শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মুক্তি যোদ্ধা একাব্বর আলী’র ৭০ বছর বয়সে মিলেনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের সেনপাড়া গ্রামের বীর মুক্তি যোদ্ধা একাব্বর আলী ৭০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার কোন ভাতার সুযোগ মিলেনি। একাব্বর আলী মুক্তিযুদ্ধ করেও তার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় অন্তভূক্তির স্থান হয়নি। শেষ বয়সে পরিশ্রম করতে না পেরে অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটছে তার। গতকাল বৃহস্পতিবার বাগমারা প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জীবন বাজি রেখে দীর্ঘ ৯মাস পাকহানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু আমাকে মুক্তি যোদ্ধা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি আরও জানান, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে মুক্তি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। সে সময়ে তিনি আলী খাজা সংগে তিনি একাত্রে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য প্রথমে নাটোর ফুলবাড়িতে বাগমারার সাবেক মন্ত্রি সরদার আমজাদ হোসেনের সাথে মুক্তি যোদ্ধা প্রশিক্ষণ নেন। এর পর দীর্ঘ ৯মাস নাটোর, আত্রাই, বাগমারার বিভিন্ন স্থানে অপারেশন চালিয়েছেন। যুদ্ধের পর পুনরায় নিজ গ্রামে ফিরেন। এক সময় দেহে শক্তি ছিল কাজ করে সংসার চালিয়েছি। বয়সের ভারে শক্তিহীন হবার কারণে সংসারে খাটতে না পেরে অর্ধহারে - অনাহারে দিন কাটছে বলে জানান তিনি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাব্বর আলীর স্ত্রীসহ ৩ ছেলে। তাদের জমাজমি নেই বড় ছেলে বিয়ে করে পৃথক। তাদের নিজেদের নুন আনতে পানতা ফুরায় পিতাকে তেমন সাহায্য সহানুভূতি সুযোগ নেই। ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে একাব্বর আলী সংসার অভাব অনাটনে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। ৭০ বছর বয়সী বীর মুক্তি যোদ্ধা একাব্বর আলী কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, স্বাধীনতার পর একটি মুক্তি যোদ্ধা সনদ ছাড়া তার ভাগ্যে আর কিছু জুটেনি। 

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার বিষয় নিয়ে একাধিক জায়গায় গিয়ে তিনি ভাতার ব্যবস্থা করতে পারেননি বলে দাবি করেন। তার একান্ত সহকর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী খাজা জানান, একাব্বর আমার সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। তিনি একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার তালিকায় নাম না থাকার বিষয় নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যখন মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকা করা হয় তখন ডাক নামই আমি প্রকৃত নাম বলে জানতাম। তার নেক নাম লেখন ছিল।

 পরে ওই আসল নাম একাব্বর আলী আর আমি সংযুক্ত করতে পারিনি। তবে আগামীতে তার নাম তালিকাকরণে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণে তদবীর করবেন বলে জানান। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে অনেক সুপারিশসহ একটি আবেদন তিনি দিয়েছেন। এই বিষয়ে আগামীতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকায় অন্তভূক্তির জন্য  ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ