বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নির্বাচন যেন সুুষ্ঠু হয়

আমরা জানি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। তবে যেনতেন নির্বাচন নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন জনগণের কাম্য। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তা অর্থবহ হয় না, জনমতের প্রতিফলনও তাতে ঘটে না। সামনে আমাদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন্। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কিছু করণীয় আছে। যেমন সংসদ ভেঙ্গে দেয়া এবং তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এমনটি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে সংসদ বহাল রেখে ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের গণআকাক্সক্ষা পূরণ হবে না। সংলাপের মাধ্যমে দেশের রাজনীতি ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছিল। কিন্তু এই অবস্থায় হঠাৎ তফসিল ঘোষণা সুষ্ঠু ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচনের অন্তরায় হয়ে উঠেছে বলে অনেকে মনে করেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের সন্দেহের বার্তা দেয়। সন্দেহ দূর করার ক্ষেত্রে সরকার যৌক্তিক ভূমিকা পালন করতে পারে।
একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে দেশের বিশিষ্টজনরা এখন কথা বলছেন, পরামর্শও দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান উপাদান দু’টি- এক. আগ্রহী সব রাজনৈতিক দলের নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ, দুই. নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদান। আর এই দুটি বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। সরকারকে এই দায়িত্ব নিতে হবে দুটি কারণে- এক. সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে, দুই. সরকারি দলও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাই নির্বাচনে যাতে যথার্থ প্রতিদ্বন্দ্বী থকে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। এটা নিশ্চিত করা না হলে যে নির্বাচন হবে তাতে যারাই বিজয়ী হবেন সে বিজয় কোন গৌরব বয়ে আনবে না। তাছাড়া তেমন একটি নির্বাচনে বিজয়ীদের প্রতি জনগণের আস্থায়ও ঘাটতি পড়বে।
সরকার এখন দুইভাবে অগ্রসর হতে পারে- বিশিষ্টজনদের পরামর্শ মেনে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করা, অথবা যৌক্তিক পরামর্শকে অবজ্ঞা করে নিজেদের বিজয়কে নিশ্চিত করা। সরকার কোন্্ পথে অগ্রসর হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ