রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মনোনয়নপত্র ও নির্বাচনী কাগজপত্র খুলনার উপজেলাগুলোতে পৌঁছেছে

খুলনা অফিস : মনোনয়নপত্র, আচরণবিধিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুলনা জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়েছে। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে মনোনয়নপত্র। গতকাল রোববার থেকে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। এদিকে, নির্বাচনী কার্যক্রম ও মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময়সীমা উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, মনোনয়নপত্র, নির্বাচনী আচরণবিধিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। নির্বাচনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্র, কক্ষ, ভোটার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। যা নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। খুলনা জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনে ৭৮৫টি কেন্দ্র এবং ৩ হাজার ৮০৫টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই সাথে রিজার্ভ রাখা হয়েছে আরও ৫ শতাংশ ভোট কেন্দ্র। এসব ভোট কেন্দ্র ও কক্ষের জন্য মোট ১২ হাজার ২০০ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে ৭৮৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩ হাজার ৮০৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, ৭ হাজার ৬১০ জন পোলিং অফিসার রয়েছে। এর সাথে আরও ১০ শতাংশ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে রিজার্ভ রাখা হবে। সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৪২১ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬৪ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ১৮৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৮ হাজার ৩৭১ জন পোলিং অফিসার রয়েছে। এদিকে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে খুলনায় ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৮৩০ জন। এর মধ্যে খুলনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৫৬ জন, খুলনা-২ আসনে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬২ জন, খুলনা-৩ আসনে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩০২ জন, খুলনা-৪ আসনে ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৪৬জন, খুলনা-৫ আসনে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭২জন ও খুলনা-৬ আসনে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৯২ জন ভোটার রয়েছে। অপরদিকে, নগরীসহ খুলনার ৬টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় ব্যবহৃত সকল প্রকার পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্যানা, তোরণসহ আলোকসজ্জা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এ আদেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ নবেম্বর রাত ১২টার মধ্যে এ আদেশ কার্যকর করতে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহানগর-জেলার সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে নগরী ও জেলায় তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ওপরে গোয়েন্দা নজরদারী আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে। এ এলাকার অবৈধ অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গীদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়। ৮ নবেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে খুলনা নগরীসহ জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক মহড়া শুরু হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশসহ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিভিন্ন মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীতে র‌্যাব, পুলিশের টহল গাড়ি বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বিভিন্ন মোড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিচ্ছেন।

খুলনার জেলা প্রশাসক ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, খুলনার ৬টি আসনে অংশগ্রহণকারী সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় ব্যবহৃত সকল প্রকার পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্যানা, তোরণসহ আলোকসজ্জা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, খুলনার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেএমপি এবং জেলা পুলিশের সকল থানার ওসিদের চিঠির মাধ্যমে আদেশ কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। র‌্যাব-৬’র উপ-অধিনায়ক মেজর শামীম সরকার জানান, খুলনাসহ র‌্যাব-৬’র আওতাধীন ৯ জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ও টহল শুরু হয়েছে। র‌্যাব-৬ খুলনা ক্যাম্প থেকে প্রতিদিন ১২টি টিম নগরীতে টহল দিচ্ছে। তালিকাভুক্ত অপরাধীদের অবস্থান শনাক্তকরণের জন্য গোয়েন্দা টিম মাঠে কাজ করছে। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। খুলনা জেলার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ জানান, খুলনা জেলার সকল থানায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলার তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া যে কোনো প্রকার সহিংসতা রোধে জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির পিপিএম বলেন, কেএমপি এলাকায় অনেক আগে থেকেই অবৈধ অস্ত্রধারী ও তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কেএমপি’র সকল প্রকার কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ