রবিবার ২৬ জুন ২০২২
Online Edition

আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.

মিয়া হোসেন: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য প্রেরিত সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। তিনি মদিনা সনদ রচনা করে বিশ্বের বুকে সকলের জন্য সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান প্রণেতা হিসেবে সর্বোচ্চ মর্যাদায় স্মরণীয় হয়ে আছেন। মুহাম্মদ (সা.) এর চরিত্রে মানবীয় গুণাবলীর সকল বৈশিষ্ট্যের চূড়ান্ত সম্মিলন ঘটেছিল। তিনি মানুষ ছিলেন বটে তবে হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র কাছে ওহী আসতো। এ সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেন, আমি তোমাদের মতো মানুষ ভিন্ন অন্য কিছু নই। তবে আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়। মহানবী (সা.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের পিতা নন। তিনি রাসূল সা. ও শেষ নবী” (সূরা আহযাব : ৪০)। একজন রাসূল হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)’র দায়িত্ব ছিল মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করা, সতর্ক করা, সুসংবাদ  দেয়া। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, “হে নবী, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ¡ানকারীরূপে এবং প্রদীপ্তরূপে (সূরা আহযাব: ৪৫, ৪৬)।
মুহাম্মদ (সা.) তাঁর ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করে অসভ্য বর্বর জাতি ও সমাজে একটি শান্তিময় ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন একমাত্র আল্লাহর দেয়া বিধান ছাড়া মানব রচিত অন্য কোন বিধানে শান্তি ও কল্যাণ নেই। আজও যদি আমরা রাসূলের প্রতিষ্ঠিত সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারি এবং আল্লাহর দেয়া বিধান মেনে চলতে পারি তাহলে অশান্ত ও অস্থির বিশ্বে আবার শান্তি ও সুষম সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
ন্যায় পরায়ণতা এক উৎকৃষ্ট মানবীয় চরিত্র ও অত্যাবশ্যকীয় বিশেষ গুণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ-গুণে গুণান্বিত ছিলেন। এ-সম্পর্কে অনেক ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে। নীচে প্রসিদ্ধ কয়েকটি উল্লেখ করা হল।
মাখযুমিয়্যাহ যখন চুরি করল, সে অভিজাত পরিবারের সদস্য হওয়ায় কিছু সাহাবায়ে কেরামের নিকট তার ওপর হাত কর্তনের মত দণ্ড-বিধি বাস্তবায়ন করা কঠিন মনে হল। এমনকি উসামা বিন যায়েদ তাদের প্রতিনিধি হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তার ব্যাপারে সুপারিশ করলেন। জওয়াবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে উসামা ! তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক অবধারিত দণ্ড-বিধি মওকুফের ব্যাপারে সুপারিশ করছো ? আল্লাহর কসম ! মুহাম্মদের মেয়ে ফাতেমাও যদি চুরি করে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দেব। (মুসলিম:৩১৯৬)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ