মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

গ্রেফতার ও ‘গায়েবি’ মামলা

বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার নামে সংলাপ চালানোর মধ্যেও চরম ফ্যাসিবাদী মনোভাবের ন্যক্কারজনক প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছে সরকার। পুরনো মামলার দোহাই দিয়ে শুধু নয়, সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা ও অভিযোগ ছাড়াও গত দু’-তিনদিনে পুলিশ বিশেষ করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের এই কার্যক্রমকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘গায়েবি’ মামলায় গ্রেফতার হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। গত ৬ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আগত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে গণহারে। আগেরদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাসাবাড়িতে তো বটেই, পুলিশ এমনকি অনেক আবাসিক হোটেলেও হানা দিয়েছে।
গ্রেফতার করার পাশাপাশি ‘গায়েবি’ মামলায় আসামী দেখিয়ে তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। অভিযোগ আমলে নিয়ে অনেকের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন বিচারকরা। এ প্রসঙ্গে প্রধান একটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর নাম। বলা হচ্ছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার কথা রয়েছে বলেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, পুলিশ এমনকি সমাবেশ চলাকালে সমাবেশের ভেতরে গিয়েও অনেককে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের এ ধরনের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা আলমগীরকে জড়িয়ে ধরে থেকেও রেহাই পাননি ওই ছাত্রদল নেতা। তাকে রীতিমতো টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে ডিবি ও পুলিশের লোকজন। আহত হয়েছেন মির্জা আলমগীরও।     
গ্রেফতারের নামে পুলিশের এই তৎপরতা চলছে গোটা দেশজুড়েই। বিরোধী দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এখন ধাওয়ার মুখে রয়েছেন। অনেককে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে, অনেকে আবার গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সব মিলিয়েই সরকার দেশে প্রচ- দমন-নির্যাতন চালাচ্ছে, দেশবাসীকে করে তুলেছে ভীত-সন্ত্রস্ত।
সরকারের এই ফ্যাসিবাদী কর্মকা- আসলে অনেক আগে থেকেই চলছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেয়া সংলাপের আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর থেকেই সারাদেশে নতুন করে গণগ্রেফতারের অভিযান শুরু হয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইমলামীসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়ার মুখে রেখেছে পুলিশ। সঙ্গে থাকছে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুন্ডা-সন্ত্রাসীরা। এর প্রতিবাদে শুধু নয়, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ার কারণেও সংলাপের বিকল্প হিসেবে বিরোধী দলকে আন্দোলনের কর্মসূচির কথা জানিয়ে রাখতে হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার শুরু করেছে সরকার। এত গ্রেফতারের মধ্যেও গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দফা সংলাপে গেছেন বিএনপির নেতারা। তারা সেই সাথে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। দাবি মানতে বাধ্য করা হবে সরকারকে। 
বলার অপেক্ষা রাখে না, সংলাপ চলাকালেও যেভাবে ধর-পাকড় ও গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে তা সরকারের প্রতিশ্রুতির সাথে মিলে না। অথচ মানুষের চাওয়া হলো বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের অবসান হোক। তাই তারা চায় সংলাপ সফল হোক। তা সত্ত্বেও দলগুলো যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়ে চলেছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কোনো ইঙ্গিত পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
আমরা মনে করি, এভাবে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা এবং সব দলকে নির্বাচনে আনা সম্ভব নয়। ক্ষমতাসীনরা সত্যিই যদি সমঝোতা ও সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন করতে চান তাহলে অবিলম্বে গণগ্রেফতারের অভিযান বন্ধ করার পাশাপাশি সব নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিতে এবং ‘গায়েবি’ মামলা প্রত্যাহার করাসহ ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেয়া উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ