শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ছড়া

টোকাই

হোসেন মোতালেব

 

আমরা টোকাই বস্তা কাঁধে 

কাটে সারা বেলা 

সকাল হতে রাত অবধি

চলে এমন খেলা ।

 

অন্য সকল শিশু-কিশোর

স্কুলে যায় রোজ 

হরেক রকম মজার খাবার

নিত্য করে ভোজ । 

 

লেখা পড়ার সাথেই তারা

করে কত খেলা

বাবার স্নেহ মায়ের আদর

তাদের তরেই মেলা ।

 

নতুন নতুন পোশাক দেখি

নিত্য তাদের গায়

খায় না তারা নিজের হাতে

মায়ের হাতে খায় । 

 

সুরমা কাজল আতর সুবাস

গায়ে ওরা মেখে

বাবার সাথে বেড়ায় ওরা 

পার্ক, উদ্যান লেকে ।

 

আমরা টোকাই থাকি ভুখাই

পাই না এ সব কিছু 

জঠর জ্বালার যন্ত্রণাটা 

ঘুরে পিছু পিছু ।  

 

 

অদম্য

তাজ ইসলাম

 

শীতকালে তুই সূর্য রে তোর

রোদ দিলে কই তাড়িয়ে? 

হাওয়ার সাথে দোস্তি করে

শীত দিলি খুব বাড়িয়ে।

 

সূর্যরে তুই রোদ না দিলেও

শীত কুয়াশা ভাঙবোই

বৈরী হাওয়ায় আমরা তখন

নতুন জীবন রাঙবোই।

 

সূর্যরে তুই আয় নেমে আয়

খেলার মাঠে সকালে

ঠকবি তুইও রোদ না দিয়ে

আমাদেরকে ঠকালে।

 

 

খেলার মাঠে নামবো ঠিকই

শীতকে ভীষণ হারিয়ে

আমরা হব অদম্য আজ

সকল বাধা ছাড়িয়ে।

 

সূর্যরে তোর পা মুছে আয়

কুয়াশারই পাপোশে

জগত আলোকিত করি

বলছি তোকে আপোষে।

 

 

নানা-নানি

সাবিত সারওয়ার

 

কোন দিঘি জলে ভরা কোন দিঘি পানি 

এই নিয়ে ঝগড়া নাতি-নানা-নানি।

রেগে মেগে ভাংচুর, হাঁড়িকুড়ি ছুড়ে 

কেয়ামত টেনে আনে সারাবাড়ি জুড়ে। 

 

নানা রাগে ফোঁসফাঁস- হাসে বসে নাতি

টেনশানে নানি- কী যে ঘটে রাতারাতি।

পড়শিরা চিৎকার চেঁচামেচি শুনে

কানপড়া দিলো আহা কাটা ঘাঁয়ে নুনে।

 

সন্ধ্যা পার হয়ে এসে গেলো রাত

যথারীতি ফিরে এলো রঙিন প্রভাত।

সূর্যের মতো হেসে পান-বাটা হাতে

নানা-নানি মিশে গেলো আম-দুধ-ভাতে।

 

বিস্ময়ে নাতি খুন- কিসে হলো মিল

বুঝে গেলো দু'জনের একটাই দিল।

 

 

মেঘের বেটি

জাহাঙ্গীর অরণ্য

 

মেঘের বেটি ঝাঁপ দিয়েছে

পায়ে দিয়ে মল

কচু পাতায় দোল দিয়ে কয়

কেমন আছিস বল?

 

বাপ নেমেছে লাঙ্গল নিয়ে

মা নিয়েছে কলস

ও অভাগী মেঘের বেটি

তুই তো বড়ো অলস!

 

ছমাস বাদে মেঘের বেটি

সাগর দিলি পাড়ি

আসিস না আর সামনে আমার

তোর সাথে আজ আড়ি!

 

কেমন করে ছলায় কলায়

বিদেশ থাকিস পড়ি

তোর বিহনে কেমন করে

দিনগুলো পার করি।

 

 

প্রভাত বেলা 

আসাদুজ্জামান আসাদ 

 

প্রভাত বেলা ডাকে পাখি, হাসে রবি আলো  

সেই আলোরই আলো নিয়ে থাকব সবাই ভালো  

আধার শেষে আসবে সুদিন জ¦লবে জ্ঞানের বাতি 

হিংসা বিভেদ ভুলে গিয়ে, সবাই খেলার সাথী। 

 

সবার আগে পড়া লেখা জ্ঞানের জীবন গড়ি 

বিজয় মাখা বিজয় নিয়ে ভাসাই জীবনতরী

ভাসিয়ে  দিব ব্যর্থ জীবন ভালোবাসার তরে 

মানুষ রুপে মানুষ হয়ে আসব ফিরে ঘরে। 

 

সাগর নদী পাড়ি দিয়ে ঘুরব সারা দেশে

সফলতার হাছানিতে ফিরে আসি শেষে 

শহর নগর পাড়ি দিয়ে যাই যে অচিনপুরে

সবুজ ভরা মাঠ পেড়িয়ে আসি পাহাড় ঘুরে।

 

 

হেমন্তর ছড়া

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

 

মিষ্টি শীতের নবান্নতে

হেমন্ত তাই এলো,

সবুজ মাঠে আনন্দতে

সুখটা ফিরে এলো।

 

তুলোর মতো সাদা সাদা

মেঘগুলো সব ভাসে,

গাছে গাছে পাগলা হাওয়ায়

শিউলি টগর হাসে।

 

ভোর বেলাতে ঘাসে ঘাসে

শিশির কণা ঝরে,

ধুম পড়ে যায় পিঠাপুলির

এই বাঙালির ঘরে।

 

খেজুর গাছে মাটির কলস

রস পড়ে টুপ টুপ,

 হেমন্তের এই শীত আমেজে

সবাই থাকে চুপ।

 

মাঠে মাঠে সোনালী ধান

চাষীর মুখে হাসি,

হেমন্তকাল আলোর ঝলক

মুক্ত তারার রাশি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ