শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

পরাজয় বুঝতে পেরে সংসদ ভাঙতে রাজি হয়নি আ’লীগ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা আয়োজিত বিশেষ কাউন্সিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভীতিতে ভুগছে। বিএনপি নেত্রীর জনপ্রিয়তার কারণে জামিনযোগ্য মামলায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকারের নির্দেশে নিম্ন আদালতে জামিন আটকে গেছে। সরকার সংবিধান ও জনগণকে ভয় পায়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন সম্ভব, সেটিও তারা করতে চায় না। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে সরকারের এমপিরা নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারবেন না। তাদের অপকর্মের কারণে জনগণ তাদের প্রতিরোধ করবে। তারা পরাজিত হবেন। এ কারণেই তারা সংসদ না ভেঙে নির্বাচনের কথা ভাবছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণায় আওয়ামী উল্লাস-গণতন্ত্রের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত ‘কাউন্সিলের ডাক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাগপার সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, জাগপা’র কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাছ, রকিব উদ্দিন চৌধুরী মুন্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বেলায়েত হোসেন মোড়ল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনসান আলম আক্কাছ, ছাত্র ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামীম আক্তার পাইলট, ২০ দলীয় জোটের শরীক, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, এনপিপি’র চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিংকন, শেখ ফরিদ উদ্দিন, পঞ্চগড় জেলার জাগপা’র সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী, সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম মফি, জুয়েল, নজরুল ইসলাম, মো. আজম, চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল, যুব জাগপার কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল হক তুহিন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ রহমান, সহ সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, জাগপা ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ফারুকী, নগর সাধারণ সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা যখন বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বলি আপনারা পদত্যাগ করেন, আপনাদের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। নির্বাচন কমিশন আমাদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা নেই। সরকারকে এই ইসি পুনর্গঠনের কথা বললেও তারা তা মানেনি। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা দেখে সরকার ইভিএমকে সামনে আনলো। তারা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে। অথচ আরপিওতে কোনো ইভিএমের কথা ছিলো না। সংসদে পাস হলো না, রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে পাশ করিয়ে ফেলা হলো। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেছেন শহরগুলিতে সীমিতভাবে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে। আওয়ামী লীগের হারার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, শহরে মানুষ বেশি সচেতন। আর এই যন্ত্র ওইখানেই ব্যবহার করা হবে, যাতে করে চুরি করে পাস করে দেওয়া যায়। যে যন্ত্রটা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ বাতিল করে দিচ্ছে, সেটা আমাদের দেশে করার এতো জুলুম কেন আমরা বুঝি না। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝে, একটা রিকশাওয়ালাও বুঝে। টিপ দিবে এক জায়গায় ভোট যাবে আরেক জায়গায়।
তিনি বলেন, সরকার বলছে সংবিধানের ভিতর সব করতে রাজি। সংবিধানের বাইরে যেতে পারবো না। সংবিধান তারা তাদের সুবিধা মতো বানিয়ে নিয়েছে। তারপরও সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিধান সংবিধানের মধ্যেই আছে। সরকারের এত কাটা ছেড়ার পরেও আমাদের সংবিধানে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে বলতে পারেন যে,  সংসদ ভেঙে দেন। সংসদ ভাঙার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
প্রতীক বরাদ্দের আগেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণার সমালোচনা করেন নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা হবে। প্রতীক দিয়ে শুধু  প্রতীক বরাদ্দের পরে পোস্টার করা যাবে। কিন্তু আজ সারা শহর, সারাদেশ প্রতীক দিয়ে রঙ্গিন পোস্টারে ভরে গেছে। সারাদেশে, সারা জায়গায় নৌকা মার্কায় ভোট দিন, ওমুককে ভোট দিন, এমনকি সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রচারণা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এসব চোখে দেখে না? না দেখার কারণ তাদের বাড়ির ভেতর থেকে একটা সুরঙ্গ পথ আছে। ওইসব পথ দিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের বিল্ডিংয়ে যায়। আর নির্বাচন কমিশন থেকে সুরঙ্গ পথ দিয়ে তারা বাড়িতে আসে। এ জন্য বিভিন্ন জায়গায় টাঙানো নির্বাচনের ব্যানার ফেস্টুন এগুলো তাদের চোখে পড়ে না। যদি চোখে পড়তো তাহলে তারা আইন অনুযায়ী এগুলো সরিয়ে ফেলা, মুছে ফেলার নির্দেশ দিতেন। অন্য একটি কারণ থাকতে পারে। তা হলো, আওয়ামী লীগের ব্যানার- ফেস্টুন নামাতে বলতেও নির্বাচন কমিশন ভয় পায়।
তিনি বলেন, আজকে যারা ক্ষমতায় আছে, ২০১৪ সালে দেশী-বিদেশী সবাইকে বলতে শুনেছি, যে সংবিধানের বাধ্যবাধকতার জন্য, নিয়ম রক্ষার জন্য নির্বাচন করতেই হচ্ছে। পরে নির্বাচন দেওয়া হবে। কিন্তু এটা পাঁচ বছরেও হয়নি।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর মুক্তির বিষয়ে সংবিধানের কোথায় বাধা আছে?  হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিলো কিন্ত সরকারের নির্দেশে নিম্ন আদালত জামিন দেয়া হলো না। যে মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হলো সে মামলার সব আসামী জামিনে আছে। ভাবেন একবার, অভিযোগ যে তিনি হুকুম দিয়েছেন আর কুমিল্লার কিছু লোক আগুন দিয়েছে এবং সেখানে লোক মারা গেছে। আগুন দিয়েছে তারা জামিনে আছে আর যিনি হুকুম দিয়েছেন তাঁর জামিন হবে না? তিনি তো তখন আটকা ছিলেন গুলশান অফিসে সেখানে তখন সেখানে আমিও ছিলাম। টেলিভিশনের লাইন কাটা ছিল, ফোনের লাইন কাটা ছিল, খাবার নিতে পারত না, আমাদের অনেকে খাবার নিতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। সেখান থেকে কিভাবে সে হুকুম দিলেন আর সেই হুকুমের আসামী হিসেবে তার জামিন হলো না। আসলে সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। তার জনসমর্থনকে ভয় পায়। তাকে ছাড়তে চায় না।
বিশেষ কাউন্সিলে জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলার নেতৃবৃন্দ ও মহানগর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণ সভাপতি হিসেবে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের নাম ঘোষণা করেন। নবনির্বাচিত জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান প্রথম সহসভাপতি রাশেদ প্রধানের নাম ঘোষণা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ