সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে কার নির্দেশনায়?

 

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেশবাসীর কাম্য। কারো আচরণে নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ। নির্বাচনের ব্যাপারে কোন খারাপ খবর তারা শুনতে চায় না। তবে মাঝে মাঝে পত্র-পত্রিকায় এমন খবর পাওয়া যায় যাতে তারা শংকা বোধ করেন। এ প্রসঙ্গে ১৭ নবেম্বর প্রথম আলো পত্রিকায় মুদ্রিত একটি খবরের কথা উল্লেখ করা যায়। ‘পুলিশের ফোনে বিব্রত নির্বাচন কর্মকর্তারা’ শিরোনামে মুদ্রিত খবরটিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। বিশেষ করে তাদের বর্তমান ও অতীত রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি ও আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা চাওয়া হয়। সেই তালিকা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেন। তবে পুলিশ এভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না।

পুলিশের ওই তথ্য সংগ্রহ তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যেদিন তফসিল ঘোষিত হয়েছে সেদিনই ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি বিশেষ কোন দলের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার। পুলিশের ভূমিকা রাখার কোন সুযোগ নেই। ইসি নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। এ বিষয়ে ইসি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোন ধরনের নির্দেশনা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ফলে প্রশ্ন জাগে, পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে কার নির্দেশনায়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ