শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া আদালত অবমাননা হয়েছে - সুপ্রীম কোর্ট বার

 

স্টাফ রিপোর্টার: হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর আদালতকে অবহিত না করেই তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

গতকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে পুরাতন কারাগারে স্থানান্তরের পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সংবাদিক সম্মেলনে জয়নুল আবেদন এ দাবি তোলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘গত ৬ নবেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম, কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সে আবেদন তারা গ্রহণ করেনি। সকালে খবর পেলাম, মাত্র আধা ঘণ্টার নোটিশে তাকে ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজসহ আদালতকে কিছুই না জানিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা তার আইনজীবী। আমাদেরকে বিষয়টি জানানো উচিৎ ছিল। মূলত আদালতের নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আদালতকেও অবহিত করেনি। সেরকম কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। এটা দুঃখজনক। এতে বিচার বিভাগের আদেশ অবজ্ঞা করা হয়েছে। সরকার এ আদেশ অবজ্ঞা করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘বিনা চিকিৎসায় সরকার খালেদা জিয়াকে মেরে ফেলতে চাইছে। এতে আমাদের আইনজীবীদের এবং দেশের সাধারণ মানুষের মনে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা বা আদৌ নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। 

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপকালে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গত বুধবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংলাপ শেষে বলা হয়েছে, তফসিল হলেও আলোচনা চলবে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা না করিয়ে সরকার তাকে কারাগারে পাঠানোয় আর কী আলোচনা হবে?’

সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি, খালেদা জিয়াকে আবারও হাসপাতালে ফিরিয়ে নেওয়ার। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত বোর্ড না বলা পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রাখারও অনুরোধ করছি। আমরা এজন্যই একটি স্বাধীন ও ইউনাইটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার আবেদন জানিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, খালেদা জিয়ার পছন্দনীয় চিকিৎসকদের দিয়ে তার চিকিৎসা করানোর। আর যেহেতু রাজনৈতিক মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে, তাই খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইছি।

আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঞ্চলানায় সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সহসভাপতি এডভোকেট গোলাম মোস্তাফা, ট্রেজারার নাসরিন আখতার, সহসম্পাদক কাজী জয়নাল আবেদীন, এডভোকেট আহসান উল্লাহ, মাহফুজ বিন ইউসুফ, ব্যারিস্টার শফিউল মাহমুদ, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান, ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান, সালাউদ্দিন, মো. টিপু সুলতান, আনিসুর রহমান রায়হানসহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা।

 

জোর করে কারাগারে নেওয়া হয়েছে-- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, জোর করে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে জেল গেটে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পিজিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের অনুমতি ছাড়াই অন্য কাউকে দিয়ে একটি ছাড়পত্র লিখিয়ে জোর করে তাকে কারাগারে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে এটা করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা শেষ না করে কাউকে জোর করে কারাগারে আনা অমানবিক। আমরা এর নিন্দা জানাই। এ সময় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও জানান দলের মহাসচিব।  মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দেয়নি; বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরা ছাড়পত্র লিখে নিয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে আমরা দেখেছি। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ । তিনি হুইল  চেয়ারেও ঠিকমতো বসতে পারছেন না। তাকে হুইলচেয়ারে নিয়ে আসা হয়েছে। তার মধ্যেও তাকে জোর করে আদালতে বসিয়ে রেখে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। এটি খুবই অমানবিক। আমরা এটার নিন্দা করছি। এবং অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করছি। 

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, খালেদা জিয়ার যাঁরা চিকিৎসা করছেন, তারা বলবেন, তিনি সুস্থ কি সুস্থ না। তারা বলেছেন, তিনি এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, তাকে এখনই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া সঠিক নয়, যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

ফখরুল বলেন, আমরা কারা অভ্যন্তরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আদালত সময় দেননি। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদসহ বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ