রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দুবলার চরে শুঁটকি তৈরির ব্যস্ততা

খুলনা : শুঁটকি মওসুমে সুন্দরবনের দুবলার চর জেলে পল্লী -সংগ্রাম

খুলনা অফিস : শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের দুবলার চর জেলে পল্লী। সেখানে এখন পুরোদমে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছে। লইট্যা, রূপচাঁদা, খলিসা, ছুরি, ভেদা, পোয়া, দাইতনা, চিংড়িসহ অন্তত একশ’ প্রজাতির মাছ শুকিয়ে এ শুঁটকি তৈরি করছেন জেলেরা।

সূর্য ওঠার আগেই জেলেরা সাগর মোহনায় এসব মাছ শিকার করেন। তারপর তা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি প্রক্রিয়া করা হয়। এভাবেই শুঁটকি হয় সাগরপড়ের দুবলা, মেহের আলী, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝির কিল্লা, শেলার চর, নারকেল বাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয়া, বড় আমবাড়িয়া, মানিক খালী, কবরখালী ও চাপড়া খালীস, কোকিলমনিসহ ১৫টি চরাঞ্চালে। 

শুঁটকি তৈরির কারিগর ইস্রাফিল, এনামুল, সবুজ, নুর আলম ও শহিদ মল্লিকসহ একাধিক জেলে শুটকি তৈরির কাহিনী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলানা, পাইকগাছা, পিরোজপুর, বরগুনা, মংলা ও রামপালের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুঁটকি তৈরিতে দুবলা জেলে পল্লীর অধীনে এসব চরে এসে অস্থায়ী বসতি গড়েন। আগামী ছয় মাস তারা এখানে শুঁটকি তৈরি করবেন। এ জন্য তারা আলাদা পারিশ্রমিক পাবেন। এই শুঁটকি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রফতানি হবে। প্রতি আমবশ্যা ও পূর্ণিমার গোনে বেশি মাছ পাওয়া যায় বলেও তারা জানান।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমি শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ দেখতে দুবলার জেলে পল্লীতে পরিদশর্নে গিয়েছি। সেখানে জেলেরা শুঁটকি তৈরিতে এরই মধ্যে সাগর পাড়ের চরে ঘর তৈরি করে থাকছেন। দিন-রাত এসব জেলেরা সাগরে নেমে মাছ সংগ্রহ করছেন এবং একই সঙ্গে তা শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করছেন। জেলেদের জন্য আমরা ১ হাজার ২৫টি ঘর বরাদ্দ দিয়েছে। জেলেরা যেন কোনও রকম অনিয়ম করতে না পারে সেজন্য আমাদের তদারিক বাড়ানো হয়েছে।’

মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবারের শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ থেকে রাজস্ব আদায় বেশি হবে।’

দুবলায় জেলেদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন (মংলা সদর দফতর) অপারেশেন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ‘সুন্দরবন এবং সাগর এলাকায় দস্যু দমন অভিযান সবসময়ই অব্যাহত থাকে। যদিও সুন্দরবনকে এরই মধ্যে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তারপরও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের জন্য জেলেদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে আরও কঠোর থাকবো।’

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের এসিএফ (সহকারী বন সংরক্ষক) জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মংলা থেকে নদী পথে দুবলা জেলে পল্লীর দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সুন্দরবন সংলগ্ন এ পল্লীর সব কর্মকা- জেলেদের ঘিরে। সুন্দরবন অভ্যন্তরের ১৩টি মাছ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে গঠিত দুবলা জেলে পল্লী । এবারের জেলে পল্লী থেকে রাজস্ব আদায় বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলেরা এরই মধ্যে বাগেরহাট ডিএফও এবং শরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে বিএলসি (বোট লাইসেন্স) নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর দুবলায় রওনা হয়েছেন। সেখানে অন্তত ৩০ হাজার জেলে জড়ো হবেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ