মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে -- রিজভী 

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সারাদেশে আবারো বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৭২ ঘন্টায় ২২ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ করেন। 

রিজভী বলেন, চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ বেগম জিয়ার জীবনকে বিপন্ন করার অথবা শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত সরকারের কুৎসা সঞ্চারিত মনের বিকার। বেগম জিয়া সুস্থ’ হোক, এটি বিদ্বেষপ্রবণ সরকার কখনো চায় না। বেগম জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে লাগামছাড়া ক্রোধে এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী এখন তার জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শেখ হাসিনার হিং¯্র আচরণেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। অহংকার, উন্মত্ততা, হিংসা ও দখলকৃত ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নির্লজ্জ লড়াই চালাতেই বিচারবুদ্ধি হারিয়ে সরকার বেগম জিয়ার জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে বলেই দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়ার ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নিপীড়ন। সরকারের পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে বাধ্য করানোর জন্যই সরকার দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। তার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা শেষ না করেই পিজি হাসপাতাল থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী। তিনি দাবি করেন, দেশনেত্রীর চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএসএমএমইউতে ভর্তি রাখতে হবে, অন্যথায় জনগণ আর বসে থাকবে না, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিপর্যস্ত করার যেকোন ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে এবারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হলেও প্রতিরোধ করবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন- নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেফতার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ^াসের কোনো বিশ^াস মেলেনি। গত বুধবার সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমিও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের চিরুনী অভিযান চালিয়ে ছেঁকে ধরা হয়েছে, তার জন্য।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, জেলা-মহানগরের সভাপতি থেকে শুরু করে সাবেক এমপি কেউই সরকারের গ্রেফতার অভিযান থেকে রেহাই পাননি। এমনকি সমাবেশে আসা ও যাওয়ার পথে হাজারের অধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করার পর প্রথমে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে এই কথা বলে দর কষাকষি করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীর কাছ থেকে টাকা নিয়েও ছাড়া হয়নি। এমনকি ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের বড় বড় গ্রুপ করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তল্লাশি ও পুলিশী হানাতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘরবাড়ি ও এলাকা ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এইজন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য!

রিজভী বলেন, সংলাপ কি তাহলে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে কিছুটা সময়ক্ষেপণ? তা না হলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার অঙ্গীকার করার পরও এতো তা-ব, এতো পাইকারী গ্রেফতার! সরকার কি তাহলে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করেছে? প্রধানমন্ত্রী অতীতের মতো বলেন একটা, কিন্তু কাজ করেন অন্যটা।

তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁয় পুলিশের পক্ষ থেকে বাস মালিক সমিতিকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে-কেউ যেন রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের গাড়িভাড়া না দেয়। ইতোমধ্যে বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে আজ শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

রিজভী বলেন, গত মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে জনসভাকে কেন্দ্র করে জনসভার আগের দিন ও জনসভার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী দলীয় আট শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার) দেশব্যাপী ২২০০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। 

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনীর হোসেন, নির্বাহী সদস্য শাহ মো. আবু জাফর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ