বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সংকটের সমাধান হয়নি ॥ আজ তফসিল ঘোষণা করছে ইসি

স্টাফ রিপোর্টার: সংলাপের মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হয়নি। সংকট সমাধানের আগে এ মুহূর্তে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আপত্তি জানালেও আজ বৃহস্পতিবার  তফসিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। এ দিকে নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান আরজুর স্বাক্ষর করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। গতকাল সকালে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও বলেন, বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে এ ভাষণ সম্প্রচার করবে। তার আগে সকালে ইসি সচিবালয়ে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হবে। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত ৪৫ দিন সময় দেয়া হবে প্রার্থীদের। সে হিসেবে আগামী ২০ থেকে ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোন দিন নির্বাচন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে গিয়ে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থান জানায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ১৬ সদস্যের এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম।
আওয়ামী লীগের আগে বিভিন্ন দল ইসিতে গিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে এসেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোট সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা না করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে তফসিল না পেছানোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রন্ট।
ইসিতে বৈঠকের পর এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, তফসিলের বিষয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত নেবে তার প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। নির্বাচন কবে হবে, তফসিল ঘোষণার সেই এখতিয়ার কেবল নির্বাচন কমিশনের। আমরা তাদের বলেছি, এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সমর্থন রয়েছে।
ইসির সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কয়েক নেতার আচরণের নিন্দাও জানান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম।
ইসির সঙ্গে বিভিন্ন দলের বৈঠক তুলে ধরে তিনি বলেন, একমাত্র ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, যাদের মধ্য অনিবন্ধিত দলও ছিল। তাদের কেউ কেউ ইসির সঙ্গে অমার্জিত আচরণ করেছেন, আঙুল তুলে হুমকি দিয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন কমিশনের প্রতি এই ধরনের আচরণ গ্রহণ করবে না, এর জবাব ভোটের মাধ্যমে দেবে।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল নারী ভোটারদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ রাখার সুপারিশ করেছে। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা যাতে সুবিথামতো ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানান তারা।
বিকালে নির্বাচন ভবনে ইসির সম্মেলন কক্ষে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, আমাদের নির্বাচন পরিচালনায় কোনো বিষয় যদি আপনাদের কাজে আসে, সে বুদ্ধি আপনারা দিতে পারেন। আমাদের কোনো কথাও যদি আপনাদের কাজে লাগে, সেটা আমরা বলব।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রাশিদুল আলম, সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, গোলাম রাব্বানী চিনু, মারুফা আক্তার পপি, কেন্দ্রীয় নেতা তানভীর ইমাম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, এনামুল হক চৌধুরী, সেলিম মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা।
এদিকে গতকাল বুধবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সম্মিলিত জাতীয় জোটের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা এবং অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্ধারিত তারিখে তফসিল ঘোষণা, ইভিএম ব্যবহার বন্ধ করাসহ আট দফা দাবি জানিয়ে এসেছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট।
বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তারা আমাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমরা ৮ দফা নিয়ে বক্তব্য রেখেছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ ৮ নবেম্বর করা হোক।
হাওলাদার বলেন, আমরা যতটুকু জানি তাতে আজকের পরে আর কোনো সংলাপ হবে না। সংলাপের অজুহাত দিয়ে তারিখ পেছানোর দাবির পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ