রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

১৪১ বছরের ইতিহাসে মুশফিকের বিশ্ব রেকর্ড

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : বাংলাদেশর টেস্ট একাদশে দুজন উইকেটকিপার। কিন্তু তাতে কি! ভরসা যে কেবলই মুশফিকে। তা না হলে দেশের দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংস খেলার ক্লান্তি কিছুটা হলেও মুছতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। ৫৮৯ মিনিট ব্যাটিং করে ২১৯ রানের হার না মানা ইনিংস খেলার পরও ঠিক প্যাড-কিপিং গ্লাভস পরে নেমে গেলেন। এই নামাটাই সব কীর্তিমান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের মুশফিকের পেছনে পড়ে যাওয়ার প্রতীকী ছবিও। আপাতত খুব বেশি পেছনে যাওয়ার দরকার নেই। দু’জনের নামই নেওয়া যাক, কুমার সাঙ্গাকারা ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। এদের প্রথমজনের ১১টি টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরির একটিই শুধু এই দ্বৈত ভূমিকায় করা। আর টেস্টে পরেরজনের ডাবল সেঞ্চুরিই তো একটি। তাই যখন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৪০৭ বলে জিম্বাবুয়ের বিরদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে দুইশ’ ছুঁলেন মুশফিক, তখন একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে ইতিহাসেও লেখা হয়ে গেল তার নাম। বিশ্বরেকর্ডের পাতায় নিজের নাম টুকে নেওয়া মুশফিকের গলায় শোভা পেল আরো কত কীর্তির ফুলে ফুলে গাঁথা অদৃশ্য এক মালাও! যে মালার একেকটি ফুল আলাদা একেকটি রেকর্ডও। সব নিজের করে নেওয়ার দিনটি বাংলাদেশেরই হবে, তাতে আর আশ্চর্যের কী! আগের দিন মমিনুল হকের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে গড়েছিলেন বাংলাদেশের সেরা ২৬৬ রানের পার্টনারশিপ। নিজের দিনটিতে তার ডাবল সেঞ্চুরির পথে বিশ্বস্ত সহযোগী মেহেদী হাসান মিরাজকে (৬৮*) নিয়ে গড়া অবিচ্ছিন্ন ১৪৪ রানের পার্টনারশিপও অষ্টম উইকেটের সেরা। এমন আরো কত রেকর্ড ওলটপালট করে দেওয়া ব্যাটিংয়ে মুশফিক যেই না সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেললেন, তখনই ৭ উইকেটে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দেন অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ। সেটিই খুব স্বাভাবিক। এত রান জমা করার পর নিশ্চয়ই আরেকবার ব্যাটিংয়ে নামতে চাইছে না বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে সিলেট টেস্টে ১১ উইকেট নেওয়া তাইজুল ইসলাম শুরুও করেছেন সেই কাজ। ওই একটি উইকেটই হারিয়ে ২৫ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।
আর স্বাগতিকদের দ্বিতীয় দিনের শুরু দেখে বোঝাই যায়নি যে রেকর্ডের মাল্যে সাজতে চলেছেন মুশফিক। ১১১ রান নিয়ে শুরু করা এই ব্যাটসম্যান প্রথম ঘণ্টায় করেছেন মোটে ৪ রান! দ্বিতীয় দিনে মুখোমুখী হওয়া ৫৬তম বলে মেরেছেন প্রথম বাউন্ডারি। উইকেটে সবুজ ঘাস থাকায় এদিনও জিম্বাবুয়ের পেসাররা সুবিধা পাচ্ছিলেন। তাই ভীষণ সাবধানী মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহর জুটি প্রথম ঘণ্টা পার করে দেন ১৪ ওভারে মাত্র ২২ রান তুলে। পরের ঘণ্টায় ওঠে ৪০ রান। সব মিলিয়ে প্রথম সেশনে ৩০ ওভারে ৬২ রান। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই কাইল জার্ভিসের অফস্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে না দিয়ে ব্যাট বাড়িয়ে বিপদে পড়েন মাহমুদ উল্লাহ (৩৬)। সিলেট টেস্টে স্বাগতিক দলের সফলতম ব্যাটসম্যান আরিফুল হকও (৪) দ্রুত অনুসরণ করেন অধিনায়ককে। জার্ভিসকে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়ার আনন্দে ভাসান পয়েন্টের ফিল্ডারকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে! মুশফিকের (১৪৩*) তখন দেড় শও হয়নি, দলও পেরোয়নি চার শ (৩৭৮/৭)। আবার মিরাজও তো সেখান থেকে আরেকটি বড় পার্টনারশিপ গড়ার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা নন। কিন্তু মুশফিকের রেকর্ডময় দিনে মিরাজ সেই নিশ্চয়তাও হলেন। তাই ডাবল সেঞ্চুরির আগেই সময়ের হিসাবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংসের রেকর্ডও হয়ে গেল মুশফিকের। ২০০০ সালের নবেম্বরে দেশের অভিষেক টেস্টে ইতিহাস গড়া ১৪৫ রানের ইনিংস খেলার পথে আমিনুল ইসলামের ৫৩৫ মিনিট উইকেটে থাকাই ছিল এত দিন রেকর্ড। সেটি পেরিয়ে ১৯৫ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া মুশফিক ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর আগে নিতে চাননি কোনো ঝুঁকিও। তাই লেগস্পিনার ব্রেন্ডন মাভুতাকে মেডেন দিয়ে যান ১৯৯ রানে। পরের ওভারে সিকান্দার রাজাকে পুল করে সিঙ্গেল নিয়েই হারিয়ে যান ডাবল সেঞ্চুরির অনির্বচনীয় আনন্দে।
আরো কিছু রেকর্ডও তখন তার পায়ে লুটিয়ে পড়ার বাকি। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে গল টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি, একই ম্যাচে ১৯০ রান করতে ৪১৭ বল খেলা মোহাম্মদ আশরাফুলই এত দিন ছিলেন বলের হিসাবে বাংলাদেশের দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংসের মালিক। ৪২১ বল খেলা মুশফিক সেটির মালিকানাও যেমন নিজের করে নিলেন, তেমনি বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসেরও। গত বছর নিউজিল্যান্ডে সাকিবের খেলা ২১৭ রানের ইনিংস পেরিয়ে যেতেই আর বিলম্ব করেননি মাহমুদ উল্লাহ।
মাত্র ১৬ বছর ২৬৭ দিন বয়সেই তাই মুশফিকের টেস্ট অভিষেক। লর্ডসে এত কম বয়সে কেউ কখনো টেস্ট খেলেনি। বাংলাদেশের ১০৮ রানের প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৯। টেস্ট ক্লাসটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ওতেই। ১৭৭ মিনিট স্থায়ী বাংলাদেশের ইনিংসের প্রায় অর্ধেকটা সময়ই (৮৫ মিনিট) ক্রিজে, আদর্শ ইংলিশ কন্ডিশনে সাপের মতো সুইং করতে থাকা বলে হাবুডুবু খাওয়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ লেগেছিল তাকেই। দ্বিতীয় টেস্টেও না খেলার কোনো কারণ ছিল না। খেলতে পারেননি হেরিটেজ টাইপ টিম হোটেলের আদ্যিকালের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পা মচকে ফেলায়। দশ মাস পর বগুড়ায় দ্বিতীয় টেস্ট। ক্রিকেট ইতিহাসে আর কোনো উইকেটকিপার প্রথম দুটি টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেননি। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এক অর্থে তাই কোনো বিস্ময় নয়। মুশফিককে নিয়ে আসল যে বিস্ময়, সেটি শুরুতেও ছিল, এখনো আছে। ইংল্যান্ডের ওই সফরে তার বয়স নিয়ে যত আলোচনা হয়েছিল, শারীরিক আকৃতি নিয়েও ততটাই। ইংলিশ সংবাদমাধ্যম সেই বিস্ময় মনে না রেখে মুশফিকের কাছে প্রকাশও করেছিল। মুশফিকের জবাবটা ছিল ক্লাসিক, ‘ক্রিকেট তো বয়স বা উচ্চতার খেলা নয়।’
ক্রিকেট একটা অনিশ্চয়তার খেলা। প্রতিটা দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সমধারায় প্রবাহিত হয় না- কারণ জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়, কণ্টকাকীর্ণ। উত্থান আর পতন থাকে প্রতি মুহূর্তেই। ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও বলা হয়-ফর্ম ক্ষণস্থায়ী। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক উত্থান দেখিয়ে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ পরিচিতি পেলেও, নিজের ছন্দ পতনও দেখেছেন মুশফিকুর রহীম। তাই চাপ কমাতে মাঝে তাকে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব থেকে কয়েক টেস্টে অব্যাহতিও দেয়া হয়েছিল। যদিও মুশফিকের দাবি ছিল, উইকেটের পেছনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাতেই তার ব্যাটিং অনেক ভালো হয়। সেটার প্রমাণও দিয়েছেন অনেকবার। আর এবার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বরেকর্ডই গড়লেন। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪১ বছরের ইতিহাসে প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর বিরল কীর্তি গড়েছেন
 টেস্টে আগে ৫টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের ‘হোম অব ক্রিকেট’ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ছিল না কোন সেঞ্চুরি। সেই আক্ষেপ তিনি ভুলেছেন চলমান মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। তাই উদযাপনটা ছিল নিজের লক্ষ্যটা পূরণের আনন্দে ভরপুর। এতে করে পৌঁছে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ডাবল সেঞ্চুরির সংখ্যা ৪টি। ২০১৩ সালে মুশফিকের ২০০, ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের ২০৬ এবং ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাকিব আল হাসানের ২১৭ এর পর আবার মুশফিক দ্বিশতক পেলেন। কিন্তু তিনিই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন।
বাংলাদেশের পক্ষে দীর্ঘতম ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডও গড়েছেন। এর আগে ৫৩৫ মিনিট খেলে দেশের দীর্ঘতম ইনিংস ছিল বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে (নবেম্বর, ২০০০) ১৪৫ রান করা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। সবচেয়ে বেশি বল খেলেছিলেন ২০১৩ সালে গল টেস্টেই ৪১৭ বল খেলে ১৯০ রান করা মোহাম্মদ আশরাফুলের। আর মুশফিকের ব্যক্তিগত দীর্ঘতম ইনিংস ছিল ৪৩৭ বল ও ৩২১ মিনিটের। এই ডাবল সেঞ্চুরির আগে মুশফিকের ৯টি ইনিংস খুব বাজে কেটেছিল। ৩১ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান মাত্র ১৫.০০ গড়ে করেছিলেন ১৩৫ রান, সর্বোচ্চ ছিল ৩১! এরও আগে বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হতে ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে চরম ব্যর্থ ছিলেন মিডল অর্ডারের এ নির্ভরতা। ১৯ ইনিংসে মাত্র ২টি ফিফটিসহ ২২.৯৪ গড়ে করেছিলেন সে সময় মাত্র ৪১৩ রান। দলের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হয়েও এটি ছিল দলের জন্য বেশ বাজে। তাই একই সঙ্গে টেস্ট নেতৃত্ব, উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব ও ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে দায়িত্বের চাপ থেকে মুক্তি দিতে তাকে ১২ টেস্টে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো থেকে। কিন্তু উইকেটরক্ষক হিসেবেই এবার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। সিকান্দার রাজার করা বলটি স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়েই প্রয়োজনীয় একটি রান নিয়ে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে যান মুশফিক। রাজা যেমন ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছিলেন, তেমনি জিম্বাবুইয়ের বোলিং দশাকে হতশ্রী করেছেন মুশফিক।
টেস্ট ইতিহাসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে এ নিয়ে মাত্র ৯টি ডাবল সেঞ্চুরি দেখা গেছে। কিন্তু ইতিহাসের প্রথম উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। এছাড়া শুধু একজন উইকেটরক্ষকেরই সুযোগ ছিল দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর। এ্যান্ডি ফ্লাওয়ার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। দলের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়াতে তার সেই ডাবল সেঞ্চুরিটি হয়নি। আর ভারতের বুধি কুন্দেরান ১৯২ রানে সাজঘরে ফিরেছিলেন ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে। এছাড়া ম্যাচে উইকেটরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আর কেউ ১৯০ এর ঘরে ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে দুটি ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছিও পৌঁছতে পারেননি কেউ। নিজ দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড দুইবার গড়ে মুশফিক ঢুকে গেছেন ছোট্ট এক তালিকায়। টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন আগে কেবল পাঁচজন-অস্ট্রেলিয়ার ডন ব্র্যাডম্যান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হ্যাডলি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা, ভারতের ভিনু মানকড় ও বীরেন্দর শেবাগ।
হাতছানি ছিল আরও দু’টি দারুণ রেকর্ডের। টেস্টে কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড জিম্বাবুইয়ের এ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের। ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে নাগপুরে অপরাজিত ছিলেন ২৩২ রানে। আর মিরপুরের সর্বোচ্চ ছিল ২০১৫ সালে পাকিস্তানী ওপেনার আজহার আলীর ২২৬ রান। এবার দল ইনিংস ঘোষণা করে দেয়ায় মুশফিককে থামতে হলো ১৩ রান দূরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ