুল একটি প্রিয় খেলনার পাশাপাশি অনন্ত সৌন্দের্য্যর আকর্ষণ। ৬ নং কয়রা গ্রামের আমজাদ হাওলাদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, দুই দশক আগেও বর্ষাকাল থেকে শরৎকালের শেষ ভাগ পর্যন্ত বিল এলাকায় বিলের পর বিল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত নয়নাভিরাম রক্ত শাপলা বা লাল শাপলা। বর্ষার শুরুতে শাপলার জন্ম হলেও হেমন্তের শিশির ভেজা রোদমাখা সকালের জলাশয়ে চোখ পড়লে রং-বেরঙের শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। মনে হত কোনো এক সাজানো ফুল বাগানের মধ্যে ¯্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছি। এদৃশ্য চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। ওইসব লাল শাপলার বিলে ছুঁটে আসতেন প্রকৃতি প্রেমীরা। অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বিক্রি করতো। বর্তমান সভ্যতায় বাড়তি জনগণের চাপের কারণে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে বিলের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি শাপলা জন্মানোর জায়গাও কমে আসছে। পাশ্ববর্তী উপজেলাসহ পাইকগাছাতে লবণাক্ত প্রভাবে বিলুপ্ত প্রায় লাল শাপলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম মিজান মাহমুদ বলেন, সাধারণত শাপলা তিন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সাদা, বেগুনী (হুন্দি শাপলা) ও অন্যটি লাল রংয়ের। এরমধ্যে সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। শাপলা খুব পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। কপোতাক্ষ কলেজের অধ্যাপক আবম আ. মালেক বলেন, ঐতিহাসিক কাল থেকেই শাপলার ফল (ঢ্যাপ) দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ ভাজার রেওয়াজ আছে। যেটি গ্রামগঞ্জে ঢ্যাপের খৈ বলে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে (রাউজোম) আঞ্চলিক ভাষায় শালুক বলে। নবেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিল-ঝিল-হাওড়-বাঁওড়-পুকুরের পানি যখন কমে যায় তখন শালুক তুলে খাওয়া হত, তা খেতেও বেশ সুস্বাদু এবং আমাশয়ের জন্য এটি খুবই উপকারী। কয়রা উপজেলা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অদ্রিশ আদিত্য মন্ডল বলেন, সরকারিভাবে উদ্যোগ না নিলে দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত ভূমি ও জলাশয় থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ঔষধি গুণ সমৃদ্ধ লাল শাপলাসহ অন্যান্য উদ্ভিদ। এ জন্য সকলকে এগিয়ে আশা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ