শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

চলনবিল এলাকার শুটকী মাছ শিল্পে ধস

তাড়াশ : রোদে শুটকী শুকানো হচ্ছে

শাহজাহান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে : কয়েক বছর আগে ও আশি^ন কার্তিক মাসে চলনবিল এলাকার বাতাসে ভাসতো শুটকী মাছের গন্ধ। এ সময় মাছ শুকানোর কাজে সারা দিন ব্যস্ত থাকতেন শুটকী শিল্পের সাথে জড়িত শত শত নারী পুরুষ শ্রমিক। কালের বিবর্তনে মাছের যোগান কমে আসায় এ শিল্পে ভাটা পড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে এ শিল্পের পরিধি একেবারেই কমে এসেছে। কাঁচা মাছ সংকটের কারণে অনেক শুটকী ব্যবসায়ী চলতি মৌসুমে এ ব্যবসা শুরুই করতে পারেন নি। হাতে গোনা কয়েকটি চাতালে চলছে মাছ শুকানোর কাজ।

এ বছর আশি^নের শেষ দিকে এসে চলনবিলের নদী খাল বিলের পানি দ্রুত কমে যায়। অন্যান্য বছর এসময় প্রচুর মাছ ধরা পড়লেও এ বছর তার ব্যতিক্রম। যে যৎসামান্য মাছ ধরা পড়ছে তা এ এলাকার জেলেরা অধিক দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। চলনবিল এলাকার অন্যতম মাছের আড়ত মহিষলুটিসহ অন্যান্য আড়ত হাট বাজার থেকে কাঁচা মাছ কিনে ব্যবসায়ীরা তা সরবরাহ করছেন ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায়।

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ রচিত চলনবিলের ইতিকথা গ্রন্থ সূত্রে জানা যায়, এককালে চলনবিল রাজশাহী জেলার নাটোর মহকুমার তিন চতুর্থাংশ, নওগা মহকুমার রানীনগর ও আত্রাই থানা এবং পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমা ও সদরের চাটমোহর ফরিদপুর ও বেড়া এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বগুড়া জেলার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অঞ্চল ও চলনবিলের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৯১৪ সালে সারা-সিরাজগঞ্জ রেল লাইন স্থাপিত হবার পর চলনবিল দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এখন এ রেল লাইনের উত্তর পশ্চিমাংশকেই চলনবিল বলা হয়।

এসব নদ নদী খাল বিলে এক সময় প্রচুর পরিমাণে কৈ, মাগুর, বাঁচা, রুই, কাতল, বাটকে, মৃগেল, বাউশ, আইড়, রিটা, বাঘাইর, শিলং, চিতল, ফলি, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, গলশা, বাইম, গুচি, শৈল, গজার, টাকি, নদই, শিং, খলিশা, পুটি, চিংড়ি, কাকলা, কালবাউশ, ফাতাশী, বাশপাতা, মৌসি, রায়াক, শিলং, চ্যাং, চাঁদা, চেলা, চাপিলা, গাগর, ভূল, গুজ্যা, বৌমাছ পাওয়া যেত। জেলেরা খড়া, জগতবের, বাদাই, চাপরা, হাতপাচি, সাংল্যা, দোড়া, খলশুনি, খেয়াজাল, পলো, বড়শি, ঠুশি, সাটিজালসহ বিভিন্ন ধরণের মাছ ধরার উপকরণের সাহায্যে মাছ ধরতো। তখন অভাব কি জিনিষ বুঝতোনা জেলেরা। বর্ষাকালে মাছ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দিত তারা। উদ্বৃত্ত মাছ শুটকী করতো। 

উত্তরাঞ্চলের সৈয়দপুর, নিলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানো হতো শুটকী মাছ। কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে চলনবিলের বাতাসে ভাসতো শুটকী মাছের গন্ধ। কালের বিবর্তনে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই এখন বিলুপ্তির পথে।

নাটোরের বনপাড়া-সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল সড়কের মহিষলুটি এলাকায় রাস্তার পাশের শুটকী চাতালে অস্থায়ী তাঁবু জাতীয় ঘরে সম্প্রতি কথা হয় নারী শুটকী শ্রমিক আসমা ও মাজেদা খাতুনের সাথে। 

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও চাটমোহরে কর্মরত সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “অন্যান্য বছর চলনবিলের পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশিত হলেও এ বছর তা দ্রুত নিষ্কাশিত হওয়ায় এবং কয়েক দিনের মধ্যে বিল থেকে পানি নেমে যাওয়ায় অন্যান্য বছরের মতো মাছ ধরা পড়ে নি। তা ছাড়া আশ্বিনের শেষে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পানি দ্রুত নামলেও মাছ ধরতে পারে নি জেলেরা। ফলে মাছ শুটকী করা ও সম্ভব হয়নি”।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ