শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়ে দাবি আদায় করা হবে

গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জনসভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

# আরেকটি একতরফা নির্বাচনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে--- ড. কামাল হোসেন
# তফসিল পেছাতে হবে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি- সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে----ফখরুল
# মরতে হলে মরবো, দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যাবো --- আ স ম রব
# আপাতত সিদ্ধান্ত একটাই-খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি---- কর্নেল অব, অলি
#সাত দফা আদায় করতে হলে ঐক্যকে আরো অটুট রাখতে হবে--- কাদের সিদ্দিকী
# আমাদের কথা পরিষ্কার- শেখ হাসিনাকে সরতে হবে--- মান্না
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, রাজশাহী থেকে : আন্দোলনের মাধ্যমেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়ে দাবি আদায়ের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ থেকে সরকারকে এ হুশিয়ারি দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই বলেই সংলাপের মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান চেয়েছি। আমরা দুই দফা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনতে চান না। আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, নির্বাচনের আগে সবার জন্য সমান মাঠ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় সবার সমান সুযোগ থাকতে হবে। দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। নির্বাচনের তফসিল পেছাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। অন্যথায় দেশের জনগণ এই নির্বাচন মেনে নেবে না। কোথাও এই নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আমাদের শপথ নিতে হবে এই বলে যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।
বিএনপি চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক  শফিকুল হক মিলনের পরিচালনায় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি অসুস্থতার কারণে রাজশাহীর জনসভায় যোগ দিতে পারেননি। তবে তিনি মোবাইলের মাধ্যমে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষেপে বক্তব্য রাখেন। জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে গণস্বাস্থের প্রতিষ্ঠাতা ডা, জাফরুল্লাহ চেীধুরী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, জেএসডির আবদুল মালেক রতন, এম এ গোফরান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম প্রতিক, নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরাম, শহীদুল্লাহ কায়সার, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান তালুকদার, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আমীনুল হক, আমানউল্লাহ আমান, অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, কামরুল মুনির, আবদুস সালাম, হারুনুর রশীদ, নাদিম মোস্তফা, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র কেন্দ্রীয়  নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া,  ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জমিয়তের উলামায়ের ইসলামের মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর একাংশের শাহ আহমেদ বাদল বক্তব্য দেন। জনসভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সিনিয়র মন্ত্রী মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ (পিপিবি) আহ্বায়ক রিটা রহমানকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার দল ২০ দল যোগ দেয়। জনসভায় বিএনপির হেলালুজ্জামান লালু, আবদুল লতিফ খান, আবদুল মান্নান তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহমুদা হাবিবা, আবদুল মমিন তালুকদার খোকন, আকবর আলী, সেলিম রেজা হাবিব, নজরুল ইসলাম আজাদ, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, হাসান জাফির তুহিন, ভিপি সাইফুল ইসলাম, প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, রফিকুল করিম খান পাপ্পু, ফয়সাল আমি, মজিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন বুলু, পারভেজ আরিফিন সিদ্দিকী, জনগোমেজ, দেবাশীষ রায় মধু, খায়রুন্নাহার,শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসভা উপলক্ষে মাদরাসা মাঠের চারপাশে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাবেশে যাতে নেতাকর্মীরা আসতে না পারে সেজন্য আশপাশের  জেলায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
বেলা ২টায় শুরু হয়ে এই জনসভা শেষ হয় সন্ধ্যা সোয়া ৫টায়। বিকাল সাড়ে তিনটার মধ্যে মঞ্চের সামনে ও ডানে-বামে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। হাজার হাজার মানুষের ঢল মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক-গলিতে গড়ায়। জনসভাটি ৭ দফা দাবিতে হলেও নেতা-কর্মীদের অনেকের হাতে দেখা গেছে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের ছড়া ও জাতীয় পতাকা।  জনসভায় বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে নেতা-কর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান দেয়। মাঠে দুই পাশের দেওয়ালে টানানো হয়েছে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর এটি তাদের চতুর্থ জনসভা। জনসভার মঞ্চের ব্যানারে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি’ লেখা ছিলো।
জনসভার প্রধান অতিথি ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন অসুস্থতার জন্য রাজশাহী যেতে না পারলেও মোবাইলে জনসভার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের ‘তড়িঘড়ি’ করে তফসিল ঘোষণার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এটা জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা, এটা সংবিধান পরিপন্থি, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তিনি বলেন, আমরা সংকট সমাধানে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথা রাখেনি। তারা আবারো একটি একতরফা নির্বাচনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি স্বাধীনতার মূল চেতনার বিরোধী। সরকারের এই অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধ  থেকে প্রতিহত করতে হবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ শত বাধা উপেক্ষা করে আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য এখানে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আজ আমাদের সবার সামনে একটাই প্রশ্ন, সেটি হচ্ছে দেশে গণতন্ত্র থাকবে কিনা, দেশ সামনের দিকে যাবে কিনা, জনগণ তাদের ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে কিনা। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থাকবে কিনা। তিনি বলেন, আজ আমাদের সময় এসেছে, দেশের হারানো এসব দাবি পুনরুদ্ধারের।
তিনি বলেন, গত রোড মার্চে এই রাজশাহীতে নেত্রী এখানে উপস্থিত ছিলেন। আজ তিনি নেই। কারণ তাকে কারাগারে আটকে রেখেছে এই স্বৈরাচারী সরকার। তিনি বলেন, ডাক্তার বলেছে, বেগম জিয়া এখনো সুস্থ নন। কিন্তু তাকে জোর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি  এই খবর শুনে ছুটে গিয়েছিলাম তার কাছে। তিনি খুবই অসুস্থ। তিনি কথা বলতে পারছেন না। হাঁটতে পারছেন না। তাকে দেখে কান্না থামিয়ে রাখা কষ্ট হয়েছে আমার। চোখের সামনে এভাবে নির্যাতন মেনে নেয়া যায় না। তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নেত্রীর নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র আর ভোটাধিকারের আন্দোলন করেছিলাম। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়। তারা এ জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া বলেছেন আমরা শান্তি চাই। আমি কারাগারে  গেলেও সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবেন। তার কথায় আমরা লড়াই করছি। আমরা সংলাপেও গিয়েছি। তিনি বলেন, সংলাপে বলেছি সংসদ ভেঙ্গে দিতে  হবে, খালেদা জিযাকে মুক্তি দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে। কিন্তু তারা সেটি মানছে না। আমরা বলতে চাই, বেগম জিয়া এখন দেশে বিদেশে মাদার অব ডেমোক্রেসি। তাকে ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা বেগম জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। গণতন্ত্রের মাকে ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা এতো নির্যাতন সহ্য করছেন একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেখার জন্য, শান্তির জন্য। তিনি বলেন, এই সরকার  শান্তি চায় না সেটির প্রমাণ আজকের জনসভা। তারা আমাদের নেতাকর্মীদেরকে আসতে দেয়নি। এতদিন আগেই রাজশাহীর আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্নস্থানে নেতাকর্মীদের জনসভায় আসতে বাধা দিয়েছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী সংলাপে বলেছিলেন, বিরোধী নেতাকর্মীদের কোনো বাধা দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, তারেক রহমানসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা। একজন নেতাকর্মীও নেই যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। এই রজাশাহীর অনেক নেতাকর্মী কারাগারে। আমরা বেগম জিয়াসহ সবার মুক্তি চাই। তিনি বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার। নির্বাচনের আগে মাঠ সবার জন্য সমান হতে হবে। সবার সমান সুযোগ দিতে হবে। বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন ফলপ্রসূ হবে না। সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আজকে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে সারাদেশকে অস্থির করে তুলেছে। এটা ছাড়া তাদের কোনো অস্ত্র নাই। মামলা একটা অস্ত্র পেয়েছে, সেই অস্ত্র দিয়ে ঘায়েল করতে চায়। ঘায়েল যে করতে পারেনি আজকে জনসভাই তার প্রমাণ।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই রাহশাহী আন্দোলনের ময়দান। এখান থেকেই অনেক বিজয়গাথা সংগ্রাম হয়েছে। আজ আবার শপথ নিতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতন ঘটাতে হবে। সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। আন্দোলন করেই আমাদের দাবি আদায় করতে হবে।
জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, এখন সারা দেশে একটাই স্লোগান। সেটি হচ্ছে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। এই বলে তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান ধরেন। মুক্তিযুদ্ধের এ পতাকা উত্তোলক বলেন, আমরা দেশকে বাঁচাতে সংলাপে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবি মানা হয়নি। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। তার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন। আমাদেরকে উস্কে দিবেন না। গত কয়েকদিন ধরে বিরোধী নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। অথচ সরকার প্রধান বলেছিলেন, কাউকে হয়রানি করা হবে না।
রব বলেন, সংসদ ভেঙে দেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। তা না হলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, যখন এই আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল তখন কি সেটি সংবিধানে ছিল। তফসিল কাদের জন্য? আমাদের দাবি মানতে হবে। মরতে হলে মরবো। জনগণ আমাদের পক্ষে, আল্লাহ আমাদের পক্ষে। জয় আমাদের হবেই। দাবি আদায় করেই আমরা নির্বাচনে যাবো। 
তিনি বলেন, আপনারা সবাইকে মেরেছেন। কেউই নিরাপদ ছিল না। সরকারের উদ্দেশে বলেন, দেখে যান। এবার লড়াই হবে। লড়াই লড়াই লড়াই চাই, এই লড়াইয়ে জিততে হবে। জনগণের জয় হবেই। তিনি বলেন, তফসিল পেছাতে হবে। আমি কাউকে ভয় পাই না। আমি কথা দিয়ে যচ্ছি, এই লড়াইয়ে আমাদের জয় হবেই। আজ জনগণ জেগে উঠেছে। এদের কেউই ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, আসুন এই আন্দোলনকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু রাজশাহীতে স্লোগান দিলে হবে না। দাবি যদি না মানেন, তফসিল যদি না পেছান, নির্বাচন যদি না পেছান তাহলে লড়াই হবে। এ লড়াইয়ে আমরাই জিতবো ইনশাআল্লাহ।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অব. অলি আহমেদ বলেন, এই প্রথম বেগম জিয়াকে ছাড়া রাজশাহীতে জনসভা করছি। এত বাধা সত্ত্বেও আমি এই রাজশাহীতে এত বড় সমাবেশ দেখিনি। তিনি বলেন, তরুণ বয়সে আমি যুদ্ধে গিয়েছি। আজ সেই তরুণদের বলতে চাই, তোমাদেরকে এখন দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে যাবো কি না সেটি এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটি মির্জা ফখরুল বলবেন। তবে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি তরুণ সমাজকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার বিষয়ে হাত তুলে অঙ্গীকার নেন। তরুণদের প্রতি বলব, আমরা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যেভাবে জান দিতে গিয়েছিলাম আপনাদেরকে সেই জান দেয়ার কথা বলব না। কিন্তু রাস্তায় তো সকলে দাঁড়াতে পারেন বেগম জিয়ার জন্য। একটু হাত তুলে প্রশাসনকে দেখান, প্রধানমন্ত্রী দেখুক- কতগুলো হাত, কতগুলো লোক। একটু জোরে তালি বাজান সরকার শুনুক।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি বিএনপির সভায় আসিনি। ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে এসেছি। যদি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চান, সাত দফা দাবি আদায় করতে চান, তাহলে আপনাদের ঐক্য আরো অটুট রাখতে হবে। এখানে উপন্থিত ৯০ শতাংশ বিএনপি সমর্থক। ২০১৫ সালে বেগম জিয়া লাগাতার হরতাল অবরোধ দিয়েছিলেন। আমি অনুরোধ করেছিলাম সেটি প্রত্যাহার করে নিতে। শেখ হাসিনাকেও বলেছিলাম আলোচনায় বসতে। কিন্তু তাকেও আলোচনায় বসতে হয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা যদি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে না দেখতে চান তাহলে আপনাদের লড়তে হবে। রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, এবার বেগম জিয়া বলেছেন, আমি যদি কারাগারে মরেও যাই তাহলে হরতাল দিবে না। তার এ কথায় আমি বলেছি, তাকে বন্দী রাখা আর সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দেশের নির্বাচন মানেই ধানের শীষ। তাই আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সাবেক এ আওমী লীগ নেতা বলেন, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেয়নি। এই আওয়ামী লীগই সবার আগে পতাকা দিয়েছে। সরিষা বাড়ির নুরু মওলানাকে আওয়ামী লীগই পতাকা দিয়েছে। এরপর আরও কয়েকজনের হাতে তারা পতাকা তুলে দিয়েছে। তিনি বলেন, হাসিনা বলেছিল, সমাবেশে বাধা দিবো না। কিন্তু আমার গাড়িটাই ৫ বার ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমি হাত তুলি না। আমি কারো গায়ে হাত তুলি না। তিনি বলেন, আমি হাত দিয়ে লড়াই করি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রাজনীতিতে এসেছি। জিয়াউর রহমানের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এই দেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব তুলে দেবো। তিনি বলেন, আমার দলে যদি আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেয়েদের অর্ধেকও থাকতো তাহলে শেখ হাসিনাকে অনেক আগেই পদত্যাগে বাধ্য করতাম।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছিল জনসভায় বাধা দেয়া হবে না। অথচ আমরা কি দেখছি। যেখানে প্রধানমন্ত্রী আমাদের জনসভা করতে দিচ্ছে না সেখানে তার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কিভাবে সম্ভব? তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই সরকারের আক্রোশের মূল কারণ হচ্ছে তিনি ক্ষমতাসীনদের অবৈধ ক্ষমতা, দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তিনি বলেন, এই সরকার অন্যায়ভাবে বেগম জিয়াকে কারাগারে আটক রেখেছে। আমরা বলতে চাই্, বেগম জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা হতে দেবো না। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ হচ্ছে অবৈধ। এদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। 
প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। আপনারা সরকারের অন্যায় নির্দেশ মানবেন না। যদি মানেন তাহলে জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, আমরা শুনেছি, এই সভায় আসতে আপনারা আমাদের নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছেন। এটি আপনারা করতে পারেন  না। তিনি বলেন, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সাত দফা দাবি দিয়েছি। এই দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নেয়ার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। 
বিএনপি স্থায়ী কমিটির  সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, এই গণজোয়ার এটিই প্রমাণ করে জনগণ আর এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি আইনের শাসনের সংকট, ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সবার সমান সুযোগ, ভোট দেয়ার অধিকার, এসব দাবি আমরা চেয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে আমরা এগুলোই তুলে ধরেছি। তারা আমাদের দাবি মেনে নেয়নি। তারা সংলাপকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাদ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এগুলো শুধু কথাতেই হবে না। আন্দোলন করেই আদায় করা হবে।
সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেত্রী আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব আইনকে উপেক্ষা করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই সরকার যতদিন থাকবে ততদিন এই নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। তিনি বলন, এই সরকারকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া যাবে না। জনজোয়ারে নৌকা ভেসে যাবে। তাদেরকে ২০১৪ সালের ন্যায় আরেকটি একতরফার নির্বাচন  করতে দেয়া হবে না।
গণফোরাম সেক্রেটারি মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, বিরোধী জোটের সভা সমাবেশে বাধা দেয়া হবে না। কিন্তু আমরা কি দেখছি। আমাদের সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা যেখানে সমাবেশ করতে চাই সেখানে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। জনগণ যাতে সমাবেশে আসতে না পারে তাই দুই দিন আগে থেকে যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, প্রশাসন নাকি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। কিন্তু দেশবাসী কি দেখছে। বিরোধী নেতাকর্মীরা কেউই নিরাপদ নয়। প্রতিনিয়ত গ্রেফতার করা হচ্ছে। মামলা হামলা চলছে। তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে এসব আশা করিনি। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের পরিবেশ তেরী হবে। কিন্তু সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে তারা সংঘাত চায়। আমরা তাদের বলবো, এখনো সময় আছে দাবি মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ করে দিন। অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে। সিইসি একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোসণা করেছে। সিইসি বলছে, তার কথা মতোই নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। কিন্তু দেশে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সাত দফা দাবি দিয়েছি। কিন্তু আমাদের কোনো দাবিই মেনে নেননি। ইসিকে বলেছি তফসিল এখন দিবেন না। কিন্তু তিনিও কথা শোনেন নি। তাহলে এখন কি করবো। এটি সারা দেশের মানুষের প্রশ্ন। তিনি বলেন, আমাদের সভায় যাতে মানুষ আসতে না পারে সেজন্য যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি আমার গাড়ি পর্যন্ত পুলিশ আটকিয়ে দিয়েছে।
মান্না বলেন, সরকার মনে করেছে আমাদের বাধা দিয়ে একতরফা নির্বাচন করে পার পেয়ে যাবেন। আমি বলি এটি সহজ নয়। এত বাধা উপেক্ষা করে লাখো মানুষ হাজির হয়েছে। বাধা দিয়ে আটকিয়ে রাখা যায়নি। তিনি বলেন, আমরা যদি সারদেশ থেকে জনণকে ঢাকায় আসতে বলি তখন সরকার কি করবে। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। আমরা বলেছি একদেশে একসাথে দুইটা সংসদ থাকতে পারে না। দুইজন প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারে না। তিনি বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার। শেখ হাসিনাকে সরতে হবে। তারপর নির্বাচন করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চান। অথচ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি খুবই অসুস্থ। তার চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, কোর্টের আদেশে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আবার সব নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এক শীত শেষ নয়। বেগম জিয়া যদি এক শীত কাটান তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে দশ শীত কাটাতে হবে। তিনি বলেন, জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করুন। তফসিল পিছিয়ে দিন। আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। কিন্তু যদি সেটি না হয় তাহলে লড়াই অব্যাহত থাকবে। নৌকাকে আমরা ডুবিয়ে ছাড়বো। জনগণ আমাদের সাথে রয়েছে।
মান্না বলেন, আমরা কোনো হিংসা চাই না। ভোটের মতো ভোট করেন,  আমরা ভোট করতে চাই। পারবেন না সবাই। সবাই মিলে নৌকা যাতে জিততে না পারে তার জন্য ভোট দেবেন না, ঐক্যবদ্ধ হবেন না, ঘর থেকে বেরুবেন না, ওই নৌকার পতন ঘটিয়ে তবেই ছাড়বো সেই পথে আমাদের যেতে হবে।” ‘‘নির্বাচন কমিশনকে এখনো বলব, ২৩ ডিসেম্বর না করে ২৩ জানুয়ারি করলে সমস্যা কোথায়? তফসিল বদলান। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তিন শ আসনে আমরা এই জোট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো। আমরা আন্দোলন করছিলাম সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে।  আর আপনারা এমন একটা ফাঁদ পেতেছেন যাতে আমরা নির্বাচনে যেতে না পারি। ওই ফাঁদ, ওই বেড়াজাল, ওই অত্যচার ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার সাহস রাখি কিনা। তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার সাহস রাখি কিনা। তিনি বলেন, সবাই শুধু স্লোগান দিচ্ছে। আমাদের এখন স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। রাজপথে নামতে হবে। লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, আমার ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। কেউই কিছু বলতে পারছে না। মিডিয়াগুলোও সেভাবে কথা বলতে পারছে না। তিনি বলেন, এই সরকার চাইবে আমাদের আটকিয়ে রাখতে। কারণ তারা জনগণকেই বেশী ভয় পায়। তাই রাজপথেই আমাদের নেমে এসে সাত দফা দাবি আদায় করতে হবে। গ্রেফতার, হামলা মামলাকে ভয় করা যাবে না। কারণ আমাদের সবার বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। ইতিহাস বলে, এসব করে কোনদিনই ক্ষমতায় থাকা যাবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতেই আজ দেশের সকল রাজনৈতিক দল এক হয়েছে। কারণ দেশবাসীসহ বিদেশীরাও বলছে এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই সরকার ভোট চোর। এই নির্বাচন কমিশনও চোর। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে খালেদা জিয়া কোনো দিন কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন না। তারেক রহমান দেশে আসতে পারবেন না। তিনি বলেন, এই দেশ কারো একার নয়। এই দেশ কারো এককের সিদ্ধান্তে চলতে দেয়া যায় না। তাই আমরা আন্দোলন করছি। একইসাথে সকলকে এই আন্দোলনে শামিল হবার কথা বলেছি। তিনি বলেন, চিন্তা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে দেশের জনগণ আমাদের মাফ করবেন না। তিনি বলেন, ভোটের পরিবেশ তৈরী করতে হবে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়েই।
গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশে হুদাদের জ্বালায় থাকতে পারছি না। এদের শিক্ষা দিতে হবে। সিইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিইসি সরকারের নির্দেশে তফসিল ঘোষণা করেছে। তার টার্গেট হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার দুই পয়সারও দাম নেই। এই প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করা যাবে না।
গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই সরকারের শক্তি হচ্ছে পুলিশ ও দুর্নীতির টাকা, গ্রেফতার, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা। এরা জনগণকে ভয় পায়। তাই যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তাররপরও জনস্রোত ঠেকানো যায়নি। তিনি বলেন, দেশের সব মানুষকে এরা গ্রেফতার করতে পারবে না। এই ভয়ে তাদের পায়ের নীচের মাটি সরে গেছে। এরা ভয়ে অস্থির। তিনি বলেন, এদের এতো বেশী রক্তচাপ সৃষ্টি হয়েছে এরা চোখে কিছুই দেখছে না। তাই এদের নৈতিক সব কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই সরকার মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে আটক রেখেছে। তাই সময় এসেছে জেগে উঠার। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। তিনি বলেন, এই সরকার পালাবার পথ খুঁজছে। ক্ষমতায় গেলে কি করবে তার ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করলে দেশের সকল অনাচার দূর হবে। সবাই যার যার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এই সরকারের আমলেই সবচেয়ে বেশী বিরোধী নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। খুন হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, এই সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী মুখে যা বলেন বাস্তবে করেন তার উল্টোটা। তাকে বিশ্বাস করা যাবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় রেখে কোনো নির্বাচন করা যাবে না। এদের প্রতিহত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এই রাজশাহী থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হলো। এই রাজশাহীর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গণতন্ত্র আর ভোটাধিকার রক্ষায় রাজশাহীর মাটি রক্ত দিতে প্রস্তুত। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সব ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ