শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকাংশ ওষুধই ব্যর্থ হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার: অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের মানুষ ও প্রাণিকে সুপার-বাগের হুমকির সম্মুখীন হতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদিরা। এন্টিবায়োটিক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই এই ব্যাকটেরিয়ার (সুপার-বাগ) সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকাংশ ওষুধই ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলেন, আগামীতে বাংলাদেশসহ বিশে^র অনেক দেশকে এই এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার চ্যালেঞ্জ চরমভাবে মোকাবেলা করতে হবে। 

গতকাল শনিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত “এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ‘সুপার-বাগ’ : ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য”-শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।  ঢাবি’র ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডীন প্রফেসর এ বি এম ফারুক-এর সভাপতিত্বে উক্ত গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনার  সূত্রপাত করেন ডা. ফারিজা ফাইরোজ। বক্তব্য রাখেন পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শক ডা. মু. মুশতাক হোসেন, বি সি এস আই আর –এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. কে এম ফরমুজুল হক, পবা’র সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, বানিপা’র সভাপতি প্রকৌ. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, পবা’র সদস্য মুস্তারি বেগম, এলিজা রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বর্তমানে একটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এন্টিবায়োটিক হচ্ছে এমন একটি ঔষধ যা দ্বারা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনজনিত রোগের চিকিৎসা করা হয়। এই সকল ঔষধের প্রতি যখন ব্যাকটেরিয়া আর সংবেদনশীল থাকে না তখনই এন্টিবায়োটিক ওই ব্যাকটেরিয়াটির বিরুদ্ধে অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনজনিত রোগের চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে খুবই সাধারন ইনফেকশন-সংক্রমন-এর চিকিৎসাও জটিল হয়ে পড়ে। সারাবিশ্বে এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা এখন একটি বৃহৎ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের প্রতি একটি ক্রমবর্ধমান গুরুতর হুমকি। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কেবলমাত্র ইউরোপেই প্রতি বছর ৩৩,০০০ মানুষ এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতার কারনে মৃত্যুবরণ করে। গবেষকদের ভাষ্যমতে, এই অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, যদি এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতাকে রোধ না করা যায়। যদি এভাবেই এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতার হার বৃদ্ধি পেতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে অতি সাধারন রোগেও মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।

এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতার কিছু কারন হিসেবে বক্তারা বলেন, অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক সেবন করা, রেজিস্টার্ড স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ ব্যতিরেকে ভুল এন্টিবায়োটিক সেবন করা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ অনুযায়ী কোর্স সম্পন্ন না করা, এন্টিবায়োটিক-মিশ্রিত পশুখাদ্য এবং পোলট্রি-ফীড গ্রহণকারী প্রাণির মাংস খাওয়া,পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে এন্টিবায়োটিক ঔষধ শেয়ার-ভাগাভাগী করে নেয়া, প্রেসক্রিপশন ব্যতিরেকে এন্টিবায়োটিক ঔষধ জনসাধারণের নিকট বিক্রয় করা। তারা বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা এন্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য সাধারণ ঔষধের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারেন না, যে কারণে তারা অনেকসময় নিজের অজান্তে-অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করে থাকেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ