শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

মানিকের কান্ড

আবুল খায়ের নাঈমুদ্দীন : গ্রামের এক দুরন্ত ছেলের নাম মানিক। বয়স কিশোরদের একটু বেশি হবে। দেখতেও বেশ সুন্দর নাদুস নুদুস চেহারা, লম্বাও পাঁচ ফিট পাঁচ হবে। সে গ্রামের এ পাড়া থেকে ও পাড়া সব মাতিয়ে তোলে। সবাই তাকে দেখলে খোঁচা দিয়ে কথা বলে। আর সেও সব সময় নিজেকে  বড় এবং জ্ঞানী ভাবতে থাকে। যেখানে কথার দরকার নেই সেখানেও কথা বলে। আর সবাইকে পাম দেয়ার ওস্তাদ। তার বিশেষ গুন হলো সে নতুন পোশাক বা কিছু পরলে সেটা  সবাইকে দেখানোর জন্য বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলে। একবার দেখা গেলো কথা বলার সময়  বড় ভাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো বাঁ হাতের ঢিলেঢালা ঘড়িটা নেড়ে নেড়ে কথা বলছে। আবার নতুন জামা দেখানোর জন্য জামার কলার নেড়ে নেড়ে বলছে। আরেকবার নতুন জুতা পরে দোকানে গিয়ে জুতা দেখানোর ছলে পা নাড়িয়ে নাড়িয়ে কথা বলছে। একবারতো চশমা পরে মুরুব্বীদের মতো চশমার উপর দিয়ে তাকানোর কারণে এক মুরুব্বীর হাতে চড় খেতে হলো। গ্রামে এই যা কান্ড সে নিত্যই করে। ছোট ছোট শিশুরা তাকে দেখলেই হাসে।

একদিন সে বাজারে গিয়ে দেখলো এক লোক মাছের দোকানদারের সাথে মাছের দাম কষাকষি করছে। এমন ভাবে কথা বলছে যেন সবাই বুঝতে বাকি রইলোনা- সে তার হাতের সোনার আঙটি আর হাতঘড়ি দেখানোর জন্যই এমন করছে। সে হাতঘড়ি নাড়াতে নাড়াতে মাছ দোকানিকে বলছে এই তোমার মাছ কতো? তা দেখে মাছ দোকানদার ভাবলো আমি তার থেকে কম কিসের? বেটাকে একটু শিক্ষা দেয়া উচিত। আমার আলাদা লাগানো সোনার দাঁতটা দেখিয়ে দেই। এই ভেবে সে লোকটার দিকে মুখ উঁচু করে  সামনের দাঁতগুলো বের করে সোনার দাঁতটা দেখিয়ে বললো, ষাঁট টাকা। তাতে মানিক বুঝে গেলো লোকটা অবশ্যই দাঁত দেখানোর  জন্য এভাবে বলেছে। সে লজ্জা পেয়ে গেল এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাজার থেকে বেরিয়ে গেল।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ