রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুমিল্লায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়ে ২৫ নবেম্বর

কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুরে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমা হামলায় বাসের আটজন যাত্রী নিহতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির তারিখ পিছিয়েছে আদালত। রাস্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২৫ নবেম্বর ওই আবেদনের শুনানির তারিখ ধার্য্য করা হয়েছে। রোববার বিকাল ৫টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক আবদুর রহিম এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে ওই আবেদনের শুনানি হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে কুমিল্লার ৫নং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলী আদালতে আবেদন দাখিল করেছিলেন তার আইনজীবীরা। ওই আবেদনের ৩ দফা অধিকতর শুনানির পর আদালতের বিচারক বিপ্লব চন্দ্র দেবনাথ গত ৩ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে ১৫ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইজীবীরা কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ কে.এম সামছুল আলমের আদালতে আবেদন করেন। রবিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক আবদুর রহিমের আদালতে ওই আবেদনের শুনানী হয়। এতে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী ও রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় রাস্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৫ নবেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করে আদেশ দেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার এফআইআর-এ বেগম খালেদা জিয়ার নাম নেই। তিনি এদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং বয়স্ক ও অসুস্থ। এর আগে আমরা খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত চার দফা শুনানির পর তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। পরে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবেদন দাখিল করি। আজ (রবিবার) আদালত আমাদের ও রাস্ট্রপক্ষের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনেছেন। রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীদের দাখিলকৃত আবেদনের আরও শুনানীর প্রয়োজন। রাস্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৫ নবেম্বর শুনানীর তারিখ ধার্য্য করে আদেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশ কোচ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর নামক স্থানে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে বাসের ৭ জন ও হাসপাতালে নেয়ার পর একজনসহ মোট ৮ যাত্রী মারা যায়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয়জন নেতাকে হুকুমের আসামী করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ