শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হাসপাতাল থেকে কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়া 

স্টাফ রিপোর্টার : গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরিপূর্ণ চিকিৎসা না দিয়েই বিএনপি চেয়াারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হঠাৎ করেই বিএসএমএমইউ থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে খালেদাকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর  হুইল চেয়ারে করে নাইকো মামলার শুনানিতে আদালতের এজলাসে হাজির করা হয়। শুনানির প্রথম দিন এ মামলার অন্যতম আসামী মওদুদ আহমদ নিজেই তার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করেন। পরে আদালত ১৪ নবেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ রেখে শুনানি মুলতবি করেন। সেদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা।  

হঠাৎ হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়ার ব্যাপারে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে গিয়ে খালেদাকে দেখে এসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি এখনও দারুণ অসুস্থ। খালেদা জিয়াকে নিয়ে কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসক গতকাল সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তারা অভিযোগ করেন, পরিপূর্ণ চিকিৎসা না দিয়েই অমানবিক অবস্থায় সরকার বেগম জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  

প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারাদ- হলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত এই কারাগারেই রাখা হয়। চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৬ অক্টোবর তাকে কারাগার থেকে নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। তিনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ২৯ অক্টোবর কারাগারের ভেতরে বসানো জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস থেকেই জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার রায় আসে, সেখানে তাকে সাত বছরের কারাদ- দেয়া হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি মতো শেষ হয়। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন রেখেছেন।  

আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী তাঁর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে শুনানি পেছানোর আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করেননি বিচারক মাহমুদুল কবির। পরবর্তী সময়ে আজকে মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে শুনানি শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়। তখন তিনিও সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু এর বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এই পর্যায়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। পরে তিনি মুলতবি প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমার বয়স ৮১ বছর। আমি অসুস্থ। আমার যে জুনিয়র, তাঁর নানি মারা গেছেন। এই কারণে তিনি গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। মামলার সব কাগজপত্র তাঁর কাছেই রয়েছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ মামলা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে আমি আজকে মামলার মুলতবি চাচ্ছি।

পরে আদালত আগামী ১৪ নবেম্বর পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করেন। মামলার শুনানির সময় আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের মহাসচিব আদালতের ভেতর আধা ঘণ্টা মামলার বিষয়ে কথা বলতে চান উল্লেখ করে সময় প্রার্থনা করেন।

কিন্তু বিচারক এই আবেদন মঞ্জুর করেননি। তিনি বলেন, এই এখতিয়ার আমার নেই। আপনি প্রয়োজনে এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তিনি এ ব্যাপারে আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। এর পরই খালেদা জিয়াকে ভেতরে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাচত্বরে গাড়িবহর পৌঁছায় দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে। এরপর ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।  খালেদা জিয়া একটি অফ-হোয়াইট শাড়ি পরে হুইলচেয়ারে করে আদালত চত্বরে আসেন। তাঁকে এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সহায়তা করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমা ছিলেন। 

এদিকে, খালেদা জিয়াকে পুরোনো কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে পথে ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়। বিভিন্ন বহুতল ভবনের ছাদেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। নাজিমুদ্দিন রোডে বিশেষ নিরাপত্তাচৌকি দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের কারাগারের ফটকের বেশ আগেই আটকে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

শুনানি থেকে বেরিয়ে এসে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, আজ মওদুদ আহমদ ও খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হবে। কিন্তু তাঁর অসুস্থতার কথা বলে সময় প্রার্থনা করেছেন। মওদুদ সাহেব নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডে নানা সময় ওই মামলায় সময় নিয়েছেন। আদালত আগামী বুধবার তাঁদের বক্তব্য শুনবেন। সেদিন আদালত অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আমরা আশা করছি।

বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, মামলাটি আলিয়া মাদ্রাসায় বসত। গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটা আমার দরজায় লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর নিজের কিছু শুনানি করেছেন।

খালেদা জিয়া অসুস্থ উল্লেখ করে সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, গাড়ি থেকে নামাতে তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। উনাকে নামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে হিমশিম খেতে হয়েছে। কাশতে কাশতে তিনি আদালতে গিয়েছেন। সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি আদালতে ছিলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ- দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এর পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা করছিল।   

এর মধ্যেই গত ৩০ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর একদিন আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদ- দেন কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত। সেখান থেকেই গতকাল তাঁকে কারাগার চত্বরে স্থাপিত আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বিএসএমএমইউ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘ মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন ভালো।

নাইকো দুর্নীতি মামলা সম্পর্কে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন। পরে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলার অন্য আসামীরা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এজলাস স্থানান্তর : এতদিন বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে বসে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়াকে হাজির করতে না পারায় এবং অপর আসামী মওদুদ আহমদের বার বার সময়ের আবেদনে গত ডিসেম্বর থেকে এ মামলা অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যায়ে আটকে ছিল। এর মধ্যেই এ মামলার কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে বুধবার একটি আদেশ জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।

যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) বিকাশ কুমার সাহা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “নিরাপত্তাজনিত কারণে এ মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করিবার জন্য ঢাকা মহানগরের ১২৫ নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ০৭ কে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হল।

হাসপাতাল থেকে কারাগার : সরকার আদালতের এজলাস স্থানান্তরের আদেশ জারির পর নাইকো  মামলায় খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাহবাগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এবং নাজিমুদ্দিন রোডে কারাগার এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা।

 বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে পুলিশের একটি কালো এসইউভি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাকে নিয়ে পুরান ঢাকায় কারাগারের পথে রওনা হয়। ১৫ মিনিটের মাথায় গাড়িটি কারাভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।  আর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালেই একটি গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন  সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা শেষে উনি (খালেদা জিয়া) গতকাল বৃহস্পতিবার ১১টা ৩০ মিনিটে কারাগারে ফিরে গেছেন। উনার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল আছে এবং আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে চেষ্টা করেছি, উনাকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য। পরিচালক বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এবং সহায়তা চাইলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসক দল কারাগারে গিয়ে তাকে চিকিৎসা দিয়ে আসবে।

বিএসএমএমইউতে যেমন ছিলেন খালেদা জিয়া : বিএসএমএমইউ এর ৬১১ নম্বর কেবিনে গত এক মাস এক দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাশের ৬১২ নম্বর কক্ষটি মূলত তার মালপত্র রাখার কাজে ব্যবহৃত হত।  দুটি দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে অন্তরীণ এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বৃহস্পতিবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। 

চিকিৎসার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়্, রাখা হয় কেবিন ব্লকের ষষ্ঠ তলার ৬১১ নম্বর ভিআইপি কেবিনে। হাই কোর্টের নির্দেশে পুনর্গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কারা কর্তৃপক্ষ পাশের ৬১২ নম্বর কেবিনটিও খালেদা জিয়ার জন্য সংরক্ষণ করে। ৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের শারীরিক অবস্থা এখন ‘যথেষ্ট স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের একটি গাড়িতে করে খালেদাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর ছয় তলার ওই কেবিনটি দেখার সুযোগ হয় সংবাদ কর্মীদের। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুইজন পরিছন্নতাকর্মী কক্ষ দুটি পরিষ্কার করছেন।

খালেদা জিয়াকে যেখানে রাখা হয়েছিল, সেই ৬১১ নম্বর কেবিনের প্রবেশ মুখে ছোট দুটি সোফা ও সাইড টেবিল নিয়ে বসার জায়গা সাজানো ছিল। এরপর মূল কক্ষের একদিকে দেখা যায় কাঠের খাট। কক্ষের সঙ্গেই বাথরুম এবং আলাদা ড্রেসিং রুম।  ড্রেসিং রুম একটি টেবিল ও চেয়ারও দেখা যায়।

পরিছন্নতা কর্মী নাসিমা বলেন, প্রত্যেক দিন দুই বার এই রুমে ঝাড়ু দিতে আসতাম। খুব কড়াকড়ি থাকত। সকালে যখন আসতাম ম্যাডাম পত্রিকা পড়তেন। এক মনে থাকতেন, কোনো কথা বলতেন না। নাসিমা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়া যখন বেরিয়ে যান, তখন হাত নেড়ে তিনি ‘টা টা’ দিয়েছেন, তবে কথা বলেননি। পাশের ৬১২ নম্বর কক্ষে খালেদা জিয়ার মালামাল রাখার পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষের লোকজনও থাকতেন বলে জানান তিনি।

ষষ্ঠ তলার কেবিন ব্লকের প্রবেশ দ্বারেই একটি আর্চওয়ে বসানো দেখা যায়। ‘ভিআইপি’ বন্দী ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য সব সময় এখানে সাধারণ পোশাকে দায়িত্বে থাকতেন। এই ব্লকে ঢুকতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে আসতে হত।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়াকে গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে কারাগারে নেওয়ার পর সেখানে জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে হাজির করা হয়।

শুনানি শেষে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার হয় কারাগারের পুরনো ‘ ডে কেয়ার সেন্টার’ ভবনের দোতলায় তার জন্য নির্ধারিত কারাকক্ষে, যেখানে তিনি হাসপাতালে যাওয়ার আগেও ছিলেন। পরিত্যক্ত ওই কারাগারে খালেদা জিয়াই একমাত্র বন্দী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ