রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় এলাকাছাড়া বিএনপরি অধিকাংশ মনোনয়নপ্রত্যাশী

খুলনা অফিস : তফসীল ঘোষণার পর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে খুলনার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে। সম্পূর্ণ বিপরীতচিত্র খুলনার বিএনপি শিবিরে। দলটির মহানগর কার্যালয় গত তিনদিন ধরে পুলিশ পরিবেষ্টিত। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাই পলাতক। এমনকি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে এতোদিন যারা মাঠে-ঘাঠে সরব ছিলেন সেই মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও এলাকাছাড়া।

খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর থেকে হঠাৎ করেই নগর ও জেলাজুড়ে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এ পর্যন্ত ১৫৬ নেতাকর্মী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। নতুন করে মামলা হয়েছে ৩টি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরীতে বিএনপির বক্তব্যে ১৫টি ‘গায়েবী’ মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলা আসামি করা হয়েছে শত শত নেতাকর্মীকে। মূলত ধরপাকড়ের কারণেই মনোনয়ন প্রত্যাশীসহ সিনিয়র নেতারা এলাকায় যেতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে বিএনপির একক মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান। তার বাড়ি বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর গ্রামে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এলাকায় যেতে পারেননি তিনি। আমির এজাজ খান বলেন, ‘আমি তো দূরের কথা ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন নেতাও এলাকায় থাকতে পারছে না। কাল রাতে এক কর্মী মোবাইলে ছবি পাঠালো গোয়ালঘরে পালিয়ে আছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের দলের নেতারা এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর আমরা নিজ ঘরেও ঘুমাতে পারছি না। এটা কি ধরনের নির্বাচন হচ্ছে ?’ নগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানায় বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজন, তাদের কেউই এলাকায় নেই। এর মধ্যে মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলামের নামে গত ৩ নবেম্বর নতুন করে নাশকতার আরেকটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছেন তিনি। অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকার পরও পুলিশ নেতাদের গ্রেফতার করছে। জামিনের কাগজ দেখানোর পর পুলিশ বলছে-জামিন তো একটি মামলাতে, থানায় আরও মামলা আছে। তিনি বলেন, ‘থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো নেতাই এলাকায় থাকতে পারছে না।’ অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘আমার ফেস্টুন বিলবোর্ড ভেঙ্গে ফেলেছে। লিফলেট বিতরণ করার সময় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের আটক করেছে। আমি এলাকায় ঢুকলে নিরাপত্তার দায়িত্ব তারা নেবে না-বলে জানিয়েছে। এলাকায় ফেরার পরিবেশ নেই।’

রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৪ আসনে বিএনপির একক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুর বারী হেলাল। তার বাড়ি রূপসা উপজেলায় ১৪৭টি মামলায় জামিন লাভের পর বর্তমান পলাতক রয়েছেন। তার অনুসারীরা সবাই নির্বাচনী এলাকা ছাড়া।

আজিজুর বারী হেলাল বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। বিএনপিসহ অঙ্গ সহযোগী সবাই পলাতক। এলাকায় ফেরার পরিবেশ নেই। ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. মামুন রহমান বর্তমানে লন্ডনে। সেখানে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে নাশকতার আরও দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারের ভয়ে তিনি এলাকায় আসছেন না। ২০০১ সালের এই আসনে বিএনপি-জামায়াত জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার। গ্রেফতারের ভয়ে তিনিও এলাকায় নেই।

এ ছাড়া কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনে বিএনপির অন্যতম মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা। বেশকিছু দিন ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে, ২ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী আমীর তার নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদারভাবে কাজ-কর্ম করছিলেন। গত ২৭ অক্টোবর কারান্তরিত হওয়ায় সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত তিন নির্বাচনে এই আসনটি বিএনপি জোট জামায়াতকে ছেড়ে দিয়েছিলো। 

খুলনার এক মাত্র প্রার্থী হিসেবে এখনও প্রকাশ্যে রয়েছেন খুলনা-২ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘গায়েবী মামলা, ধরপাকড় চালিয়ে মাঠ ফাঁকা করার পর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এটা আরেকটি প্রহসনের নির্বাচনের পূর্বলক্ষণ।’ তবে, বিএনপি নেতাদের ধরপাকড় ও গায়েবী মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে আটক বা মামলা করা হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ