শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

২৭ বছর ধরে বৈষম্যের শিকার দেশের তিন সহ¯্রাধিক অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক

 

খুলনা অফিস : বিগত ২৭ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী বেতন বঞ্চিত হচ্ছেন খুলনার প্রায় ৫শ’সহ দেশের বেসরকারি কলেজগুলোর তিন সহ¯্রাধিক অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক। বৈষম্যের বিরুদ্ধে কোন কোন শিক্ষক উচ্চ আদালত পর্যন্তও গেছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আপীল করায় এ সংক্রান্ত দু’টি মামলা এখন সুপ্রীম কোর্টে চলমান। অপর একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়ার নির্দেশ দেয়ার পর মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে এ বিষয়টি মিটিয়ে নেয়ার জন্য পত্র দিলেও মাউসি থেকে বলা হচ্ছে সরকারি কোন নীতিমালা না থাকায় কিছুই করার নেই। আবার অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রীর সাথে একাধিকবার দেখা করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানানো হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ না দেয়ার কারণেই এটি ঝুলন্ত থাকছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বেসরকারি কলেজগুলোর অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকরা এম.পি.ও বঞ্চিত থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ। এ পরিষদের খুলনা জেলা সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মোড়ল বলেন, বেসরকারি কলেজগুলোতে অনার্স কোর্স চালুর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া শর্ত পূরণ করেই কলেজগুলো অনার্স কোর্স চালুর অনুমোদন পায়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, যতদিন সরকার থেকে বেতন-ভাতাদি দেয়া না যাবে ততোদিন পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ফান্ড থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে।

 কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে এসব শিক্ষকদের বেতন বঞ্চিত করে রেখেছে। যেটি চরম অনিয়ম ও অন্যায়। পক্ষান্তরে বেসরকারি কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত বেতন গ্রহণ করছে। অথচ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের দেয়া হচ্ছে না। এসব অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল সেদিকে নজর দিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। যেটি শিক্ষা ক্ষেত্রের আর একটি বাণিজ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া সম্প্রতি পৃথক ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেছে বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ। এ পরিষদের খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ধীমান ঢালী বলেন, ১৯৯২ সালের সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক নিয়োগ করা হলেও জনবল কাঠামো প্রণয়ন করা না হওয়ায় ১৯৯৩ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়নি। অথচ একই প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ও ডিগ্রি’র শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হয়। এটি অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের প্রতি চরম বৈষম্য বলে তিনি দাবি করেন। যেটি উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান অন্তরায় বলেও তিনি মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে জাতীয় সংসদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৩তম সভায়ও অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুপারিশ করা হয়। আবার উচ্চ আদালতের রায়েও জনবল কাঠামো প্রণয়ন করে এমপিওভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে দু’টি মামলায় সুপ্রীম কোর্টে আপীল করা হয়। যেটি এখন সেখানেই চলমান রয়েছে।

এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেন স্বাক্ষরিত ২০১৬ সালের পয়লা জুন দেশের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর দেয়া পত্রেও অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী সকল নিয়মিত শিক্ষককে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শতভাগ বেতন-ভাতাদি কলেজ তহবিল হতে পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। সে নির্দেশও এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিধিতেও শতভাগ বেতন-ভাতা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কোন কলেজেই এ নিয়ম মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব নুসরাত জাবীন বানু স্বাক্ষরিত গত ২৪ জানুয়ারির এক পত্রেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজসমূহে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে এম.পি.ও ভুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়। সেটিও এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ