বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মিরপুরে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান মুমিনুলের

স্পোর্টস রিপোর্টার : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে সেঞ্চুরিসহ ১৬১ রান করেছেন মুমিনুল হক। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর দলকে টেনে তুলেছেন তিনি। তার কারণেই গতকাল প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। গতকাল ১৬১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান মুিিমনুল হক। আর এতেই মিরপুর স্টেডিয়ামে এক ইনিংসে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করার নতুন রেকর্ড গড়েন মুমিনুল। তার ১৬১ রানের ইনিংসে পেছনে পড়ে গেলেন বাংলাদেশের আরেক ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এতোদিন মিরপুরের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিলো তামিমের। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে ১৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৮৩ বলে ১৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। তামিমকে সরিয়ে এখন এই মাঠের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন মুমিনুল। তবে মিরপুরের এই ভেন্যুতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক পাকিস্তানের আজহার আলী। ২০১৫ সালে মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪২৮ বলে ২২৬ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আজহার। আজহারের রেকর্ড গড়া ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩২৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলো পাকিস্তান। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নিতে পারে পাকিস্তান। গতকাল মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে এ বাঁ-হাতি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ১৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তবে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক চেয়েছিলেন নিরাপদেই দিনটা কাটিয়ে দিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হল না। তাদের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন চাতারা। দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং এসে এ ডানহাতি চারির ক্যাচে ফেরান মুমিনুলকে। তার আগে মুমিনুল করেন ২৪৭ বলে ১৬১ রান।  গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে জোড়া (১৭৬ ও ১০৫*) সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুল। চট্টগ্রামে শ্রীলংকার বিপক্ষের সেই টেস্টটি ড্র করেছিল বাংলাদেশ। তারপর থেকে টেস্টে নিজেদের হারিয়ে ফেলতে থাকে টাইগাররা। বিবর্ণ হয়ে পড়েন মুমিনুলও। তার সর্বশেষ ৮ ইনিংসে তার স্কোরগুলো যথাক্রমে- ০, ৩৩, ১, ০, ০, ১৫, ১১, ৯। কিন্তু সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে মিরপুরে স্বরূপে ফিরে এসেছেন তিনি। করেছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল বলেন,‘এই সেঞ্চুরিটা আমার খুব কঠিন ছিল। উইকেটে বাউন্স এক রকম ছিল না। প্রথম দিকে দ্রুত তিনটি উইকেট পড়ার কারণে শুধু আমি নই, সবাই ভীত ছিলাম। তবে এই শতক পাওয়া থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’ বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসটা কতদূর দেখতে চান জানতে চাইলে মুমিনুল বলেন, আশা করি বড় স্কোর হবে। ৪০০ রান হলে ভালো হয়। উইকেটে আছেন মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই, এরপর আছে আরিফুল। তো স্কোরটা ভালোই হবে আশা করি।’ এবার ১৬১ রানে আউট হলেন, ২০০ রানের স্বপ্ন দেখছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেদিন ৪৫০ রানের টার্গেট নিয়ে ম্যাচ জিততে সেদিন হয়তো আমার ডাবল সেঞ্চুরি করার সুযোগ হবে।’ ডাবল সেঞ্চুরি না করার আফসোস জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আরেকটু খেলতে পারলে ভালো হতো, দলের স্কোরটা একটু হতো। আমার মনে হয় স্কোরটা বড়ই হবে। হাতে আরো কয়েকটি উইকেট আছে। তারা যদি ভালো কিছু করে তাহলে দারুণ একটা ইনিংস হয়ে উঠতে পারে।’ প্রথম দিকে বাংলাদেশ দলের উইকেট হারানো প্রসঙ্গে মুমিনুল বলেন, উইকেটটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। তারপরও বলটা নির্ভয়ে খেলার চেস্টা করেছি।’ রেকর্ড পার্টনারশিপের বিষয়ে মুমিনুল বলেন, রেকর্ড নিয়ে চিন্তা করি না। আর সেঞ্চুরির পর উৎসব করার বিষয়টি মাথায়ই ছিল না। আসলে আগের ছয়টা ইনিংসে রান করতে পারিনি। করাটা উচিত ছিল।’  মুমিনুলের সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ৫০তম, আর পুরো টেস্ট ইতিহাসের ৪ হাজার ১০৩তম। ২০০০ সালে ১০ নভেম্বর ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে টেস্ট সেঞ্চুরির শুরু আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ব্যাটে। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই আমিনুল হাঁকিয়েছিলেন সেঞ্চুরি। আর বাংলাদেশ যখন টেস্টে ১৯ বছরে পা রাখলো তখন সেঞ্চুরি দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল পূর্ণ করল সেঞ্চুরির হাফ সেঞ্চুরি, মানে ৫০তম সেঞ্চুরি। বুলবুলের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ পায় ২০০১ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাট থেকে। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকান আশরাফুল, যা এখনো ভাঙতে পারেননি কেউ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একই বছর হাবিবুল বাশার হাঁকান সেঞ্চুরি। করেছিলেন ১০৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮টি সেঞ্চুরি তামিম ইকবালের। মুমিনুলের ৭টি। ৬টি সেঞ্চুরি আশরাফুলের। ৫টি করে সাকিব আল হাসান মুশফিকুর রহিমের। ৩টি করে ইমরুল কায়েস ও হাবিবুল বাশারের। ১টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে ১৩ ক্রিকেটারের- আমিনুল ইসলাম বুলবুল, শাহরিয়ার নাফিস, জাভেদ ওমর, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাফিস ইকবাল, আবুল হাসান, মোহাম্মদ রফিক, নাঈম ইসলাম, জুনায়েদ সিদ্দিকী, শামসুর রহমান, খালেদ মাসুদ পাইলট, সোহাগ গাজী ও নাসির হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ