বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

এ্যাডঃ গাজী এনামুল হকের এবং যশোর-৬ আসন থেকে মোক্তার আলীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

গাজী এনামুল হক মোক্তার আলীর

যশোর সংবাদদাতাঃ বিশিষ্ঠ আইনজীবী ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী এনামুল হক যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গাজী এনামুল হক মনিরামপুরের গণমানুষের কাছে এক প্রিয় নাম। ১৯৫৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মনিরামপুর থানার ১ নং  রোহিতা ইউনিয়ন পট্রি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 

ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে নাম লেখানোর মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের শুভ সূচনা। ১৯৬৮ সালে ঝিকরগাছা বি.এম হাই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ছাত্র ইউনিয়ন স্কুল শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সরব উপস্থিতি ছিল গাজী এনামুল হকের যা চোখে পড়ার মত। সে কারণেই পাকিস্তান পুলিশের হাতে একাধিক বার শারীরিক নির্যাতনের শিকারও হন গাজী এনামুল হক।

এরপর ১৯৭১ সালে দেশব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এনামুল হক। বয়সে ছোট থাকার কারণে মুক্তিসেনাদের তথ্য আদান প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য আদান-প্রদানকালে ঝিকরগাছার কায়েমকোলা বাজার থেকে ফেরার পথে ঝিকরগাছায় পাক হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং প্রচন্ড আকারে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। 

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আধিপত্যবাদী ভারত যখন এদেশের সম্পদ লুন্ঠনে ব্যস্ত ঠিক তখনই ছাত্রদেরকে সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। পরবর্তী সময়ে জাসদ গঠিত হলে জাসদের রাজনীতিতে নিজের নাম লেখান এবং আধিপত্যবাদীদের বিরুদ্ধে মেজর জলিলের ডাকে সাড়া দিয়ে সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে গণবাহিনীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় গাজী এনামুল হক গণবাহিনীর মনিরামপুর এবং ঝিকরগাছা থানার দায়িত্ব পালন করেন। 

'৭৫ এর পট পরিবর্তনের পরে রাজনৈতিক চিন্তা ধারায়ও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় গাজী এনামুল হক এর। এ সময় ইসলামী ভাবধারার রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করাকালীন ইসলামী ছাত্র আন্দোলনে জড়িয়ে যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন শাস্ত্রে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে ১৯৯১ সালে যশোর জজ কোর্ট এবং ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসাবে যোগদান করেন। অদ্যবধি সেই পেশায় ব্যস্ত থেকে মনিরামপুরের গণ মানুষের পাশে তাদের সুখে-দুঃখে নিরন্তর সময় দিয়ে   চলেছেন গাজী এনামুল হক। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে কেশবপুর আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং বিগত উপজেলা নির্বাচনে মনিরামপুর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও সরাকারের কারচুপির কারণে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করেন। তিনি বাংলা একাডেমির সদস্য, কোরআন স্ট্যাডি ফোরামের পরিচালক, যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, যশোর অপরাধ সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির আজীবন সদস্য, ডাঃ মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সহিত সক্রিয়ভাবে জড়িত। গাজী এনামুল হক একজন প্রতিষ্ঠিত কবি, গীতিকার ও লেখক। তার লেখা সাহিত্যের উপরে ৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বিশিষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করে আসছেন। আগামীতে একটি পরিবর্তনশীল, সুখী, স্বনির্ভর ও আধুনিক মনিরামপুর গড়ার লক্ষে তিনি সুখে-দুঃখে মনিরামপুরবাসীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোঃ মোক্তার আলী যশোর-৬  (কেশবপুর) আসন থেকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে তিনি এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। 

 শিক্ষা, পেশা ও সামাজিকভাবে বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী অধ্যাপক মোক্তার আলী ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা মজলিসের শুরার সদস্য। ১৯৮১ সালে ইংরেজীতে মাষ্টার্স পরীক্ষায় ২য় শ্রেণীতে ১মস্থান অধিকার করেন তিনি। ১৯৮৪ সালে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েও সেখানে যোগদান না করে ১৯৮৩ সালে একটি কলেজে ইংরেজি শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ২৮ বৎসরের শিক্ষাজীবনে অসংখ্য গুণধর ছাত্র কর্মকর্তা তৈরির পর ২৮ বছর পর ২০১৭ সালে তিনি কেশবপুর কলেজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বহু সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী হিসাবে অধ্যাপক মোক্তার আলী অংশগ্রহণ করেন। ২০০৭ সালে স্থগিত হওয়া নির্বাচনে তিনি চারদলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তিনি বিশিষ্ঠ লেখক ও স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ। ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যের উপর তার রচিত বই সংখ্যা ২০ টির অধিক। তার ৩টি কাব্যগ্রন্থ ও ১০টি ইসলামী বই প্রকাশের পথে। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সাথে জড়িত থাকার কারণে সর্বমহলে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ